প্রতিটি সমস্যার দুটি দিক থাকে—
১) ঘটনা,
২) সেই ঘটনার প্রতি আমাদের মানসিক প্রতিক্রিয়া।

ঘটনা অনেক সময় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। জীবন তার মতো চলবে; পরিবর্তন আসবে; মানুষ বদলাবে; সুযোগ আসবে-যাবে; কখনও হেরে যাব, কখনও জিতব। কিন্তু প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ আমাদের হাতে।

একই পরিস্থিতিতে দুই ব্যক্তি দুই রকম প্রতিক্রিয়া দেয়—একজন শান্ত থাকে, অন্যজন ভেঙে পড়ে। কারণ? পরিস্থিতি নয়, মনের শক্তি।

যে নিজের মনকে বোঝে, সে জানে কোন পরিস্থিতিতে তার মন কীভাবে প্রতিক্রিয়া করে এবং কীভাবে সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। ফলে ছোট সমস্যাগুলো পাহাড় হয়ে ওঠে না। বরং পাহাড়ও তার কাছে ধীরে ধীরে পথ হয়ে যায়।

মনকে বুঝতে শেখার প্রথম ধাপ—নিজেকে প্রশ্ন করা

নিজের মনকে বুঝতে হলে প্রথমেই নিজেকে প্রশ্ন করতে হয়—

  • আমি কেন এভাবে ভাবলাম?
  • এই রাগের আসল কারণ কী?
  • যে ভয় আমাকে তাড়াচ্ছে, সেটার সত্যি কোনো ভিত্তি আছে কি?
  • আমার দুঃখ বাইরের কারণে, নাকি ভেতরের ভাবনায়?

এ ধরনের অন্তর্মুখী প্রশ্ন অনেক সময় মানুষের ভিতরে জমে থাকা অজস্র অচেতন অনুভূতি প্রকাশ্যে এনে পরিষ্কার করে। যে মন নিজেকে প্রশ্ন করতে শেখে, সে মন কখনও অচেতন হয়ে নিজের শত্রু হয় না। সে মন নিজের বন্ধু হয়ে ওঠে।

বহির্বিশ্ব নয়, আসল লড়াইটা অন্তরে

মানুষের সবচেয়ে বড় জয় বাইরের নয়—নিজের ভিতরের জড়তা, ভয়, অভিমান, অস্থিরতা, হীনম্মন্যতা, অহং ও ভুল ধারণাকে জয় করা।
যে মানুষ নিজের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সিদ্ধান্ত নিতে সাহসী ও পরিষ্কার হতে পারে, প্রয়োজন হলে নিজের ভুল স্বীকার করতে পারে—সে মানুষ পৃথিবীর অর্ধেক সমস্যার সমাধান করে ফেলে।

বাইরের সংঘাতের ৮০ শতাংশই ঘটে ভুল বোঝাবুঝি, অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া, অযথা ভয় বা ভেতরের রাগের কারণে। মনকে না-জানার ফলেই আমরা অনেক সময় পরিস্থিতিকে প্রমাণের চেয়ে ভয়ঙ্কর মনে করি, আবার মানুষকে তাদের উদ্দেশ্যের চেয়ে বেশি ভুল বুঝে নিই। ফলে সমস্যা জন্মায়।

Comment