রহস্য গল্প
সুদীপ ঘোষাল
কিছুদিনের মধ্যেই গোয়েন্দা সুমনের ডাক পড়লো মেমারিতে মেমারি তে এক সিরিয়াল কিলার পর পর খুন করেই যাচ্ছে। তাকে কোনমতেই ধরা যাচ্ছে না। আজ দু’বছরের মধ্যে সে প্রায় 18 টি খুন করে ফেলেছে। সুমন তার সহকারীকে নিয়ে মেমারির উদ্দেশ্যে পাড়ি দিল বাসে চেপে।সুমনেরর ব্যক্তিগত গাড়ি এখনো হয়নি, হয়তো ভবিষ্যতে হতে পারে।
মেমারির একটি গ্রাম বাহাবপুর। বাহাবপুর এ একটা বাড়িতে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকলো সুমন। প্রথমে কয়েকদিন বাড়িওয়ালার কাছে খাওয়া-দাওয়া করলো। তারপর নিজেরা রান্না সরঞ্জাম কিনে নিজেরাই রান্না করতে শুরু করলো। সুমন প্রথমে গ্রাম থেকে ঘুরে তার আশেপাশের পরিবেশ সম্বন্ধে জেনে নিল।ভূঞাপুরে আশেপাশে অনেক গ্রাম আছে পাহাড়পুর সাহাপুর দিনাজপুর।
পাহাড়পুরের একটা চায়ের দোকানে চা পান করছিল তার আশপাশের চার-পাঁচজন আলোচনা করছে যে আজকে একটা খুন হয়েছে, পচা ডোবার ধারে, মহিলার মৃতদেহ ভেসে আছে। সুমনের সন্দেহ হলো খুনির নিশ্চয় নেক্রোফিলিয়া রোগ আছে।কারণ মেয়ে টি খুনের পরে ধর্ষিতা হয়েছে। তারপরে এই খুনী বেছে বেছে মহিলাদেরই টার্গেট করে।
মেমারি পৌরসভা থেকে সুমনকে ডাক দেওয়া হয়েছিল এবং তাকেই ভার দেওয়া হয়েছিল ওই খুনিকে ধরার দায়ীত্বে। সুমন গোয়েন্দার নাম দিগ্বিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তার বহু গর্বের জয়ের কথা অনেকে শুনেছে।
মৃত মহিলাকে দেখার জন্য তারা দুজনেই সেই খুনের জায়গায় গেলেন এবং গিয়ে দেখলেন লাশের পাশে একটি গিটার পড়ে আছে। আজ তুকিতাকি আশেপাশে যা কিছু দেখার তোতোনার সুমন দুজনেই দেখলেন এবং তারা দু চারটি জিনিস কুড়ি এর নিজের কাছে রাখলেন কাগজে মুড়ে। তারপর ভাবতে শুরু করলেন খুনের সঙ্গে গিটারের কি সম্পর্ক আছে? এদিকে থানার বড়বাবু লাশ নিয়ে চলে গেলেন গাড়িতে করে। এর আগে খুনি আঠারোটি খুন করেছে। 18 টি খুনের মধ্যে 16 টি মহিলা দুটি পুরুষ। আর এটি হলো 19 নম্বর খুন। এমনকি মেমারিতে সুমন রা দুজনে থাকা সত্ত্বেও খুনি জানতে পারেনি এবং 19 নম্বর খুুন করেও সে গায়েব হয়েছে । সুমন ভাবে তার মানে সে এখন এখানে আছে। তোতন বলে নিশ্চয়ই সেখানেই আছে এবং কোন গ্রামে গা ঢাকা দিয়ে আছে। কিন্তু তাকে চেনা যাবে কিভাবে। সুমন বললো অত সহজে কি আর চেনা যায়? কেউ ধরা দিতে চায়? এখন এই খুনি ধরার জন্য বেশ কয়েক মাস লাগবে মনে হয়।
সুমন্তদা বা সুমনদা এর আগে অনেক ভালো কাজও করেছেন।তোতন বলল,এই সময়ে আমার পরিচিত একজন আমাকে একদিন বললেন, আমার খুব বিপদ।আমি বললাম, কেন কি হয়েছে ?
