এক মহাজাগতিক বিস্ময়

এক মহাজাগতিক বিস্ময়


একবার ভাবুন তো, এমন একটা নক্ষত্র বা তারা যা এতটাই বিশাল যে সেটিকে যদি আমাদের সূর্যমণ্ডলীর কেন্দ্রে (সূর্যের জায়গায়) এনে রাখা হয়, তবে তার বাইরের অংশ শনি গ্রহের কক্ষপথ পর্যন্ত পৌঁছে যাবে! অর্থাৎ বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং গ্রহাণু বেল্টের সিংহভাগ অংশ এই দানব নক্ষত্রের উত্তপ্ত গ্যাস ও ধূলিকণার বায়ুমণ্ডলের ভেতরে হারিয়ে যাবে।

বিজ্ঞানীদের অনুমান অনুযায়ী, এই নক্ষত্রটির নাম স্টিফেনসন ২-১৮ (Stephenson 2-18), যা মহাবিশ্বের জানা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নক্ষত্রগুলোর একটি। তবে খবরের কাগজের শিরোনামের বাইরেও এই নক্ষত্রটিকে নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে অনেক কৌতুহল, পরিমাপের জটিলতা এবং মহাকাশ বিজ্ঞানের এক দারুণ রহস্য লুকিয়ে রয়েছে।

স্টিফেনসন ২-১৮ হলো একটি ‘রেড সুপারজায়ান্ট’ বা লাল অতিদানব নক্ষত্র। এটি আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় ১৯,০০০ আলোকবর্ষ দূরে ‘শিল্ড’ (Scutum) নামক নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই নক্ষত্রটির ব্যাসার্ধ আমাদের সূর্যের চেয়ে প্রায় ২,১৫০ গুণ বড়! অর্থাৎ এর চওড়া বা ব্যাস প্রায় ১.৫ বিলিয়ন (১৫০ কোটি) কিলোমিটার। যদিও জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে এই মাপে কিছুটা কম-বেশি হতে পারে, তবুও এটি আকারের দিক থেকে একটি রেকর্ডধারী নক্ষত্র।

আবিষ্কারের ইতিহাস: যেভাবে চেনা গেল এই মহাজাগতিক দানবকে
এই নক্ষত্রটি আবিষ্কারের গল্প শুরু হয় ১৯৯০ সালে। আমেরিকান জ্যোতির্বিজ্ঞানী চার্লস ব্রুস স্টিফেনসন মহাকাশের একটি বিশেষ এলাকায় একঝাঁক লাল অতিদানব নক্ষত্রের সন্ধান পান। তিনি এই নক্ষত্রপুঞ্জের নাম দেন ‘স্টিফেনসন ২’। মহাজাগতিক ধূলিকণার আড়ালে ঢাকা থাকায় সাধারণ দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে এটিকে দেখা অসম্ভব ছিল; তাই অবলোহিত বা ইনফ্রারেড (Infrared) প্রযুক্তির সাহায্যে এই নক্ষত্রপুঞ্জটি খুঁজে বের করা হয়।

এই নক্ষত্রপুঞ্জের মধ্যেই ১৮ নম্বর তারা হিসেবে চিহ্নিত করা হয় আমাদের আজকের আলোচনার মূল নক্ষত্রটিকে, যার সংক্ষিপ্ত নাম দেওয়া হয় St2-18 বা স্টিফেনসন ২-১৮। প্রথম দিকে বিজ্ঞানীরা মনে করেছিলেন এটি হয়তো এই নক্ষত্রপুঞ্জের অংশ নয়, বরং আমাদের পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা অন্য কোনো সাধারণ তারা। কারণ এটি অন্য সব তারার চেয়ে অনেক বেশি উজ্জ্বল ছিল। তবে পরবর্তীকালের গবেষণায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এটি আসলেই সেই দূরবর্তী নক্ষত্রপুঞ্জেরই এক দানবীয় সদস্য।

