শিরোনাম ঃ সহোদরা
কলমে ঃ শাঁওলী সরকার
ছিলেম যখন ছোট, ছিল আমার সাজানো পুতুলের সংসার।
নানা ধরনের পুতুলে সাজিয়ে তুলতাম আমার খেলার ঘর।
খেলতে খেলতে মনে ভাবনা এল – থাকত যদি একটা জ্যান্ত খেলার পুতুল।
ভালোবেসে যে কইবে কথা আমার সনে আপন মনে।
ছুটে গিয়ে পাক ঘরে মাকে শুধালাম, এনে দাওগো মা, আমারে একটা জ্যান্ত খেলার পুতুল।
মা হেঁসে বললেন, ওরে আমার মিষ্টি পরী
একদিন ধরে আনবো তোর জন্য ছোট্ট একটা পরী।
মা আমার কথা রাখলেন, এনে দিলেন কথা কওয়া একটা পরী।
বাবা ডেকে বললেন, এইনে তোর জ্যান্ত পুতুল।।
সবাই বলল, তোর আদর ভালোবাসা ভাগ করে নিল এই পরী।’
আমি বললাম, হলে হবে, সেটাই ভাগ করে নেবো দুজনে।
সে তখন কাঁদে সুর করে, কখনও ঘুমায় অচেতন হয়ে।
ঘুম ভাঙ্গলে সে শুধু তাকিয়ে থাকে আমার দিকে।
আধো স্বরে ভাষাহীন বুলিতে কত কথা শোনায় আমাকে।
অবাক চোখে চেয়ে থাকি দুজন দুজনার দিকে।
ধীরে ধীরে বড়ো হয়ে উঠল আমার কথা বলা জ্যান্ত পুতুল।
দূরন্ত, ছটফটে, ভয়ডরহীন, মিশুকে দুষ্টুমিতে ভরা আমার সহোদরা।
গাছে, পাঁচিলে ওঠা নামা তার ছিল নিত্যকর্ম।
তবু, চোখ রাঙালে আমার কাছে গান শিখতে, পড়তে বসা আমার সহোদরা।
একটু ভয়, অনেকটা ভালোবাসা নিয়ে বড় হয়ে উঠল আমার সহোদরা।
সব অভিযোগ, আবদারের ভান্ডার জমা রেখেছে তার দিদির কাছে।
বলে,চাইলে সব পাওয়া যায় আমার দিদির কাছে।
আজ সে দিদির থেকে থাকে অনেক দূরে,
মনের সুখে সে ঘর সংসার করে।
জানে সে,দিদির মনের গোপনে আছে সে বড় আদরে।
আজও সে আমার জ্যান্ত কথা বলা পুতুল, আমার আদরের সহোদরা।

