Muhammad Ashraful Alam Sohel

নক্ষত্র
মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল
[মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, বাংলাদেশ]

আমি এক নক্ষত্র ।
হিমায়িত নীহারিকা থেকে জন্মগ্রহণ করেছি ।
উত্তপ্ত গ্যাসে পরিপূর্ণ ।
প্রচণ্ড উষ্ণতাই আমার অস্তিত্ব ।
অন্ধকার মহাকাশের শূন্যতায় বিরামহীন জ্বলতে থাকি ।
অসীম আলোর উৎস ।
আমার ধূলিকণা থেকে প্রাণের উৎপত্তি এবং সবকিছুই ।
নিজ জীবনচক্র হতে পারে কয়েক শত মিলিয়ন বছর ।
নয়তো, বিলিয়ন থেকে ট্রিলিয়ন বছর সময়কাল ।
জন্ম, বার্ধক্য ও মৃত্যুর মধ্য দিয়েই বিবর্তিত হই ।
এই অপার বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে প্রতিনিয়ত চলছে—
আমার জন্ম এবং মৃত্যুর খেলা ।
আদিকাল থেকেই ।
গঠন, তাপমাত্রা, উজ্জ্বলতা‌, বিবর্তন, জীবনচক্র এবং ধ্বংস ইত্যাদি নিজস্ব ভরের উপর নির্ভর করে ।
কোনো এক সময় জ্বালানি ফুরিয়ে প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে ভয়ঙ্কর শক্তিশালী বিস্ফোরণের সৃষ্টি করি ।
ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে মহাপ্লাবনের মত প্রবলবেগে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ি ।
স্ব বিনাশের মাত্রা বা মুহূর্তটি এতই তীব্র যে সমগ্র ছায়াপথের চেয়েও বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে ।
যদিও আলোকচ্ছটার ঔজ্জ্বল্য দীর্ঘস্থায়ী হয় না ।
ধীরলয়ে নিষ্প্রভ হয়ে যায় ।
কখনো এই বিশাল মহাজাগতিক অতিনব বিস্ফোরণের ফলে পুরো সৌরজগতকেও নিমিষেই ধ্বংস করতে পারি ।
সুতরাং, নারকীয় বিস্ফোরণেই আমার অগ্নিময় মৃত্যু হয় (Fiery death) ।
সেখানে পুনর্জন্ম লাভ করে পরবর্তী প্রজন্মের এক অতি উজ্জ্বল নিউট্রন নক্ষত্র ।
যার তাপমাত্রা থাকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড ।
কিংবা পালসার নক্ষত্র, গ্রহ এবং শীতল নীহারিকা ।
অবশেষে প্রলয়ঙ্করী মহাকর্ষীয় পতন ঘটে কৃষ্ণগহ্বর সৃষ্টি হয় ।
সেই দানব কৃষ্ণগহ্বরের অত্যধিক ঘনত্ব এবং প্রবল মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আশেপাশের সবকিছুকেই টেনে নেয় ।
এমনকি আলোকরশ্মিও এখান থেকে বের হতে পারে না ।
এটি কেবল একটি অদৃশ্য শক্তি ।
আর এই স্থানে সমস্ত বস্তু এক জায়গায় একত্রে ঘনীভূত হয়ে থাকে বিধায় তার এককতা বা অসাধারণত্ব (Singularity) ।
তাই, আমি শুধু স্বর্গীয় নই—
সৌভাগ্য, আশা, আকাঙ্ক্ষা, নির্দেশনা এবং অনন্তকালেরও প্রতীক ।
পৃথিবীর মানুষের কাছে সর্বদাই এক বিস্ময়!

[তথ্যসূূত্র: উইকিপিডিয়া, আন্তর্জাল]

Comment