এক মহাজাগতিক বিস্ময়

সাধারণ পাঠকের জন্য কিছু সহজ তথ্য:
এটি কী ধরণের তারা? এটি একটি লাল অতিদানব (Red Supergiant) নক্ষত্র। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে কোনো কোনো নক্ষত্র আকারে বিশাল হয়ে যায় এবং লাল রঙ ধারণ করে, এটিও তেমনই একটি তারা।

সূর্যের সাথে তুলনা: আমাদের সূর্য যদি একটি ছোট মার্বেল হয়, তবে স্টিফেনসন ২-১৮ হবে একটি বিশাল স্টেডিয়ামের সমান!

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? এই নক্ষত্রটি বিজ্ঞানীদের বাধ্য করছে নক্ষত্রদের জন্ম, জীবন এবং মৃত্যু নিয়ে নতুন করে ভাবতে। কারণ একটি নক্ষত্র ঠিক কতটা বড় হতে পারে, তার চেনা সীমানাকে এটি টেক্কা দিয়েছে।

মহাবিশ্বের এই বিশালতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রকৃতির সৃষ্টি কতটা রহস্যময় এবং আমাদের জানার পরিধি এখনো কতটা সীমিত!

নক্ষত্রের অবস্থান এবং অসাধারণ ‘স্টিফেনসন ২’ নক্ষত্রপুঞ্জ
স্টিফেনসন ২-১৮ নক্ষত্রটি মহাকাশের ‘শিল্ড’ (Scutum) নামক এলাকায় অবস্থিত। এটি আমাদের ছায়াপথ বা গ্যালাক্সি (মিল্কি ওয়ে)-র একটি অত্যন্ত গতিশীল অঞ্চল, যেখানে প্রচুর নতুন এবং বিশালাকার নক্ষত্রের জন্ম হয়।

এই নক্ষত্রটি যে স্টিফেনসন ২ নক্ষত্রপুঞ্জে রয়েছে, সেটি নিজেই একটি বিস্ময়। এটি একটি তরুণ নক্ষত্রপুঞ্জ (যার বয়স মাত্র ১ কোটি ৪০ লাখ থেকে ২ কোটি বছর)। এই একটিমাত্র নক্ষত্রপুঞ্জেই অন্তত ২৬টি নিশ্চিত লাল অতিদানব (Red Supergiant) নক্ষত্র রয়েছে—আমাদের মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির আর কোনো নক্ষত্রপুঞ্জে এত বেশি লাল অতিদানব তারা একসাথে দেখা যায় না। এর মোট ভর আমাদের সূর্যের চেয়ে প্রায় ৩০,০০০ থেকে ৫০,০০০ গুণ বেশি!

তবে এই নক্ষত্রপুঞ্জটি সাধারণ নক্ষত্রপুঞ্জের মতো ঠাসাঠাসি অবস্থায় নেই, বরং এটি বেশ ছড়ানো-ছিটানো। স্টিফেনসন ২-১৮ নক্ষত্রটি এর মূল কেন্দ্র থেকে একটু বাইরের দিকে বা দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে অবস্থিত।

পৃথিবী থেকে এই নক্ষত্রপুঞ্জের দূরত্ব নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নানা মতভেদ ছিল:

১৯৯০ সালের প্রথম অনুমানে এটিকে অনেক বেশি দূরে মনে করা হয়েছিল।

বর্তমানের আধুনিক হিসাব অনুযায়ী এটি আমাদের থেকে প্রায় ১৮,৯০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।

