সেই মেয়েটার গল্প
স্বপ্না মজুমদার
সেই মেয়েটা জানে
আর যাই হোক তাকে নিয়ে কেউ
কখনো কবিতা লিখবে না!
সে যে অতি সাধারণ,
তাকে কখনো বড় স্বপ্ন
দেখতে নেই!
বাবার সবজির দোকানে
সবজি বিক্রিতে বসেও
বইয়ের পাতা ওল্টায়, সেই মেয়ে
সে জানে, এটার মধ্যেই আছে
আগামীতে পথ চলার ভবিষ্যত
কেরিয়ার হবে এ পথেই!
অখিল বাড়ি বাড়ি আচার, বড়ি
বিক্রি করে, দিয়েছিল প্রেমের প্রস্তাব
পছন্দ নয় সেই মেয়ের
তাকে অনেক ওপরে যেতে হবে
অথচ জানে না সেই পথ, আছে
কোথায়!
ছোট্টো ছোট্টো চেষ্টা, মুখ থুবড়ে
পড়েও খড়কূটো ধরে ওঠার চেষ্টা
ছিল তার,প্রবল——-
একদিন কিছু সফলতা
এসে দেখা দিল!
এরপরে, পরিশ্রম ভীষণ
আকাশ দেখার সময় নেই
সেই মেয়ের, চাই অর্থ প্রতিদিনের
বেঁচে থাকার জন্য!
অথচ, একটা নদীর পাশ দিয়ে
চলার সময়, নদী তাকে ডাকতো
দু দন্ড বিশ্রামের জন্য!
ভোরের পাখির উন্মুক্ত আকাশে
ওড়া দেখে ভাবতো, সেই মেয়ে
এমনটা তো সেও চায়
আগামীতে!
একদিকে ছিল টিউশনি
আরেক দিকে,রুটি সবজি বিক্রি
কখনো বড়ি দেওয়া, প্যাকেট
করে বিক্রি,
খরচ চালাতে হবে, বাবা যে
অপারগ, সে কথা সে বুঝতো!
কলেজে পড়ে সেই মেয়ে
ধৃতিমান এলো জীবনে
কবিতা লেখে তাকে নিয়ে
অবাক সেই মেয়েটি
ভাবলো, তাকে নিয়ে কেউ
সত্যিই কবিতা লিখতে পারে
সে কি সত্যিই কারো কবিতা
হতে পারে!
সেই মেয়ে আজ টীচার, স্বপ্ন পূরণ
হয়েছে তার, ধৃতিমান পাশে
এসেছে——
সেই মেয়ে আরো ওপরে
উঠতে চায়,আকাশ হয়নি দেখা
সেভাবে ,
এবার আকাশ ছুঁতে চায়, সে
স্বপ্ন দেখে, আরো কিছু গড়ে
তোলার,
তার জীবন পরিপূর্ণতা পাক
নতুন দিশায়।।
পুণে,,, মহারাষ্ট্র
২৮/০১/২০২৬