তিনি বললেন, আমাদের গ্রামের সামনে একটা পুরোনো বাড়ি আছে ।জমিদার আমলের বাড়ি । ওই বাড়ি থেকে ভূতের চিৎকার গ্রামের লোকদের ভয়ে গ্রাম থেকে চলে যেতে বাধ্য করছে ।
ভূতের আক্রমণে এ পর্যন্ত কুড়ি জন লোক মারা গেছেন।আমি মহা সমস্যার মধ্যে পর লাম । জানি জয়ন্ত দা নেই । তবু হৈমন্তী দি কে ফোন করলাম । দিদি রাজী হলেন । হবেন না কেন ,তিনি তো একাই একশ জনের বুদ্ধি ও শক্তির মালিক । অনেক অভিযানের প্রত্যক্ষ প্রমাণ ।ঠিক সময়ে আমি ও কিশোর পত্রিকার সহকারী সম্পাদনা সচিব হৈমন্তী দি হাওড়া আজিম গঞ্জ লোকালে চেপে বসেছি । ট্রেন চলতে শুরু করলো ।
প্রায় পাঁচ ঘন্টা পরে আমরা শালার স্টেশনে নামলাম । পরিচিত বন্ধু প্রবীর কে দেখে সাহস হলো আমার । আমি দিদির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলাম প্রবীর কে ।প্রবীর আগে চল লো আর আমরা পিছনে ।টোটো গাড়িতে চেপে যাচ্ছি । দুপাশে প্রকৃতির নয়ন ভোলানো রূপ ।হঠাৎ দেখি একটা ম্যাজিক গাড়ি আমাদের ফলো করছে । দিদি বললেন, কোনো শর্ট কার্ট রাস্তা ধরো । সঙ্গে সঙ্গে টোটো চালক একটা গলি রাস্তায় ঢুকে পরলো ।পিছনের গাড়িটা থেমে গেলো ।যাইহোক কষ্ট করে আমরা মুর্শিদাবাদ এর আন্দুলিয়া গ্রামে পৌঁছে গেলাম । যে বাড়িতে ঠাঁই পেলাম সেটি টিনের চাল আর মাটির দেওয়াল ।খাওয়া বেশ ভালোই হলো । পুকুরের মাছ আর পোস্তর তরকারি । সঙ্গে ছিলো আমের চাটনি ।খুব গরম পরেছে । আমরা আজকে শুধু ভূতের বাড়িটা দেখে এলাম । বিকালে এক ছাট বৃষ্টি তাপমাত্রা কমিয়ে দিলো ।রাতে খিচুরি আর ডিমের ওম লেট ।জমেছিলো ভালো । তারপর আমি ও প্রবীর আর উপরে দিদি । ঘুমিয়ে পড়েছি তখন বারো টা হবে ।
সকালে উঠে দেখি এক কান্ড । দুজনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে ।
ইতিমধ্যেই দিদি মর্নিং ওয়াক সেরে এসে বস লেন ।তারপর বললেন, ঠিক রাত একটার সময় এরা টিনের চাল তুলে ঘরে ঢুকেছিলো । তারপর মার খেয়ে এই অবস্থা । যাইহোক আমাদের সাবধানে থাকতে হবে ।
এই দুজন লোককে পুলিশ নিয়ে যাবে । আমি থানায় পরিচয় করে তবে এলাম ।
আমি বললাম, দিদি বিভিন্ন রকম আক্রমণ হচ্ছে, তাহলে আজ রাতেও আসবে ।
তোতনের দিদি বললেন, ওরা আসার আগে আমরা যাবো । ওদের সাথে মোকাবিলা আজ রাতেই হবে ।
তারপর শুধু অপেক্ষা আর অপেক্ষা ।দিদির কোনো টেন শন নেই । যত টেনশন বোকা লোকের ।
এদিকে প্রবীর গিয়ে চুপি চুপি দশজন লোক ঠিক করে এলো ।কথায় বলে না ,জল জল গঙ্গা জল, বল বল বুদ্ধি বল আর লোকবল ।
ঠিক রাত বারোটার সময় আমরা সবাই অই ভূতুরে বাড়িতে প্রবেশ করলাম । সবাই সাবধানে পা ফেলছি । বিষাক্ত সাপের অভাব নেই ।
বাড়ি থেকে লাল রক্ত বেরিয়ে আসছে জলের স্রোতে । আমাদের পা ভিজে যাচ্ছে ।
ভিতর থেকে এক বিকট কান্নার সুর । যে কোনো মানুষ ভয় পেতে বাধ্য ।হঠাৎ আমার মাথায় কে যেনো আঘাত করলো ।
