শিরোনামঃ হালখাতার বৈশাখ
কলমেঃ স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী
রোদটা আজ একটু বেশিই কড়া। পিচঢালা রাস্তা দিয়ে যখন রিকশাগুলো হুড়মুড় করে ছুটছে, তখন গঞ্জের মোড়ে শম্ভু দাদুর দোকানে পুরোনো খাতার ধুলো ঝাড়ার ধুম লেগেছে। শম্ভু দাদুর কাছে নববর্ষ মানে নতুন ডায়েরি নয়, বরং গত এক বছরের ধার-দেনার হিসেব মিটিয়ে একটা তৃপ্তির নিঃশ্বাস।
দোকানের সামনে একটা ছোট লাল শালুর কাপড় টাঙানো। ভেতরে ধূপের গন্ধ আর মিষ্টির প্যাকেট সাজানো। পাড়ার ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা নতুন জামা পরে এদিক ওদিক দৌড়াদৌড়ি করছে। তাদের চোখেমুখে একটা অদ্ভুত আনন্দ—নতুন জামার চেয়েও বড় আকর্ষণ হলো মোড়ের দোকানের ওই লাড্ডু আর নিমকি।
বিকেলে যখন আকাশটা একটু ম্লান হয়ে এল, তখন এক পশলা কালবৈশাখী এসে সব ধুলো ধুয়ে দিয়ে গেল। রাস্তার ধারের কৃষ্ণচূড়া গাছটা যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠল। রাত্রে যখন শম্ভু দাদু দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছেন, তাঁর পকেটে একটা নতুন কলম আর মনে আগামীর সুন্দর স্বপ্ন।
ক্যালেন্ডার বদলালো ঠিকই, কিন্তু মানুষের ঘামে ভেজা কপাল আর লড়াইয়ের ময়দানটা একই রয়ে গেল। শুধু কালবৈশাখীর হাওয়ায় ধুলোবালিটুকু উড়ে গিয়ে আগামী দিনগুলোর জন্য নতুন করে বুক বাঁধার সাহসটুকু টিকে রইল।

