ছোট গল্প
“দুই হাজার চাঁদা”
লেখক শেখর দাস
চায়ের কাপ ছুঁড়ে ফেলে রিং বাজতে থাকা মোবাইলটি হাতে নিয়ে অভয় স্কীনে তাকিয়ে দেখে ফোন করছে তাঁর বাবা। এসময় বাবা ফোন করছে একটু আবাক হয়ে ফোন রিসিভ করতেই ফোনের ওপাশ থেকে অভয়ের বাবা আশীষ রাজবংশী বলেন, বাবু শ্যামল কাকা কথা বলবে তোর সাথে। অভয় কিছু জিজ্ঞাসা করার পূর্বেই, আশীষ বাবু ফোন ধরিয়ে দেন শ্যামল বাবুর হাতে। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে শ্যামল বাবু আদুরে গলায় বলেন, অভয় আমি তোর শ্যামল কাকা বলছি। অভয় বলুন বলার আগেই, শ্যামল বাবু বলেন, আমি, রমেন, দীপু, কার্তিক আর নির্মল এসেছি তোদের বাড়িতে। অভয় জিজ্ঞাসা করতে যাচ্ছিল কি জন্য? কিন্তু তার জিজ্ঞাসা করার আগেই শ্যামল বাবু বলেন, আমরা তোর বাবার কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছি। দাদা আমাদেরকে হাসি মুখে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আমরা জানতাম না যে পাড়ার বকাটে ছেলেগুলো তোর বাবাকে অপমান করেছে। ১৫ই আগষ্ট দুর্গা পূজার মিটিংয়ে জানতে পারলাম। অভয় বলতে যাচ্ছিলো ছয়বছর পর জানতে পারলেন? কিন্তু অভয়কে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই শ্যামল বাবু শান্ত স্বরে বলেন, অভয় খুবই অন্যায় হয়েছে তোদের সঙ্গে তাই তো পাড়ার সবাই এসেছি তোদের বাড়িতে শুধরে নিতে নিজেদের ভুলটা। বুকে জমে থাকা একরাশ রাগ অভয়ের মুখ ফুঁটে বেরিয়ে আসার আগেই শ্যামল বাবু বলেন, যা হবার তা হয়ে গেছে আমরা সেই সময় চাইলেও ফিরিয়ে দিতে পারবো না। অনেক রাগ, অভিমান হয়তো জমা হয়েছে তোদের মনে! সেগুলো দূরে সরিয়ে আমরা সবাই একসাথে মিলে দূর্গা মায়ের আরাধনা করবো। আজ থেকে তুই আমাদের মা দূর্গা পূজো কমিটির গুরুত্বপুর্ন সদস্য। অভয় বলার চেষ্টা করছিলো আমি আপনাদের পূজো কমিটির সদস্য হতে চাই না কিন্তু সেই কথা না শুনেই শ্যামল বাবু বলেন, দেখ তোর মা আমাদের সবার জন্যে চা করে এনেছেন। তুই আর মন খারাপ করে থাকিস না। অভয় বলতে যাচ্ছিল মন কেন খারাপ হবে? কিন্তু শ্যামল বাবু পুনরায় মুখের কথা ছিনিয়ে বলেন, তোর মায়ের দেওয়া চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। ঠিক আছে তোকে যেটা বলার জন্যে ফোনে কথা বললাম সেটা হলো এইবছর মায়ের প্রতিমা তুই দিবি। অভয় আবাক হয়ে প্রশ্ন করতে চাইলো কেন? আমি কেন দেব মা দূর্গার প্রতিমা? অভয়ের মুখের কথা আটকে শ্যামল বাবু হেসে হেসে বলেন, মায়ের আশীর্বাদে এতো বড়ো চাকরী পেয়েছিস আর মায়ের প্রতিমা দেবার সময় টাকার কথা ভাবলে তো হবে না। আমাদের পাড়ার এটা ক্যালচার যে যে ছেলে মেয়ে জীবনে সফল হয়েছে তাঁরা সবাই প্রথম বছরে মায়ের প্রতিমা দিয়েছে। তুই আমাদের পাড়ার গর্ব তাই তোর কাছে আমাদের এটা একটা ছোট্ট আবদার। অভয় দাঁত চেপে এটা ছোট্ট আবদার বলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়, শ্যামল বাবু আত্মনির্ভর কন্ঠে বলেন, পূজো কমিটির সভায় পাড়ার সবাই বললো অভয়ের কাছ থেকে মায়ের প্রতিমা নেওয়া না হলে অভয়কে উপযুক্ত মর্যাদা দেওয়া হবে না। অনেকের এটাও দৃঢ় বিশ্বাস তোর কাছ থেকে