তবে স্টিফেনসন ২-১৮ আসলেই এই নক্ষত্রপুঞ্জের আসল সদস্য, নাকি এটি অন্য কোথাও থেকে এসে এর মাঝে ঢুকে পড়েছে—তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মনে এখনো কিছুটা সন্দেহ আছে। আর এই সন্দেহের কারণেই এর সঠিক আকার ও উজ্জ্বলতা নিখুঁতভাবে মাপা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শারীরিক বৈশিষ্ট্য: আকার, আলো এবং উত্তাপ (কিছু জটিলতা সহ)
এখানেই এই নক্ষত্রটির গল্প একই সাথে রোমাঞ্চকর এবং বিজ্ঞানীদের জন্য একটু জটিল বা ধাঁধার মতো হয়ে ওঠে।

১. তাপমাত্রা (Temperature)
এর তাপমাত্রা মাত্র ৩,২০০ কেলভিন (প্রায় ২,৯২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস) যা একটি নক্ষত্রের জন্য বেশ কম। সাধারণত এই ধরণের লাল অতিদানব নক্ষত্রগুলোর তাপমাত্রা আরও বেশি হয়। এত কম তাপমাত্রার মানে হলো, নক্ষত্রটি তার জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে খুব অস্থির অবস্থায় রয়েছে এবং এর বাইরের বায়ুমণ্ডল ক্রমাগত ফুলে-ফেঁপে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।

২. উজ্জ্বলতা (Luminosity)
কম তাপমাত্রা হলেও এই নক্ষত্রটি অসম্ভব রকমের উজ্জ্বল। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি আমাদের সূর্যের চেয়ে প্রায় ৪,৪০,০০০ থেকে ৬,৩০,০০০ গুণ বেশি উজ্জ্বল! মহাজাগতিক ধূলিকণার কারণে এর আসল আলো আমাদের কাছে সরাসরি পৌঁছায় না, যা এর উজ্জ্বলতা সঠিকভাবে মাপার কাজটিকে আরও কঠিন করে তোলে।

৩. আকার বা ব্যাসার্ধ (Radius) — আসল রহস্য যেখানে
বিজ্ঞানীরা যখন এর উজ্জ্বলতা এবং তাপমাত্রাকে একটি গাণিতিক সূত্রে ফেলেন, তখন এর ব্যাসার্ধ বেরিয়ে আসে সূর্যের চেয়ে প্রায় ২,১৫০ গুণ বড়! অর্থাৎ এর ভেতরে আমাদের সূর্যের মতো প্রায় ১০ বিলিয়ন বা ১,০০০ কোটি সূর্য অনায়াসে ঢুকে যাবে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে এর উপরিভাগ বা শেষ সীমানা শনি গ্রহের কক্ষপথকেও ছাড়িয়ে যাবে!

তবে এখানে একটি ‘কিন্তু’ আছে: জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বড় একটি অংশ মনে করেন এই ২,১৫০ গুণের মাপটি হয়তো একটু বেশি বাড়িয়ে ফেলা হয়েছে। নক্ষত্রদের বড় হওয়ার যে তাত্ত্বিক সীমা বা নিয়ম আছে, তাতে কোনো নক্ষত্র সাধারণত সূর্যের চেয়ে ১,৫০০ গুণের বেশি বড় হতে পারে না। এর আগে ইউওয়াই স্কুটি (UY Scuti) নামের আরেকটি নক্ষত্রকেও মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় নক্ষত্র মনে করা হতো, কিন্তু পরবর্তীতে উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে মেপে দেখা যায় সেটি আসলে অতটা বড় নয়। স্টিফেনসন ২-১৮ এর ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে এমনটা হতে পারে।

৪. ভর এবং ওজন (Mass)
এই নক্ষত্রটির ওজন সরাসরি মাপা অসম্ভব। তবে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, জন্মের সময় এটি সূর্যের চেয়ে ২০ থেকে ৫০ গুণ ভারী ছিল। কিন্তু বর্তমানে এটি খুব দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে এবং তীব্র গতিতে নিজের ভেতরের গ্যাস ও ধূলিকণা মহাকাশে ছুঁড়ে দিচ্ছে (প্রতি বছর এটি যে পরিমাণ ভর হারায়, তা আমাদের পৃথিবীর ভরের চেয়েও অনেক বেশি)। এর চারপাশের বিশাল ধূলিকণার মেঘ তারই প্রমাণ দেয়।

