এক ভজন ছড়া
(চতুর্থ কিস্তি)
স্বপনকুমার পাহাড়ী
১
উষ্ণ সারমেয়
অবাক কাণ্ড, সকাল সকাল উষ্ণ সারমেয়!
বৌ বললে চা-ও দিচ্ছি, চায়ের সাথে খেয়ো।
চায়ের সাথে কুকুর খাবো?
হায় ভগবান! কোথায় যাবো?
কুকুরটাকে কামড়ে দিতেই কুকুর হোলো ঘেয়ো!
২
আধুনিকা
ব্লাউজটা ছোট হতে হতে যেই
নেহাৎই একটি ব্রা,
পথে বেরোতেই শ্রীমতীকে দেখে
সবাই তো পুরো ‘হাঁ’!
৩
আলট্রা মডার্ন
চোখে সানগ্লাস, পায়ে হাই হীল
বিদেশী ব্যাঙ্কে ক্যাশিয়ার–
সবেমাত্তর ল্যাণ্ড করেছেন
পিন্ধনে মিনি-ব্র্যাসিয়ার,।
৪
তোরাবোরা
বাবু বিপিন ভোরা
বৌয়ের নাম নোরা।
হানিমুনে চলেন এখন
পাহাড় তোরাবোরা
৫
পরিক্রমা
প্রথম চোখাচোখি যখন
মধুর সাজে সজ্জিতা–
ফিসফিসিয়ে কইতে কথা
ঈষৎ রাঙা লজ্জিতা।
শেষ রাতে ঘুম ভাঙলে দ্যাখে
শেষটুকুও বর্জিতা।
৬
স্তোম
শ্রীবক্ষ আর কাঁকাল দেখেই ভোম।
ওঠে মহারব : হর হর বোম বোম!
ভেঙে গেছে ধ্যান
বাহুপাশে নেন
অগৌণে শুরু করে দিয়েছেন স্তোম!
৭
সৈকতে
বোর্দোর এদুয়ার্দো
তার সাথে হেদুয়ার দো
তিনে মিলে সমুদ্র-সৈকতে
করছিল হো হো হো।
এ-তিনের সঙ্গে আবার
কিবা চাল দিচ্ছো দাবার
কে তুমি জুটলে এসে গো?
ঠোঁটে সিগার
স্মার্ট ফিগার
বিকিনিতে ট্রিগার টিপেছো!
৮
মোক্তার
রামলাল মোক্তার।
নেশা তার দোক্তার।
দোক্তা না জোটে যদি
তাড়িতেই ঝোঁক তার।
তাও যদি নাহি জোটে
জঘন্য বুলি ফোটে
অগত্যা বাজারে ছোটে
যদি মেলে কোক তার।
৯
কোঁৎকা
হোঁৎকামুখোর কোঁৎকা খেয়ে
করছিল ঘোঁৎ-ঘোঁৎ।
ঘোঁৎঘোঁতানি থামলে পুনঃ
ছাড়তে লাগে ফোঁৎ!
ফোঁৎ মানে যে কান্না
ঢের হয়েছে, আর না
তবুও কি আর থামবে রে, ভাই,
পাড়তে লাগে কোঁৎ!
১০
ধনি
দেহচিত্রন কর্মশালায়
দেহেরই প্রদর্শনী।
হেলিয়া দুলিয়া প্রদর্শনীতে
অংশ নিলেন ধনি।
মুক্তাঙ্গনে মুক্ত অঙ্গে
রঙের পোশাকে নানা বিভঙ্গে
ফোটোস্যুটও হোলো সাংবাদিকের
এই তো একখনি।
১১
লুলু
আরবিভাষী অঙ্গনাটি নামটি ছিল লুলু।
ওকেই শাদি করলো ওরই খালাতো ভাই জুলু।
শাদির শেষে হুরীর বেশে
বিবিকে দেখে এক নিমেষে
মাতাল নাকি খসম জুলু?–চক্ষু ঢুলুঢুলু!
১২
কাঞ্চা-কাঞ্চি
এক যে ছিল কাঞ্চা আবার
তার ছিল এক কাঞ্চি–
কাঞ্চার নাম বাঞ্ছা এবং
কাঞ্চির নাম সাঞ্চি।
সত্যিকারের জুটি
একটুও নেই ত্রুটি
গোর্খা সাঞ্চি বোরখা প’রে
উড়তো যেন পঞ্ছী!
