এক ডজন ছাড়া
(দশম কিস্তি)
স্বপনকুমার পাহাড়ী
১
আজব বুড়ো
ধরে যদি মধুমেহ,
ভয়ে মরে কেহ কেহ
এ বুড়োর ভয়-ডর নাই।
দু’বেলা গাণ্ডে-পিণ্ডে
কেইবা করছে নিন্দে
দিনরাত শুধু খাই-খাই।
২
ইচিং বিচিং
ইচিং বিচিং চিচিং চা।
পরজাপতি উড়ে যা।
উড়ে গিয়েই বোস না ওর ওই
খোঁপায়।
বর জোটেনি, তাই তো মেয়ে
ফোঁপায়!
৩
গঙ্গারাম
এক যে সাধু গঙ্গারাম
জটায় গোঁজা কঙ্ঘারাম
থাকতো সে এক সঙ্ঘারাম
খাবার বেলা মাঙ্গারাম।
৪
প্যাণ্ট
এই প্যাণ্ট প’রে বাইরে বেরোও– লজ্জা-শরম নাই?
কটমট ক’রে তাকাচ্ছো কেন–ভুল বললাম ভাই?
আরে আমরা পরলে শর্ট প্যাণ্ট
আর মেয়েরা পরলে হট প্যাণ্ট?–
মগজের নাটবোল্টুগুলো কি থোড়ী সী টাইট চাই!
৫
বেআক্কেলে
— সবটা যখন যাচ্ছে দেখা
পোশাকটা আর কেন?
–বেআক্কেলে কমেন্ট করিস
নেই সাধারণ জ্ঞানও?
৬
লোলা
নাম নাকি তার লোলা।
বুকটা রেখেই খোলা
খাচ্ছে ভেজানো ছোলা
পড়ছে এমিল জোলা।
৭
গোঁফে গোঁফ
গোঁফে গোঁফ চুমু খায়– কী অবাক কাণ্ড!
ওতেই ভরছে দেখো দুটি দেহভাণ্ড!
বিমোহিত কবিবর
লিখে ফ্যালে খরতর
আধুনিক কাব্যটি–বৃহৎ–প্রকাণ্ড!
৮
মিল
লোকটা ছিল হো
চিন দেশে গেল বেড়াতে
আর বন্ধু জুটলো মো
নামে কী দারুণ মিল
দুজন মিলে হাসতে লাগলো
হো হো হো হো
হো-র বান্ধবী অ্যানা
আর মো-র বান্ধবী হ্যানা
দুজনে এখন হাসিটা ঝালায়
খিলখিল! খিলখিল!!
ঝিলমিল! ঝিলমিল!
৯
সহজে
জন্মদিনের পোশাক পরেই জন্মদিনের পার্টিতে
ইডেন থেকেই নামলেন বুঝি এই ধরণীর মাটিতে।
চলেন দুলকি চালে
নিখুঁত ছন্দ-তালে
শিস দিতে দিতে পৌঁছে গেলেন
সহজে হাঁটিতে হাঁটিতে!
১০
ঘায়েল
সদ্য গজানো শিংজোড়াটিতে গোঁফজোড়া হলে ঘায়েল
বেজায় খুশিতে নাচতে লাগলো নাচনেওয়ালী পায়েল।
নাচতে লেগেছে বাজতে লেগেছে ছমছমছম
নাচের আসরে বুঝে নিতে চায় পকেটের দম
দম ফুরিয়েছো? কেটে পড়ো গুরু–এবার তাহলে যা হেল!
১১
ডমডম
ডমডম ডিগা ডিগা
মৌসম ভীগা ভীগা।
মনটা খুশি খুশি
চলো না নতুন দীঘা!
চলো যাই নতুন দীঘা
মনটা ভীগা ভীগা
ছুটি ঐখেনে কাটাই
ঘেউকে নেবে নাকি গা?
১২
হনু-কুত্-কুতি
হনু-কুত্-কুতি গাড়িতে চলেছে হনুমান।
আমজনতার এটাই এখন অনুমান।
চলেছে দেদার কুত-কুত-কুত
জামা-পেণ্টুতে নেই কোনো খুঁত
গাড়িটা থামিয়ে কলা খাওয়াবে কি পানু পান?
