পত্রমিতালী
কলমে – শাঁওলী সরকার
বিষয় – বাবার নামে খোলা চিঠি
শ্রীচরনেষু বাবা,
প্রথমেই তুমি আমার সশ্রদ্ধ প্রনাম নিও।আজ কতদিন হলো পাই নি কো তোমার দেখা। সেই যে নিলে বিদায় আর ফিরলে নাকো ঘরে। স্বপ্নেও যে পাই নাকো তোমার দেখা!
প্রতিদিন তোমার পথ চেয়ে বসে রই। কখন যে সাদা ধবধবে পায়জামা পাঞ্জাবী পরে এসে বলবে আবার, মামনি রে কড়া করে এক কাপ চা খাওয়া তো দেখি! অনেক দিন তোর হাতের চা খাই নিরে!আমি হেঁসে বলবো, সে তো আমি তোমাকে করে খাওয়াতেই পারি।তা সেটা কি নীম পাতা,নাকি চিরতা পাতার মত কড়া হবে গো, বাবা।
বলবে তুমি, তুই তোর মতো কড়া লিকারের চা খাওয়া। আমি বলবো, তা চায়ের সাথে কি খাবে? পরোটা বানিয়েছি, গরম গরম দুটো চায়ের সাথে দি,খাও। আমি দেখি প্রান ভরে।
বলবে, আহা পরোটা, সঙ্গে ভেজে দিবি দুটো বিগড়ের বেগুনের টুকরো?
আমি দৌড়ে গিয়ে আনবো নিয়ে তোমার জন্য। তুমি খাবে প্রানটি ভরে, আমি দেখবো দুচোখ ভরে!
মনের আকাশে কত কথা আর গল্পের ভীড় জমছে গো, বাবা। তোমায় যে শোনাতে চাই। কত কিছু লিখেছি _ সেগুলো তোমায় শোনাতে চাই। তুমি লেখা গুলো সমন্ধে ভালো মন্দ বললে আমি একটু ভরসা পাই।
শুনতে চাই,তোমার উচ্চস্বরে গমগম আওয়াজে আবৃত্তির ঐ কন্ঠস্বর। আগের মতো শুনবে সবাই,বাড়ির সামনের রাস্তাটা ভরে উঠবে দর্শকে। তখন তুমিও বলবে, মা রে, তুইও শোনা দুচার কলি। কত দিন শুনিনি তোর গান।
দুজনে ধরবো যুগলবন্দী।আমি গাইবো, তুমি শোনাবে আবৃত্তি। ঘন্টার পর ঘন্টা কাটবে আবার আমাদের সেই সুন্দর সময়!! জমে উঠবে আমাদের যুগলবন্দী।শুনে আমাদের যুগলবন্দী আবার হাঁসবে আকাশ, আনন্দে বইবে বাতাস, সুখের সুবাসে ভরবে আকাশ বাতাস, অবাক হয়ে চেয়ে থাকবে সন্ধ্যাতারা, জ্বল, জ্বল করে উঠবে রাতের তারারা। সেই সময়টা কেন আর আসে না গো,বাবা!
আজও পথ চেয়ে বসে রই তোমারই অপেক্ষায়। আমি কাঁদি সবার অলক্ষ্যে। আমাকে কাঁদতে দেখে বকে সকলে। বলে, তোমার কষ্ট হবে না কি?
তাই কি বাবা?
নিয়েছো যে চিরবিদায়। চলে গেলে তুমি আমায় ছেড়ে! কিন্তু, রয়েছে তুমি যে আমার মনি কোটায়!ফিরে এসো, নতুনরূপে আমার কাছে। ততদিন থেকো ভালো আছো যেখানে।
কিন্তু, আমি নেই কো ভালো বাবা, তোমায় ছাড়া। প্রনাম জানাই তোমার ঐ দুটো চরনে।
ইতি তোমার মামনি (শাঁওলী)
SHAONLI SARKAR

Comment