দূর্গা মায়ের প্রতিমা না নিলে পাড়ার অমঙ্গল হবে। মায়ের আশীর্বাদে কেউ আর এতো বড়ো চাকরী পাবে না। তুই আর কোনোও প্রশ্ন না করে রাজী হয়ে যা। অভয় কিছু বলার আগেই শ্যামল বাবু নিজে থেকেই বলেন, এই বছর মায়ের প্রতিমার বাজেট মাত্র একান্ন হাজার টাকা। অভয়ের মুখ থেকে বিরক্তিসুচক শব্দ বেরোনোর অপেক্ষা না করেই শ্যামল বাবু বলেন, চিন্তা নেই একবারে দিতে না পারলেও কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারবি। অভয় কি বলবে বুঝে ওঠার পূর্বেই শ্যামল বাবু বলেন, বৌদির করা গরম চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে আমি চা খাই। তুই বাড়ি ফিরে পূজো মণ্ডপে আসবি তখন কথা হবে বলেই ফোন কেটে দেন শ্যামল বাবু।
ফোন কেটে যেতেই একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে অভয় মোবাইল ফোনটি পকেটে ঢুকিয়ে বের করে সিগারেটের প্যাকেট আর সেখান থেকে একটা সিগারেট ঠোঁটের কোনে গুঁজে আগুন ধরাতে যাবে এমন সময় তাঁর কাছে বসে থাকা তাঁর গার্লফ্রেন্ড চামেলী একটু রেগেই জিজ্ঞাসা করে, কি হলো ব্যাপারটা? তোমার বাবা কাকে ফোন ধরিয়ে দিয়েছিলো? মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাঁর কথা শুধুই শুনে গেলে কিছুই বললে না? আমি বোকার মতো তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি সেটাও লক্ষ্য করছো না! কে ছিলো ফোনে? কি কথা বললো? তোমার বাবা কি তোমার বিয়ের জন্যে কোনো পাত্রী খুঁজছেন? অভয় ঠোঁটের কোনে রাখা সিগারেট ধরিয়ে মুচকি হেসে বলে, চায়ের দোকানের বিল মিটিয়ে দেও। গুটি গুটি পায়ে হাঁটতে শুরু করে অভয়। চামেলী চায়ের দোকানের বিল মিটিয়ে অভয়ের পিছু নেয়। কিছুটা হেঁটে তাঁরা গিয়ে বসে গঙ্গা নদীর তীরে। সিগারেট শেষ করে অভয় বলে, ফোনটা বাবা ধরিয়ে দিয়েছিলো আমাদের পাড়ার মাথা শ্যামল কাকার হাতে। চামালী জিজ্ঞাসা করে, কেন? আর কী বললো শ্যামল বাবু? যাতে তোমার মুখে একটা যুদ্ধ জয়ের হাসি ফুটে উঠেছে? অভয় বলে, বলছি গো বলছি, তুমি আমাকে চেনো কিন্তু আমার সবটা এখনোও তোমায় বলা হয়নি। তুমি জানো আমার বাবা চটকলে কাজ করতো কিন্তু এটা জানো না যে সে একমাসে স্যালারি পেতেন সম্ভবত ছয়-সাত হাজার টাকা। সেই টাকায় পাচজনের পরিবার খুবই কষ্ট করে চলতো। আজ থেকে প্রায় বছর সাত আগে যখন বাবা চাকরী থেকে অবসর নিলেন তখন আমি সবে লেখাপড়া শেষ করে একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে তিন হাজার টাকায় কাজে ঢুকেছি। অন্যদিকে সরকারি চাকরীর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। বাবা পেনশন পেতেন আঠারোশো টাকা। গ্রেজুয়িটি ও পিএফ থেকে পেয়েছিলেন লাখ তিনেক। সেই তিন লাখ টাকা একটি চিটফান্ড কোম্পানীতে রেখে মাসে পেতাম তিন হাজার টাকা। এই সব মিলিয়ে সাত-আট হাজার টাকায় আমাদের সংসার চলতো। চামেলী অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে, সাত-আট হাজার টাকায় একটা সংসার চলে? অভয় হেসে বলে, চলে আর না চললেও চালাতে হয়। রেশনের চাল আর গম খেয়ে পাঁচজন কোনোমতে বেঁচে ছিলাম আর সবাই দিন গুনছিলাম আমার চাকরির। চামেলী নরম স্বরে বলে, এত