#অপ্রত্যাশিত কথা
পর্ব -১
# নাদিয়া রিপাত রিতু
টেস্ট পরীক্ষা শুরু আজ থেকে অনেক মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেছে লামিয়া।
পরীক্ষা ১ম দিন বসলো সে ১ম বেঞ্চে বসলো।কোনো রকম ঝামেলা ছাড়া পরীক্ষা দিলো।সব প্রশ্ন কমন পরেছে সেই মহা খুশি,,,,
ঝামেলা হলো অন্য জায়গায়,,,ওর বান্ধবী লামহার পাশে বসেনি বলে ভীষণ রাগ করলো।
কলেজে পরীক্ষা গুলোতে নির্দিষ্ট কোনো সিট থাকেনা যার যেখানে ইচ্ছে বসতে পারে।
লামহার সামনের সিটে জায়গা ছিলো লামিয়া ইচ্ছে করে বসেনি।
পরের দিন ,,,,,,
আজ ওদের কঠিন সাবজেক্টের পরীক্ষা। লামিয়া এই সাবজেক্টে ভীষণ ভালো।তাই এক প্রকার জোর করে লামহার সামনের সিটে লামিয়াকে বসালো। লামিয়া একা একা নিরিবিলিতে পরীক্ষা দিতে লাগলো। লামিয়ার পাশে প্রান্ত নামে একজন বসলো ।এতে লামিয়ার কোনো অসুবিধা হলো না।লামহা একটু অসুস্থ ছিলো তাই বেশিক্ষণ লিখতে পারলো না। খাতা জমা দিয়ে চলে গেলো।
লামিয়া সব অংক কমন তাই সে লিখতে লাগলো।সবার শেষে সে খাতা জমা দিলো।
ওর অন্য বান্ধবীরা বললো তুই এতক্ষণ ধরে কি লিখেছিস।
লামিয়া জবাব দিলো,যা মনে হয়েছে লিখেছি কত পাবো জানিনা। দুইটা পরীক্ষা শেষ লামিয়ার।
কাল তেমন কঠিন সাবজেক্ট না তাই চিন্তা কম ।এই বিষয়ে ভাবতে ভাবতে ফেসবুকিং করতে লাগলো।
এর পরের দিন পরীক্ষা দিতে গেলো ।
পরীক্ষা খাতা দিলো তার পাশের সিট এখনো খালি। লামিয়া প্রশ্ন পত্রের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। হঠাৎ প্রান্ত নয় ওর মত দেখতে অন্য কেউ বসলো লামিয়ার পাশে। লামিয়া একটু আন ইজি ফিল করলো।লামিয়া বোরকা পরে গিয়েছিল। প্রশ্ন পত্র দিয়ে দিলো এদিক ওদিক না তাকিয়ে সে লিখতে আরম্ভ করলো।
লামহা ডাক,এই লামু আমাকে না দেখালে তোর খবর আছে।
লামিয়া বললো আমি কিছু পারবো না তুই পারলে আমাকে দেখা।
ওরা দুজনে লিখতে লাগলো আর হাসাহাসি করতে লাগলো।
স্যার দুজনকে বকা দিলো। হঠাৎ লামহার প্রবেশ পত্রটা উড়ে লামিয়া পাশে বসা ছেলেটার কাছে গেলো।
লামহা বললো ,ভাইয়া আমার প্রবেশ পত্রটা দিন তো
ছেলেটা হেসে বললো ,দিবো একটা শর্তে কয় টাকা দিবেন।তারপর ছেলেটা লামহাকে প্রবেশ পত্রটা দিয়ে দিলো হেসে বললো মজা করছিলাম।
লামিয়ার খাতার দিকে ছেলেটি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। লামিয়াকে বললো আপনার নামের শেষে রহমান লেখা আমার নাম ও আপনার নামের সাথে মিল। লামিয়ার পুরো নাম লামিয়া রহমান
আবার বললো আপনার হাতের লেখা গুলো অনেক সুন্দর।
লামিয়া কিছু বললো না চুপচাপ লিখতে লাগলো।
লামিয়া ভীষণ রাগ হতে লাগলো ছেলেটি এত কথা কিভাবে বলতে পারে পরীক্ষাতে না লিখে।
লামহা প্রতিদিনের মতো আজকেও খাতা জমা দিয়ে চলে গেল।আর লামিয়া লিখতে লাগলো,পাশে বসা ছেলেটি শুধু কথা বলার চেষ্টা করতে লাগলো।
লামিয়ার বাকি বান্ধবীরা ওকে ডাকতে শুরু করলো। অবশেষে পরীক্ষার সব লেখা শেষ করে লামিয়া বাইরে বান্ধবীদের কাছে গেল।
বান্ধবীরা বললো এত কি লিখিস তুই মনে হয় পরীক্ষার সবার থেকে বেশি পাবি জয়ী আর আরু দুজনে বললো।
আরু বললো, তোর পাশে ছেলেটার নাম কী রে?
লামিয়া বললো, রহমান মনে হয় আমি পুরোটা জানিনা,
ছেলেটা যে বকবক করে আমার ভালো লাগে না।
আরু বললো,তোর এত কিছু জানতে হবে না তুই ও ছেলেটার সাথে কথা বলবি না ও আমার ক্রাশ। আমার সাথে ওর কালকে ঝগড়া হয়েছে যদিও নাম জানিনা। প্রথম দেখায় লাভ অ্যান্ড ফার্স্ট সাইট হয়ে গেছে।
তোকে ওর সাথে বসতে দেখে আমার কিভাবে জ্বলছে জানিস।
লামিয়া, জয়ী বললো: কিরে কখন হলো এসব আমাদের তো একবার বললি না।
আরু বললো, বলার সুযোগ পেলাম কই পরীক্ষা নিয়ে এত বিজি,
আচ্ছা তাহলে এখন শোন
কাল বারান্দায় এই ছেলেটা অন্য ছেলেদের বলছিলো আমাদের সাবজেক্ট নাকি সহজ
ওদের সাবজেক্ট নাকি কঠিন। তো আমি বললাম কোনো কিছু সহজ না আপনি বললে হলো।এক পর্যায়ে আমাদের দুজনের মাঝে ঝগড়া লেগে যায়।
লামিয়া বললো, ওরা ছেলেদের মধ্যে কথা হচ্ছে সেখানে তুই কেন কথা বলতে গেলি পাগল নাকি তুই।
আরু বললো, আমাদের সাবজেক্টকে অপমান করে কথা বলবে আর চুপচাপ দাঁড়িয়ে শুনবো।
পরক্ষনেই হেসে বললো ছেলেটা দেখতে কোনো নায়কের চেয়ে কম না। লম্বা ফর্সা হাসিটা কত কিউট।
লামিয়া অবাক হয়ে বললো, তুই মেয়ে হয়ে একটা ছেলের জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছিস। তোর থেকে এটা আশা করিনি বান্ধবী।