আমি জ্ঞান হারালাম ।তার পর আমার যখন জ্ঞান এলো তখন আমরা সবাই প্রবীরের বাড়িতে ।
দিদি বললেন, এই গ্রাম টি দুস্কৃতিরা দখল করতে চায় । ওরা এখানে নানারকমের নেশার দ্রব্যের কারবার করতে চায় ।
দেখলাম জলের ট্রাঙ্কের ভিতর থেকে লাল জল বেরিয়ে আসছে। সব ওদের সাজানো ব্যাপার ।
আমি দেখলাম আমার মত অনেকেই আহত ।
দিদি সুমন্ত দা কে ফোন করলেন । ঠিকানা দিয়ে এখানে আসার কথা বললেন । সুমন্ত দা দুদিনের মধ্যেই চলে আসবেন কথা দিলেন । এবার আমাদের জয় নিশ্চিত ।এখন দু দিনের অপেক্ষা ।
ঠিক তিন দিন পরে জয়ন্ত দা চলে এলেন ।
দিদি বললেন, সেদিন রাতে ঝামেলার সময় আমি ওদের দেহে নাইট্রিক অ্যাসিড ছিটিয়ে দিয়েছি । ওরা এখন বাইরে বেরোলেই ধরা পরে যাবে ।
সুমন্ত দা বললেন, আজই ওদের খেল খতম করবো আমরা সবাই একসাথে ।ওরা ট্যাঙ্কে জল লাল করেছে ভয় দেখানো র জন্য। রক্ত মনে করে কেউ যাতে ভয়ে না আসে ।ডি জে চালিয়ে স্টিরিও ফোনিক সাউন্ডে ভূতের কান্নার ক্যাসেটে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে ।
আমরা সবাই ঠিক বারোটার সময় আচমকা হানা দিলাম ভূতুরে বাড়িটায় । আবার সেই দিয়াল বেয়ে লাল রক্ত ।ভূতের কান্না । সবাই ব্যাপারটা বুঝে গেছে তাই কেউ আর ভয় পায় না । সবাই রে রে শব্দে লাঠি নিয়ে যাকে পেলে পেটাতে লাগলো । কারও মাথা ফুলে গিয়ে আলুর মত হলো ।কারও আবার পিঠে পটলের ছাপ ।
একটি ষন্ডা মার্কা লোক সুমন্ত দার মাথায় বন্দুক ধরেছে । বিদ্যুৎ চমকের মত হৈমন্তী দি ক্যারাটের আড়াই প্যাঁচে বন্দুক চলে গেলো জয়ন্ত দার হাতে । পা লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দিলেন সুমন্ত দা ।
সঙ্গে সঙ্গে সব শয়তান গুলো হাত তুলে আত্ম সমর্পণ করলো ।
থানা থেকে আই. সি. এসে ওদের ধর লেন আর যাবার আগে বললেন, পুলিশ বিভাগে আপনাদের মত লোকের প্রয়োজন । শুধু বন্দুক নয় তার সঙ্গে দরকার বিশ্লেষণী ক্ষমতা । নমস্কার ।
হৈমন্তী দি বললেন, নমস্কার । গ্রামের লোক এবার শান্তিতে বাস করতে পারবে ।
জয়ন্ত দা আমাকে বললেন, ভালো খবর আছে, কাজ করে যান ।
গ্রামবাসীরা বললো, দিদি নমস্কার নেবেন । আপনি তো একাই একশো ।
একজন শখের গোয়েন্দা হিসেবে আপনার মধ্যে অবশ্যই সন্দেহপ্রবণতা থাকতে হবে।
যেবিষয়ে গোয়েন্দাগিরি করবেন সে বিষয়ের সাথে সংযুক্ত সবাইকেই সন্দেহ করা শিখতে হবে।
তাহলে সবার সম্পর্কেই যেকোনো তথ্য আপনার সহজে বিশ্বাস হবেনা যতক্ষণনা সেটার প্রমাণ মিলছে।
তবে একটা বিষয়, যখন তদন্ত করবেন তখন নিজের মধ্যে সন্দেহপ্রবণতাটা রাখবেন।
এই গুণটা সবসময়ের জন্যে আয়ত্তে এনে ফেলাটা ঠিক হবেনা।
তাহলে অনেক সময় নিজের খুব কাছের মানুষদেরও বিশ্বাস করতেও কষ্ট হবে।
আর সেটা কারোই কাম্য নয়।
জানার আগ্রহ:
সঠিক ও সত্য তথ্য জানার জন্যে অদম্য চেষ্টা করতে হবে।
আর সে জন্যে চাই নিঃস্বার্থ ভালোবাসার মতই নিঃস্বার্থ আগ্রহ !
