প্রথম দিকে কী কী বিষয়গুলি লিখতে অনুপ্রাণিত করেছিল, এবং সেই অনুপ্রেরণা কীভাবে প্রভাবিত করে আজও ?
উঃ প্রথম দিকে আমার বাবার লেখনী আমাকে ভীষন ভাবে অনুপ্রানিত করেছিল। ছোট বেলা থেকে তাঁকে দেখেই ছোট ছোট কবিতা লিখতে শুরু করি। আমার লেখার প্রতি উৎসাহ দেখে তিনি আমাকে একখানা লাল ডাইরী দিয়ে লিখতে বলেন। সেই থেকেই শুরু হয় আমার লেখা। তবে, পড়াশোনার চাপে এবং বিয়ের পর অনেক দিন (প্রায় ২০ বছর) লেখালেখি থেকে দূরে ছিলাম। আমার কর্তা ও আমার বোন আমাকে আবার লেখার জন্য উৎসাহ দেয়। তাই আবার শুরু করেছি। আমি একজন গৃহবধু। এককালে প্রচুর টিউশনি এবং স্কুল কলেজে পার্ট টাইম চাকুরী করতাম। কিন্তু, শারিরীক অসুস্থতার জন্যই সব পেছনে ফেলে সংসারজালে আবদ্ধ হয়েছি।এখন সংসারের কাজ সামলে যতটা পারি এই তিনজনের অনুপ্রেরনায় আজও লিখে চলেছি।
হ্যাঁ, পরলোকগত বাবাকে মনে নিয়ে আর কর্তা আর বোনের অনুপ্রেরনা আমাকে প্রভাবিত করে।
প্রথম ধারণা থেকে চূড়ান্ত খসড়া পর্যন্ত আপনার সাধারণ লেখার প্রক্রিয়াটি কি রকম ?
শুরুতেই কি একটি পরিষ্কার রূপরেখা তৈরি করে লেখেন, লেখার সময়ই প্রতিটি ধাপ আবিষ্কার করতে পছন্দ করেন এবং কেন?
কীভাবে লেখার চরিত্রগুলোকে গড়ে তোলেন যাতে তারা সত্যিকারের এবং আবেগগতভাবে বাস্তব মনে হয়?
উঃ প্রথমেই একটা ধারনা মাথায় নিয়ে ধীরে ধীরে প্রতিটি ধাপ নিজের লেখনীর সহায়তায় ধাপে ধাপে গড়ে তুলি। প্রতিটি চরিত্র, ঘটনা বাস্তব বলে মনে হয়।
সৃজনশীল লেখায় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভূমিকা কতটা?
উঃ আমার লেখায় ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা অনেকটা থাকে, বাকিটা আমার মস্তিক প্রসৃত কল্পনা যা আমার লেখনী ফুটিয়ে তোলে।
লেখার অচলাবস্থা (Writer’s block) বা যখন সৃজনশীলতা আটকে যায়, তখন কীভাবে তা মোকাবিলা করেন?
উঃ তখন লেখনীকে সাময়িক ভাবে বিরতি দি। তারপর, কল্পনাকে মাথায় এনে আবার বসি লিখতে।
লেখার সময় কোন ধরনের পরিবেশ বা দৈনন্দিন অভ্যাস সবচেয়ে বেশি সৃজনশীল করে তোলে?
উঃ নির্জনতা, শান্ত পরিবেশ।
যখন লেখা সম্পাদনা বা সংশোধন করেন, তখন কোন বিষয়গুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন—ভাষা, গঠন, নাকি আবেগগত প্রভাব?
উঃ ভাষা, গঠন, আবেগ সবই। যাতে আমার লেখা পাঠকরা বুঝতে পারে। তাই, সবসময় সরল ভাষাকে আবেগের সাথে গঠন করি।
কোন লেখক বা বইগুলো লেখার শৈলীতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে?
উঃ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সমরেশ মজুমদার।
যেসব নতুন লেখক নিজেদের স্বতন্ত্র কণ্ঠ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য কী পরামর্শ দেবেন?
উঃ তাদের বলবো, নিজের কল্পনাকে সরল, স্বাভাবিক ভাষায় ফুটিয়ে তুলতে।
সর্বশেষ লেখার পেছনের ধারণাগুলি কীভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিল, এবং কখন আপনি বুঝতে পেরেছিলেন যে এটি এমন একটি বিষয় যা অবশ্যই লিখতে হবে?
উঃ যে ঘটনাগুলো মনে গেঁথে রয় সেগুলোই লিখে ফেলি।
লেখার ভিতরে কোন্ বিষয়বস্তু বা ধারণাগুলো অনুসন্ধান করতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ?
উঃ যে ঘটনাগুলো আমার সব পাঠক বুঝতে পারবে, তার জন্য তাদের কোন রকম অসুবিধে না হয়
।
কোনো চরিত্র বা কো্ন বিষয়টি লেখার সময় সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হয়?
উঃ কিছু ঝগরুটে চরিত্রকে রূপায়িত করতে।
লেখার সময় কি অচেনা, অমীমাংসিত মুহূর্ত দেখতে পান ?
উঃ অবশ্যই
কি এমন বিষয় আছে যা লেখার পর বার বার অবাক হয়ে হতে হয় ।
উঃ অনেক সময়
প্রতিটি নতুন লেখার কাজ আগের লেখাগুলোর থেকে কতটা আলাদা শব্দ চয়নে ?
উঃ সেটা নির্ভর করে গল্পের প্রয়োজনে।
বাস্তব জীবনের কি ধরণের অভিজ্ঞতা বার বার লেখার অংশকে প্রভাবিত করে ?
উঃ সেটা বেশীরভাগ সময় হয়।
যদি পাঠকেরা আপনার যে কোনো একটি লেখা থেকে শুধু একটি বিষয়ই মনে রাখে, তবে সেটি কী এবং কেন ?
উঃ আমার লেখনীর গঠনশৈলি।যা আমাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।
লেখা কি সত্যকে আবিষ্কার করার একটি উপায়, নাকি সত্যকে সৃষ্টি করার একটি উপায়?
উঃ দুটোই। লেখক কতটা বলিষ্ট ভাবে তার সৃষ্টিকে রচনা করতে পারবেন যতটা তার পাঠক বুঝে নিতে পারবে তার ওপর নির্ভর করে।
গল্প কি মানুষের পৃথিবীকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে, নাকি তা কেবল তাদের আগে থেকেই থাকা বিশ্বাসকেই প্রতিফলিত করে?
উঃ সেক্ষেত্রে অনেকটা। আজও তাই লেখকের লেখনীর এত দাম।
একটি ভালো লেখা অবশ্যই নিঃসঙ্গময় জীবন অতিবাহিত করতে সাহায্য করে।

