শিরোনামঃ “তারপরের পৃথিবী”
সাম্প্রদায়িকতা, জাতিবাদ, দেশভাগ…
আর শুধুই কি তবে রাগ?
তারপর…?
তারপর অনেকগুলো ভোর কেটে গেছে, অনেক ঋতুর পরিবর্তন। তারপর গুপি বাইন বাঘা গাইন হয়ে গেছে, আরও রঙিন হয়েছে পৃথিবী।
স্রোতস্বিনীর বিশাল স্রোতে ভেসে গেছে মানবিকতা, মনুষ্যত্ব, আর কটা পঁচা গলা লাশ। তারপর প্রচুর দল এলো নদীর পাড়ে। তাদের মধ্যে কেউ বলছেন, ওই লাশগুলো এ দেশের লোকই নয়—আমরা ভেবে করব কী? কেউ আবার বলছে, আগে ধর্মটা জেনে নিই।
লাশের মধ্যে শিশুর সংখ্যা বেশি, তারপর মহিলা, তারপর পুরুষ… হিসেব দিলেন একজন লোক।
তারপর…?
তারপর আর কী! গ্রীষ্ম এলো, নদীর জল শুকিয়ে গেল। রইলো পড়ে কটা হাড়ের টুকরো, আর আমার-আপনার মতবাদ।
বর্ষা যখন এলো, সকল দাগ নিমেষে ধুয়ে দিল। বলল—আজ থেকে আর কোনো ভয় নেই, আমার বৃষ্টিতে সবাই বিশ্বাস রাখুন।
তাই রাখলুম… কিন্তু সেই তো মানুষ—বিশ্বাস থেকে অন্ধবিশ্বাস হতে আর কতটুকু দেরি! বন্যা হলো, ভাসলো বিশ্বাস, ভাঙলো প্রতিজ্ঞা।
তারপর—
এবার বুঝি শরৎ আসবে?
শরৎ এলো, বলল—আমি বর্ষার কাজে ভীষণ দুঃখিত। সকলকে সমবেদনা জানানো হলো, উপহার দেওয়া হলো কাশফুল।
এই যা! তবে কি শরৎ ফুল দিয়ে fool বানানোর চেষ্টা করছে?
হেমন্ত বরাবরই ফাঁকিবাজ, সেরকম কোনো কাজই করে না। তবে ওই হেমন্তের হলুদ আকাশটা ভীষণ প্রিয়—মনে হয় যেন হারিয়ে গেলাম, হারিয়ে গেলাম সাম্প্রদায়িকতা, জাতিবাদ থেকে অনেক দূরে।
এবার শীত এলো…
গ্রীষ্মের রোদ্দুর, বর্ষার বৃষ্টি আর হেমন্তের হলুদ আকাশের সাথে তুলনা করলো আমার-আপনার; বলল—আমি, আপনি, সবাই ভীষণ বোকা।
শীত বলল সাহায্য করবে, তবে ওই এক দাবি। বিশ্বাস করলাম—আবার অন্ধবিশ্বাস।
আমার যত্নে গড়া ফুলগাছটার সব ফুল ঝরে গেল, ঝরে গেল শুকনো হওয়া পাতা—আমার, আপনার বিবেক, আদর্শ আর প্রাসঙ্গিকতা।
বসন্ত আসতে আসতে বুদ্ধিটা একটু খুলেছিল। তাই প্রচুর যুক্তিতর্ক করেছি। বলেছিলাম—দেখ, অনেক হয়েছে, আর না; আমায় শুধু কটা লাল শিমুল, শ্বেত পলাশ আর ওই একটু রঙ এনে দাও।
সবই দিলো, জানেন… তবে পলাশটা সাদার জায়গায় কমলা।
আমিও জেদি—আমার সাদাই চাই। যুদ্ধ করবো বসন্তের সাথে। যুদ্ধ হলো শিমুল ফুল আর পলাশের সাথে। অবশেষে হেরে গেলাম—মানলো না কোনো দাবি।
এখন আমি বন্ধ তালা, শুধু ওদের কাছেই চাবি।

