SIDDHESWAR HATUI

SIDDHESWAR HATUI
কোথায় গেল চলে

আর দেখিনা লোকসংস্কৃতির প্রতি তেমন কাহারো প্রীতি

আধুনিকতার ছোঁয়ায় এ ঝড়ো হাওয়ায় কোথায় চলে গেছে।

কত স্নেহ ভরা ছিল তার আঁচল, আজ আর কৈ দেখি

আমরাই তো তারে করেছি পর, কিন্তু ঘুমতো আজও আছে ?

এই ঘুমকি আর সেই ঘুম , ছিল কত মনের মতো শান্তি…..

“আয় চাঁদা মামা আয় চাঁদের বদনে চাঁদ টি দিয়ে যা।“

কিম্বা- “ঘুম পাড়ানী মাসি-পিসি মোদের বাড়ি এসো-

খাট নাই , পালঙ্ক নাই আসন পেতে বসো”… বলে ঘুম পাড়াতো মা।

আবার “ছেলে ঘুমালো পাড়া জুড়ালো বর্গী এলো দেশে-
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেবো কিসে” কতই ছিল মনোহর,

বন্ধ আজ হা-ডু-ডু, ডাংগুলি, নোন্তা, বউ বাসন্তি, কানামাছি, কুমীর কুমীর, আর খোটান খেলা

আর নেই সেই পুরানো রিতি ঘরের দেওয়ালে দেওয়া নানান আল্পনা , আজ সে তো বিস্ময়কর।

মূর্তি, গাছপালা, পশুপাখী প্রভৃতির চিত্র অঙ্কণ আর তো দেখা যায়না,

জীবন চিত্র যেন শ্রীহীন হয়ে পড়েছে , কেউ করেনা তার কল্পনা।

লোকসংস্কৃতির সৃষ্টি সাহিত্য মূলত নিরক্ষর মানুষেরই সৃষ্টি ভাই

‘আল্লাহ ম্যাঘ দে পানি দে ছায়া দে রে তুই’ যায়না তো আর শোনা।

কিম্বা”আয় বৃষ্টি ঝেপে ধান দেব মেপে” বলে লোকে ডাকত সুখের মেঘ,

মাদুর-কাঁথা, বাঁশের মাচা কিংবা মাটির মেঝে যায় তো খুব কম দেখা ……

হাঁড়ি-পাতিল-সানকি-কুঁজো, কাঁসার থালা-বাটি-ঘটি খুঁজতে হলে পাবে অনেক বেগ।

ধুতি, লুঙ্গি, চাদর, গামছা, ফতুয়া সবেই দিয়েছি আজ আমরা ফেলে , নেই কালির কলমে লেখা।

আধুনিক সমাজে কত পোষাক, ওসব কতো পুরানো স্মৃতি।

ভুলে যাচ্ছি পুরানো সেই দিনগুলো , আনছি টেনে হট্টগোলের সংস্কৃতি,

এসোনা সকলে ,যেদিন এসেছি ফেলে আবার নতুন করে দেখি,

কত আন্নন্দ লুকিয়ে ছিল সেখানে , আজ যদি তার একটুও ফিরে পাই -হারানো সেই প্রীতি।

Comment