যেদিন নারী ফিরে দাঁড়ায়
— স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী
এই সমাজে,
তোমরা নারীর মুখে চাপিয়ে দাও নীরবতা,
অবহেলার অলক্ষ্যে বাঁধো তার ডানা—
সুশীলতার নাম করে শিকল পরাও তার স্বপ্নে।
সেই নারী, যাকে তোমরা দেখো
শুধু ঘরের কোণে, হাসির পাত্রে,
দেহের অলংকারে—
সে যদি একদিন ফিরে দাঁড়ায়?
সেদিন, তোমরা কোথায় যাবে?
যে ক্ষমতা তোমরা শুধু নিজের ভেবেছ,
যে সিংহাসনকে ভাবো পিতৃতন্ত্রের জন্মসিদ্ধ অধিকার—
যদি নারী নিজেই দাবি করে সে স্থান,
তোমাদের ভিতরে কাঁপন ধরবে, জানি।
কারণ তোমরা চাও না
নারী তোমাদের সমতুল্য হোক,
কি জানি— যদি তোমাদের চেয়ে উপরে উঠে যায়!
ভয় তো সেইখানে—
যেভাবে তোমরা হাসো তাদের দুর্বলতায়,
লাঞ্ছনা করো নিরবে অথবা গর্বে,
যদি তারা সেই শক্তি নিয়েই ফিরে আসে—
তোমাদের উপর ছড়িয়ে দেয় একই ব্যথা,
তাহলে কী হবে তোমাদের সহ্যশক্তি?
তোমরা পুরুষ, তাই না?
তাই ভাবো—
যা ইচ্ছে তাই চাপিয়ে দিতে পারো,
ইচ্ছার ছুরি চালাতে পারো অবলীলায়।
ইচ্ছা হলে প্রেম, না হলে শাসন, না হলে নীরব নিপীড়ন।
কিন্তু মনে রেখো—
নারী কোনও প্রাসাদে গড়া পুতুল নয়,
সে আগুন, সে ঝড়, সে মহাকাল।
যেদিন নারী উঠে দাঁড়ায়,
তার নীরবতা হয় যুদ্ধের উগ্র ঢাক,
তার পদক্ষেপে কাঁপে মাটির অহঙ্কার।
সেদিন তোমাদের এই পিতৃতন্ত্রের দুর্গ—
ধসে পড়বে, ধুলো হয়ে যাবে,
আর ইতিহাসে লেখা থাকবে—
“নারী কখনোই দুর্বল ছিল না, শুধু চুপ ছিল।”