পরিমাপের জটিলতা: কেন বিজ্ঞানীদের মনে এত সন্দেহ?
এত দূরে এবং মহাজাগতিক ধূলিকণার পেছনে লুকিয়ে থাকা একটি নক্ষত্রের নিখুঁত মাপ নেওয়া সাধারণ কোনো কাজ নয়। এর পেছনে কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে:

সরাসরি দেখার উপায় নেই: কাছের কিছু নক্ষত্রের আকার সরাসরি টেলিস্কোপে মাপা গেলেও, স্টিফেনসন ২-১৮ এর ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়।

দূরত্বের ওপর নির্ভরতা: এর উজ্জ্বলতা এবং আকার কেমন হবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করে এটি আমাদের থেকে ঠিক কত দূরে আছে তার ওপর। দূরত্ব একটু কম-বেশি হলেই পুরো হিসাব ওলটপালট হয়ে যায়।

ধূলিকণার আড়াল: সাধারণ আলোতে এই নক্ষত্রটিকে দেখাই যায় না। এর সমস্ত তথ্য ইনফ্রারেড (অবলোহিত) এবং রেডিও তরঙ্গের সাহায্যে সংগ্রহ করতে হয়।

নক্ষত্রপুঞ্জের সদস্যপদ নিয়ে সংশয়: এটি আসলেই ওই নক্ষত্রপুঞ্জের অংশ কিনা তা ১০০% নিশ্চিত নয়। যদি এটি অন্য কোনো দূরত্বের নক্ষত্র হয়, তবে এর আকারের হিসাবও বদলে যাবে।

বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, একটি নক্ষত্র কতটা বড় এবং শীতল হতে পারে তার একটি নির্দিষ্ট সীমা বা বাউন্ডারি থাকে। স্টিফেনসন ২-১৮ নক্ষত্রটি যেন সেই চেনা নিয়মগুলোকে ভেঙে দিচ্ছে বা চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। এর আগে ইউওয়াই স্কুটি (UY Scuti) বা ভিওয়াই ক্যানিস মেজোরিস (VY Canis Majoris)-এর মতো নক্ষত্রগুলোকেও একসময় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মনে করা হতো, কিন্তু উন্নত প্রযুক্তিতে নতুন করে মাপার পর সেগুলোর আকার আগের চেয়ে ছোট প্রমাণিত হয়েছে। স্টিফেনসন ২-১৮ এর ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

অন্যান্য দানব নক্ষত্রের সাথে তুলনা
মহাকাশপ্রেমীদের আলোচনায় স্টিফেনসন ২-১৮ এর সাথে প্রায়ই অন্য কিছু বিখ্যাত নক্ষত্রের তুলনা করা হয়:

ইউওয়াই স্কুটি (UY Scuti): পূর্বে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় নক্ষত্র (সূর্যের চেয়ে প্রায় ১,৭০০ গুণ বড় মনে করা হতো)।

ভিওয়াই ক্যানিস মেজোরিস (VY Canis Majoris): একটি অতিদানব নক্ষত্র, যা নিজের ভেতরের গ্যাস ও ধূলিকণা চারদিকে ছুঁড়ে দিয়ে এক বিশাল মেঘ তৈরি করেছে। এটিও প্রায় স্টিফেনসন ২-১৮ এর মতোই জীবনের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বেটেলজিউস (Betelgeuse) এবং অ্যান্টারেস (Antares): এই নক্ষত্রগুলো আমাদের অনেক কাছে অবস্থিত এবং রাতের আকাশে খালি চোখেই দেখা যায়। তবে এগুলো আকারে স্টিফেনসন ২-১৮ এর চেয়ে অনেক ছোট (সূর্যের চেয়ে ৭০০ থেকে ১,০০০ গুণ বড়)।

নক্ষত্রটির ভবিষ্যৎ: কীভাবে মৃত্যু হবে এই দানবের?

