অনুগল্প
ভালোবাসা , ০৩/০৭/২০২৫
প্রবীর কুমার চৌধুরী
এ যেন রাজযোটক। মেড ফর ইচ আদার। তাঁদের বিবাহিত জীবন সবার ঈর্ষার কারণ। নিন্দুকেরা বলে হবে নাই বা কেন পণ তো মন্দ নেয়নি। মেয়েটিকে দেখতেও সুন্দরী । শুধু ডান পাটা একটু খাটো। হাঁটার সময়ে একটু ল্যাংচায়। তবে হ্যা দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসে যেন চোখে হারায়। রোজ সন্ধ্যায় ছাদে উঠে চাঁদ দেখে। গান গায়।
হঠাৎ একদিন বৌটির শরীর খারাপ হল। প্রথমে গা করেনি । কিন্তু দিনকে দিন খারাপ হতে লাগল। পেটে অসহ্য যন্ত্রনা। পেট চেপে কাঁদতে বসে। শেষে তার স্বামীকে বলতে বাধ্য হল। স্বামী একদিন অফিস থেকে ফেরার পথে হোমিওপ্যাথি ওষুধ এনে দিল। কয়েকদিন খেল কোন কাজ দিল না। একদিন কবিরাজি অষুধ এনে দিল..।এদিকে বৌটির পেটে মারাত্মক যন্ত্রনা, চিৎকার করে। বরটা জড়িয়ে ধরে কাঁদে। একে, তাকে ফোন করে, মতামত চায়। এইভাবেই কেটে যায় বেশ কিছুদিন।
বৌটির ক্রমেই মারাত্মক অবস্থা। হাঁটার মত ক্ষমতা নেই। কষ্টে, কষ্টে রুগ্ন হয়ে গেছে। ঠিকমত খাওয়া দাওয়াও করতে পারেনা। স্বামী বেচারা বাড়ি ফিরে রোজ বৌকে বুকে নিয়ে কাঁদে। গায়ে, পিঠে হাত বোলায়।
একদিন সকালে অফিস যাওয়ার সময়ে ডাক্তার দেখানোর টাকা দিয়ে বৌ সোহাগী বরটা বার বার বলে গেল ডাক্তারের কাছে যাওয়ার জন্যে। বেলার দিকে পাশের বাড়ির লোকটাকে নিয়ে ডাক্তারখানার উদ্দেশ্যে রওনা দিল। হঠাৎ রাস্তার জার্কিঙে বৌটির ভয়ানক যন্ত্রনা শুরু হলো। যেন চোখ দুটো ঠিকরে পড়ছে। দম বন্ধ হওয়ার জোগাড়। বাঁচার আকুলতায় একসময়ে পাশে বসে থাকা লোকটিকে আঁকড়ে ধরলো। তারপরই নিস্তেজ হয়ে পড়ল রিক্সায়।
ডাক্তার খানায় পৌঁছে লোকটি কোন রকমে কম্পাউডারের সাহায্য বৌটিকে তুলে ডাক্তারের সামনে শুইয়ে দিল। ডাক্তারবাবু কিছুক্ষন চেক করে বললেন ” বৌটি মারা গেছেন। তবে সিমটম দেখে মনে হচ্ছে। এপেন্ডিস ছিল বাস্ট করেই মারা গেছেন। তারপর যা হয়। স্বামী এলো, বাপের বাড়ির লোকজন, মধ্যস্ততা, ডেথসার্টিফিকেট। চিতায় তুলে সব নিস্পত্তি।
তিনমাস বাদেই বরের বাড়িতে আবার আলোর রোশনাই। বাড়িটা আত্মীয় স্বজননে ভর্তি। সানাই বাজছে। দুঃখকথারা আকাশে মিলিয়ে গেছে।কন্যাযাত্রীদের হৈচৈ। সুখাদ্যের সুগন্ধে এলাকা ম ম করছে। সবাই একসময়ে একে একে চলেও গেল। বাড়িতে শুধু দোজবরে আর নববধূ। বাসরে মিলিত হওয়ার সময়ে দোজবরে বৌকে জড়িয়ে ধরে বলল ” তোমাকে কথা দিয়ে সেকথা রাখতে কম রিস্ক কিন্তু নিইনি বল “? নববধূ বলল ” কেমন বুদ্ধিটা দিয়েছিলাম তুমিই বল “?
সংরক্ষিত
গড়িয়া, কলকাতা।
৮৭৭৭৭৪১৩০১

