চাটুকার – বিবেক বিবর্জিত মানুষ
– শওকত আকবারের বেহুদা প্যাঁচাল
ছোটো অর্থে, যাহারা শুধুই চাটাচাটি করে, তাহারাই চাটুকার। নেতাকে বাবা, আব্বু, লিডার, ইমাম হিসেবে ভূষিত করে তাহারাই চাটুকার। যাহারা নেতার নাক মুছা বা কফ ফেলা টিস্যু নিজের দামী স্যুটের পকেটে রেখে দেয়, নিজের রুমাল দিয়ে বড়নেতার জুতা পাক সাফ করিয়া দেয়, ছেলের বয়েসি নেতার পায়ে হাত রাখিয়া কদমবুচি করে, তাহারাই চাটুকার।
নেত্রিকে যাহারা চাটিতে চাটিতে একবার মেডাম, একবার মা, জননী, বুবু, আরেকবার আপ্পি বলিয়া আখ্যা দেয়, তাহারাই চাটুকার।
এতো গেলো শাব্দিক অর্থ। পরিভাষায়, চাটুকার তাহারাই, যাহারা কর্মোদ্ধারে স্বীয় হস্ত দ্বারা অন্য কাহারো মলত্যাগেরর স্থান সুন্দর করিয়া পরিষ্কার করিয়া দিতে পারে। তাহাদিগকে চাটুকার বলা হয়।
টাকার জন্য দেহ বিক্রি করা নারীদের বেশ্যা বা মাগী বলিয়া সন্মোধন করা হইয়া থাকে, সুবিধা লাভে যেসব পুরুষ নিজস্ব অস্থিমজ্জা বিবেক বুদ্ধিকে বিক্রয় করিয়া থাকে, তাহাদিগকে পুরুষ বেশ্যা বা মাগী বলিয়া আখ্যা দেওয়া যায়না বিধায়, তাহাদের চাটুকার বলা হয়ে থাকে।
নারী পুরুষ সকলেই চাটুকার হইতে পারে। চাটুকারদের কোনো শ্রেণীতে বিভাজন করা যায়না। সকল বয়সের, সকল ধর্মের চাটুকার হইতে পারে। চাটুকারদের জাত পাতও নির্ধারণ করা যায়না।
তাহারা শুধুই নিজস্ব স্বার্থের রাজ্যে বিচরণ করিতে থোকে। তাহারা নিজেদের মাথায় স্বার্থ নামের পংকিল এক চীপ সেট করিয়া রাখিয়াছে যেখানে সমাজ, দেশ, ধর্ম, ন্যায়, পাপ সম্পূর্নরূপে বিলীন। শুধুই স্বার্থ সিদ্ধির এ্যালগোরিদম। আর তাই তাহারা ব্যস্ত চাটাচাটিতেই।
আজ সমাজ, রাষ্ট্র ভরিয়া গিয়াছে তাহাদের দৌরাত্ম্যে। তাহাদের জয় জয়কার সমগ্র রাষ্ট্র জুড়িয়া। দিন যতোই অতিবাহিত হইতেছে তাহাদের সংখ্যাগরিষ্টতা ততোই বাড়িতেছে। জানিনা, তাহাদের এই সংখ্যাগরিষ্টতায় রাষ্ট্র, সমাজ একদা কোথায় যাইয়া পৌঁছাইবে।
চাটুকার – বিবেক বিবর্জিত মানুষ – শওকত আকবার
রচনা – 11.02.2026
👉 মুল পোস্টে ক্লিক করুন