কষ্ট করেছ তুমি? মিষ্টি হেসে আবার অভয় বলে, আজ থেকে ছয় বছর আগে আমাদের পাড়ার দূর্গা পূজার পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হয়। সেই উপলক্ষে বিশাল প্যান্ডেল আর দামী দূর্গা প্রতিমা তৈরি হয়। পূজোর প্রতিটি দিন আয়োজিত হয় নানা ধরনের অনুষ্ঠান। প্রায় পঁচিশলক্ষ টাকা বাজেট ছিলো সেই বছরে পূজোর। পাড়ার মাথারা ঠিক করেছিলো পাড়ার প্রতিটি বাড়ি থেকে নূন্যতম দুই হাজার টাকা চাঁদা আদায় করবেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে পাড়ার ছেলেরা আমাদের বাড়িতে আসে পূজোর চাঁদা আদায় করতে। ঐ ছেলেদের মধ্যে অনেকেই আমার বন্ধু ছিলো। তারা আমার বাড়িতে এসে বাবাকে বলেছিল, কাকা এই বছর আমাদের পূজো পঞ্চাশ বছরের তাই চাঁদা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাবা মনে মনে ভাবেন আগে তিনশো টাকা চাঁদা দিতাম এই বছর হয়তো পাঁচশো টাকা নেবে তাই বাবা বলেন, ঠিক আছে দুদিন পর এসে পাঁচশো টাকা নিয়ে যাস। পাড়ার যুব নেতা বঙ্কিম বলেছিলো, কাকা এই বছর দুরাত ফ্যাংশন হবে। ভী বাংলা খ্যাত গায়ক ইকবাল আহসান আলী আর ভারতীয় আইডেল গায়িকা নীলিমা সেন আসবেন। কমল বলেছিলো, কাকা এছাড়া একরাত যাত্রা আছে “অভাগীর সংসার”। চাঁদা দুই হাজারের কম দিলে হবে না। দীপক বলেছিলো, গরীব মানুষকে কম্বল বিতরন করা হবে। এইবছর চাঁদা দুই হাজার টাকা দিতেই হবে। বাবা এই সব শুনে বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন, আমি বাপু পাঁচশোর বেশি দিতে পারবো না। আমি অবসর নিয়েছি, ছেলে চাকরী পায়নি আর মেয়েরা পড়ছে। খুবই কষ্ট করে বেঁচে আছি। এই বছর এর বেশি চাঁদা দিতে পারবো না। বঙ্কিম বলেছিলো, এই সব কথা বলে কোনোও লাভ নেই কাকা সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে দুই হাজার টাকা দিতেই হবে। দীপক বলে, পাড়ায় সুস্থ ভাবে থাকতে গেলে দুই হাজার টাকা দিতেই হবে। বাবা বলেছিলেন, অভয় চাকরি পেলে তোরা যা চাইবি তাই চাঁদা দেবো। কালু বলে, অভয় কবে চাকরি পাবে সেই আশায় কি পূজো বন্ধ করে বসে থাকবো? আর যদি অভয় চাকরি না পায় তবে কি পাড়ার পূজো বন্ধ করে দেবো? বাবা রেগে বলেছিলেন, তোদের পূজো তোরা যে ভাবে ইচ্ছা কর আমি দুই হাজার টাকা দিতে পারবো না। বঙ্কিম রাগত স্বরে বলেছিলো, ঠিক আপনার চাঁদা ছাড়াই পূজো হবে। আপনার বাড়ি থেকে আমরা একটাকাও চাঁদা নেবো না। কালু ব্যাঙ্গ করে বলেছিলো সময় হলে বুঝিয়ে দেবো মজা। বাবা অনুরোধ করে বলেছিলেন, তোর চাঁদা না নিলেও আমি পূজো মণ্ডপে গিয়ে পাঁচশো টাকা দিয়ে আসবো। দীপক তখনই কঠিন কন্ঠে বলেছিলো, আপনার টাকা ছাড়াই পূজো হবে আপনাদের পরিবারের কেউ যেন পূজো মণ্ডপে না যায়। আমার বাবা জিজ্ঞাসা করেছিলো, কেন যাবে না পূজো মণ্ডপে? কালু হেসে বলেছিলো, আপনাদের বাড়ির কাউকে মন্ডপে দেখলেই অপমান করবো। এই সব শোনার পর বাবা ছলছল চোখে চুপ করে দিয়েছিলেন আর আমাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে নিমাই বলেছিলো কালু দা ভিখারীর ওখানে আশীষ কাকার নাম লিখে নে, কম্বল বিতরণের দিন কম্বল পেয়ে যাবে। এতো কিছু বলে একটু থেমে অভয় আবার পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট থেকে সিগারেট বের করে একটা সিগারেট ধরিয়ে টানতে শুরু করে। গল্প শুনে চামেলী একটু বিস্মিত হয়ে চুপ করে বসে থাকে। সিগারেটে লম্বা কয়েটা টান দিয়ে অভয় আবার বলতে শুরু করে, সেইদিন বাড়ি ফেরার পর বাবা আমাকে চাঁদা নিয়ে ঘটা ঘটনাটি বলেন আমি শুনে রেগে উঠি আর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি পাড়ার ছেলেগুলোর সঙ্গে মারামারি করতে যাবো। বাবা তখন আমাকে শান্ত করে বলেছিলেন, হয় ঐ লোফার ছেলেদের কাছে হার মেনে দুই হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে আয় আর নয়তো সফল হয়ে এমন জায়গা তৈরি কর যাতে ওরা এসে তোর কাছে ক্ষমা চায়। আমি বাবার কথা শুনে নিজেকে সংযত করে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করি নিজেকে এতটা সফল বানাবো যাতে ওরা একদিন আমার বাবার কাছে এসে নিজেদের ভুল স্বীকার করে। সেই থেকে চাকরি পাবার জন্যে আরোও চেষ্টা করতে শুরু করি। সেই বছর থেকে পাড়ার কোন লোক আমাদের বাড়িতে দূর্গা পূজার চাঁদা নিতে আসেনি আর আমার পরিবারের কেউ আর কোনোও দিন আমাদের পাড়ার পূজো মন্ডপে যাইনি। ছয়বছর ধরে আমাদের বাড়ি থেকে দূর্গা মাকে অষ্টমীর পূজো পাঠানো হয়নি, আমাদের বাড়ির কেউ অষ্টমী পূজোর অঞ্জলী দিতে পারিনি। চামেলী বলে অন্য পাড়ায় গিয়ে অষ্টমী পূজো আর অঞ্জলী দিতে পারতে। অভয় ঠোঁটের কোনে হাসি চেপে বলে তবে অন্যপাড়ার লোকেরা জেনে যেত না আমাদেরকে চাঁদা না দেওয়ায় অপরাধে পাড়া থেকে একঘরে করে দেওয়া হয়েছে? চামেলী বলে সেটাও ঠিক। অভয় বলে এতোবছর পর পাড়ার বয়স্ক মানুষদের মনে হয়েছে যে আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে তাই সবাই মিলে আমার বাবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে এসেছিলো আর আমার কাছে এই বছরের দূর্গা মায়ের প্রতিমার দাম চেয়েছে। চামেলী বলে তুমি মুখের ওপর না করে দিতে পারতে। অভয় দুষ্টু হাসি দিয়ে বলে, সেটা ঠিক হবে না। মনে রাখবে পৃথিবীটা ঠিক ততটাই সুন্দর, যতটা সুন্দর আপনার দৃষ্টিভঙ্গি। আমি প্রতিমার দাম দিয়ে ঐ লুচ্ছাগুলোর মাথায় উঠে বসবো। চামেলী বলে যারা সামান্য টাকার জন্যে মানুষকে মনুষের মর্যাদা দিতে জানে না তাদের মাথায় বসে কি হবে। অভয় সিগারেটে শেষ টান দিয়ে বলে, আমি আমার প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করবো। আমার রাগ পাড়ার সেই বোকাদের সঙ্গে যারা ভাবে মা শুধুই তাঁদের যাঁরা মোটা অংকের অর্থ চাঁদা দেয়। ওরা জানে না মা সবার। মা জগৎজননী, তিনি সবার খবর রাখেন আর সবার ডাকে সাড়া দেন। অনেক বছর পর এই বছর আবার মায়ের পূজো দেবো আনন্দ করবো আর গাইবো…
ভুলিনী মা দূরে থেকে
তোমায় দেখেছি
বহুদিনের পরে তোমার
কাছে এসেছি
আজকে নেচে গেয়ে
মন ভোলাব যে তোমার।
ও ভুলিনী মা
কোথায় ছিলাম,কেমন ছিলাম
সবি জান তুমি
যখন যেথায় রেখেছ মা
আছি তেমনি আমি
হাসিমুখে মেনে নিয়েছি
তোমার বিচার।
ও ও ভুলিনী মা দূরে থেকে
তোমায় ডেকেছি
বহু দিনের পরে তোমার
কাছে এসেছি
আজকে নেচে গেয়ে
মন ভোলাব যে তোমার
ও ও ভুলিনী মা….
লেখক:- শেখর দাস