তাছাড়া বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানার জন্যেও প্রচুর আগ্রহ থাকতে হবে।
বিভিন্ন বিষয়ে ভালো ধারণা রাখলে সেগুলো পরবর্তিতে
কখনো না কখনো কাজে আসবেই।
উপরের টাইটেলটা দেখে অনেকেই অবাক হতে পারেন যে বই পড়া তদন্তে কি সহায়তা করবে !
অবাক হওয়ার কিছু নেই। বই পড়ার অভ্যাস অনেক বিষয়ে গভীর ধারণা দিতে সহায়তা করবে।
গল্প-উপন্যাস পড়া যেতে পারে। তবে বিষয়ভিত্তিক বইগুলো পড়ার অভ্যাস থাকলে সেটা খুব কাজে দিবে।
ধরূণ কোন তদন্তের কাজে বের হলেন সাইকেল নিয়ে। হঠাতই আপনার পায়ের পেশীতে খিঁচুনি ধরলো !
এখন আশেপাশে কোন ডাক্তার নেই যে আপনাকে উদ্ধার করবে এই অবস্থা থেকে।
কিন্তু আপনি একজন বিচক্ষণ মানুষ। আপনি কোন একটা বইয়ে বা আর্টিকেলে জেনেছেন কিভাবে
পেশীর খিঁচুনি থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ।
তখন আপনি আপনার জানা তথ্য প্রয়োগ করে নিজেই নিজেকে উদ্ধার করতে পারেন।
সুমনবাবু খুনের কেসটা ধরার জন্য সিসি ক্যামেরা প্রতি রাস্তার কোণে কোণে রেখে দিয়েছিলেন এবং চায়ের দোকানে যেসব যুবক ছেলেরা থাকে, তাদের মোবাইল এর মাধ্যমে ছবি তুলতে বলেছিলেন যে কোন সন্দেহজনক ঘটনার।
এইসব দৃশ্য একত্র করে সুমন বাবু বাড়িতে বসেই সহজে খুনিকে ধরতে পেরেছিলেন । অবশ্য খুনিকে চেনা গেলেও তাকে জীবিত অবস্থায় ধরা যায়নি। কিন্তু ছবির ব্যাপারটা প্রথমদিকে এত সহজ ছিল । তোতন বললেন, স্যার কি করে ক্যামেরা আবিষ্কার হল? তার ইতিহাস একটু বলুন। সুমন বাবু শুরু করলেন তার ইতিহাস।
গোয়েন্দা সুমন বলেন এখন আমরা মোবাইলে আমরা ১৬ মেগা পিক্সেল বা ১২ মেগা পিক্সেল ক্যামেরা পেয়ে যাই। আ্যাপারচার এফ ১.৭.।লেন্স খুব ভালো হওয়ার দরুণ আলো ঢোকে বেশি। আই ফোনে ছবি আরও পরিষ্কার হয়। ফলে এখনকার ছেলেমেয়েরা সহজেই ভিডিও বা স্টিল ছবি তুলে ফ্যালে কম পরিশ্রমে। কিন্তু প্রথমদিকে ছবি তোলার পদ্ধতি এত সহজ ছিলো না। স্মৃতি রক্ষার্থে মানুষের ছবি, ঐতিহাসিক বিভিন্ন দৃশ্য ও শখের বস্তুকে কলম অথবা রঙ-তুলির সাহায্যে ক্যানভাসে ধরে রাখার চেষ্টা চালায় মানুষ। এভাবে ধীরে ধীরে তৈরি হতে থাকে বড় বড় চিত্রকর, যারা সৃষ্টি