বসন্তের পদধ্বনি
লেখনীতে: স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী
শীতের সেই জীর্ণ পাণ্ডুলিপি আজ ধূসর কুয়াশায় বিলীন,
রিক্ততার দীর্ঘ ধ্যান ভেঙে প্রকৃতি আজ এক অমোঘ জাগরণে মগ্ন।
যে ডালপালাগুলো কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে ছিল নিঃসঙ্গ আকাশতলে,
সেখানে আজ অঙ্কুরিত হচ্ছে এক অবিনাশী স্পন্দন।
বসন্ত আসছে— কোনো ক্ষণিকের উন্মাদনা নিয়ে নয়,
বরং এক গভীর স্তব্ধতা চিরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে তার রাজকীয় পদধ্বনি।
উত্তুরে হাওয়ার দাপট আজ ক্লান্ত, সে পথ ছেড়ে দিচ্ছে দখিনা সমীরণকে;
যেন এক দীর্ঘ বিরহ শেষে পৃথিবী ফিরে পেয়েছে তার কাঙ্ক্ষিত আপনজনকে।
ঝরা পাতার মর্মর ধ্বনি আজ আর বিদায়ের কান্না শোনায় না,
ওটা তো নতুনের জন্য জীর্ণতার স্বেচ্ছায় করা এক মহৎ বিসর্জন।
কোকিল পাখির ওই মায়াবী সুর আজ দিগন্ত ছাপিয়ে যায়,
আবিরের মাতাল খেলায় আজ গোটা আকাশ মুখরিত।
আকাশের নীলিমা আজ লাবণ্যের এক অতল সমুদ্রে নিমজ্জিত,
রঙের বন্যায় ধুয়ে যাচ্ছে মনের সকল গুমোট বিষাদ আর স্থবিরতা।
প্রকৃতির এই মহামিলন উৎসবে প্রতিটি প্রাণ খুঁজে পাচ্ছে তার আদিম স্বাদ,
রঙের ছোঁয়ায় আজ স্তব্ধ হয়ে গেছে সব হাহাকার আর না-পাওয়ার অবসাদ।
হে ঋতুরাজ, তোমার চরণে সঁপে দিই আজ আমাদের জমে থাকা সকল জরা—
মানুষের অবরুদ্ধ মনের গহীনে আজ প্রাণ পাক এক অবিনাশী মুক্তি।
তুমি আসো এক শুদ্ধ পরিবর্তনের বারতা নিয়ে, আসো এক চিরন্তন জ্যোতি হয়ে;
তোমার স্পর্শে ধন্য হোক প্রতিটি বিষণ্ণ আত্মা,
আবারও মানুষ হয়ে উঠুক সবুজ, আবারও বিশ্বাসের শক্তিতে জেগে উঠুক এই পৃথিবী।