আমাদের সূর্যের চেয়ে ৮ থেকে ১০ গুণ বেশি ভারী নক্ষত্রগুলো যখন তাদের জীবনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন তারা এভাবে ফুলে-ফেঁপে লাল অতিদানব বা ‘রেড সুপারজায়ান্ট’-এ পরিণত হয়। এদের কেন্দ্রের হাইড্রোজেন জ্বালানি শেষ হয়ে যায় এবং এরা ভারী উপাদান তৈরি করতে শুরু করে।

স্টিফেনসন ২-১৮ নক্ষত্রটি যেভাবে তীব্র গতিতে নিজের ভর ও গ্যাস হারিয়ে ফেলছে, তাতে বোঝা যায় এটি এখন অত্যন্ত অস্থির এক অবস্থায় আছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এর শেষ পরিণতি হবে একটি ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ, যাকে বলা হয় ‘কোর-ক্ল্যাপস সুপারনোভা’ (Core-Collapse Supernova)। এই মহাবিস্ফোরণের পর নক্ষত্রটির অবশিষ্টাংশ হয়তো একটি অত্যন্ত ঘন ‘নিউট্রন স্টার’ (Neutron Star) অথবা একটি রহস্যময় ‘ব্ল্যাক হোল’ বা কৃষ্ণগহ্বরে (Black Hole) পরিণত হবে।

শিক্ষা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এর প্রভাব
আকার নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও, সাধারণ মানুষ ও মহাকাশপ্রেমীদের কাছে স্টিফেনসন ২-১৮ অত্যন্ত জনপ্রিয়। ইউটিউবের তথ্যচিত্র বা সোশ্যাল মিডিয়ার “সাইজ কম্প্যারিসন” (আকারের তুলনা) ভিডিওগুলোতে এই নক্ষত্রটিকে প্রায়ই দেখানো হয়। এটি আমাদের মহাবিশ্বের বিশালতা বোঝাতে একটি দারুণ উদাহরণ হিসেবে কাজ করে।

বিজ্ঞান কোনো একটি তথ্যের ওপর আটকে থাকে না; নতুন ও উন্নত প্রযুক্তির সাথে সাথে আগের তথ্যগুলোও আরও নিখুঁত ও পরিমার্জিত হয়।

কোনো নক্ষত্র ‘আকারে সবচেয়ে বড়’ হওয়ার মানে এই নয় যে সেটি ‘ওজনেও সবচেয়ে ভারী’ বা ‘সবচেয়ে উজ্জ্বল’।

এক মহাজাগতিক বিস্ময়

স্টিফেনসন ২-১৮ আমাদের যেমন মহাবিশ্বের বিশালতার কথা মনে করিয়ে দেয়, তেমনই বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতার সামনে আমাদের বিনয়ী হতে শেখায়। হয়তো এর আকার আমাদের কল্পনার চেয়ে কিছুটা ছোট, অথবা এটি নক্ষত্রের জীবনের এমন এক বিরল ও স্বল্পস্থায়ী পর্যায় যা আমরা খুব কমই দেখতে পাই।

ভবিষ্যতের আরও উন্নত টেলিস্কোপ, নিখুঁত হিসাব-নিকাশ এবং মহাকাশ গবেষণা হয়তো একদিন এই রহস্যময় দানবের আসল রূপ আমাদের সামনে তুলে ধরবে। তবে যতদিন না তা হচ্ছে, ততদিন শিল্ড নক্ষত্রমণ্ডলের এই লাল অতিদানবটি আমাদের দূরবীক্ষণে টিমটিম করে জ্বলবে আর আমাদের মনে জাগিয়ে রাখবে অজানাকে জানার এক পরম কৌতুহল!

এক মহাজাগতিক বিস্ময়
Comment