করেন ইতিহাসখ্যাত চিত্রকর্ম। এরপর মানুষ ভাবতে থাকে ছবির বিষয়টিকে কীভাবে আধুনিকতার সংস্পর্শে আনা যায়। অর্থাৎ কীভাবে খুব সহজে নিখুঁত ছবি তোলা যায়। চলতে থাকে গবেষণা। আবিষ্কৃত হয় ছবি তোলার জন্য বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল। এরই ধারাবাহিকতায় চলে আসে ক্যামেরা তত্ত্বটি। ১০২১ সালে ইরাকের এক বিজ্ঞানী ইবন-আল-হাইতাম আলোক বিজ্ঞানের ওপর সাত খণ্ডের একটি বই লিখেছিলেন আরবি ভাষায়, এর নাম ছিল কিতাব আল মানাজির। সেখান থেকে ক্যামেরার উদ্ভাবনের প্রথম সূত্রপাত। ১৫০০ শতাব্দীতে এসে চিত্রকরের একটি দল তাদের আঁকা ছবিগুলোকে একাধিক কপি করার জন্য ক্যামেরা তৈরির প্রচেষ্টা চালায়। এর ধারাবাহিকতায় ১৫৫০ সালে জিরোলামো কারদানো নামের জার্মানির একজন বিজ্ঞানী ক্যামেরাতে প্রথম লেন্স সংযোজন করেন। তখন ক্যামেরায় এই লেন্স ব্যবহার করে শুধু ছবি আঁকা হতো। তখনও আবিষ্কৃত ওই ক্যামেরা দিয়ে কোনো প্রকার ছবি তোলা সম্ভব হয়নি। কারণ ওই ক্যামেরাকে সফল রূপ দিতে সময় লেগেছিল আরও অনেক বছর।
ক্যামেরার ইতিহাসে একটি মাইলফলক ছিল ১৮২৬ সাল। ওই সালেই প্রথমবারের মতো আলোকচিত্র ধারণের কাজটি করেন জোসেপ নাইসপোর নিপস। তিনি পাতলা কাঠের বাক্সের মধ্যে বিটুমিন প্লেটে আলোর ব্যবহার করে ক্যামেরার কাজটি করেন। সে হিসেবে তাকেই প্রথম ক্যামেরা আবিষ্কারক বলা যায়। তার ক্যামেরা সংক্রান্ত ধারণার ওপর নির্ভর করেই ফ্রাঞ্চমেন চার্লেস এবং ভিনসেন্ট ক্যাভেলিয়ার প্রথম সফল ক্যামেরা আবিষ্কার করতে সক্ষম হন। ১৮৪০ সালে উইলিয়াম টালবোট স্থায়ী চিত্র ধারণের জন্য নেগেটিভ ইমেজ থেকে ছবিকে পজিটিভ ইমেজে পরিবর্তন করেন। এরপরই বিশ্বব্যাপী ক্যামেরার প্রযুক্তিগত উন্নয়ন দ্রুতবেগে সম্প্রসারিত হতে থাকে।
একটা বাক্সে আলপিন-সাইজের একটা ফুটো করে দৃশ্যের দিকে সেই বাক্সটাকে তাক করলেই হলো। আলো যেহেতু সোজা পথে যায়, সামনের দৃশ্য থেকে প্রতিফলিত আলো বাক্সের ফুটো দিয়ে ঢুকে উল্টো দিকে অর্থাৎ বাক্সের পিছনের দেয়ালে সেই দৃশ্যের প্রতিচ্ছবি সৃষ্টি করবে। সেই প্রতিচ্ছবি অবিকল সামনের দৃশ্যের মতোই হবে।তোতন বলল মানুষের শেখার শেষ নেই।

