অনুগল্প
রেলগেট
শেখর দাস
ব্যাংক ম্যানেজার অঙ্কিত মিত্র ব্যাংক থেকে ফেরার পথে শেওড়াফুলি স্টেশন সংলগ্ন রেলগেটের কাছে দাঁড়িয়ে চা খেয়ে, কাটোয়া লোকাল ধরেন। মাস দুয়েক ধরে ঐ রেলগেটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক মহিলা দেহব্যবসায়ীকে দেখলেই অঙ্কিতের বুকের ভিতরটা মোচড় দিতে শুরু করে। অঙ্কিতের এই সমস্যা মাস দুই থেকে শুরু হয়েছে। দুইমাস আগে বাইক অ্যাকসিডেন্ট মৃত এক যুবকের হার্ট অঙ্কিতের বুকে বসানো হয়েছে। এখন প্রতিদিন অঙ্কিত রেলগেটের সামনে যায় চা খেতে নয়, ঐ মহিলাকে দেখতে। তাঁর মন চায় মহিলার সঙ্গে কথা বলতে, দুঃখ ভাগ করে নিতে কিন্তু সাহস সঞ্চয় করতে পারেন না।
একদিন লোকলজ্জা উপেক্ষা করে অঙ্কিত ঐ মহিলার সঙ্গে কথা বলেন, তার নাম জিজ্ঞাসা করেন। মহিলা বলেন যাবেন আমার সঙ্গে রুমে? অঙ্কিত কথাটি শুনেই নিজের কান হাত দিয়ে চেপে ধরেন। অঙ্কিত বলেন দিদি আমি আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাই। মহিলা দিদি ডাকটি শুনেই অঙ্কিতের মুখের দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলেন, বাবু বলুন কী বলবেন? অঙ্কিত মহিলাকে নিয়ে গিয়ে বসেন স্টেশনের এককোনে ফাঁকা বেঞ্চে, তারপর জিজ্ঞাসা করেন আপনি কী এই জীবন থেকে মুক্তি চান না? মহিলা হতভম্ব হয়ে অঙ্কিতের চোখের দিকে তাকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার মা মারা যাবার পর আমি আর আমার ভাই অজয় অনাথ হয়ে যাই, কেননা বাবা আগেই মাকে ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলো। ভাই কে মানুষ করার জন্য আমি এই পথে নামতে বাধ্য হই। ইচ্ছা ছিল ভাই বড়ো হয়ে কাজকর্ম করলে এই রাস্তা ছেড়ে দেবো। বছর এক আগে আমার ভাই একটা চাকরি পায় তখন আমি এই কাজ ছেড়ে দিয়েছিলাম কিন্তু দুইমাস আগে আমার ভাই বাইক অ্যাকসিডেন্ট মারা গেছে তাই নিজের পেট চালানোর জন্য বাধ্য হয়ে আবার নামতে হয়েছে এই পথে।।

