স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে
স্বপ্না মজুমদার
প্রতি বছরের ন্যায় এবছরেও
স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন যথা নিয়মে
পালিত হচ্ছে, যথেষ্ট আড়ম্বরে!
তাঁকে শ্রদ্ধা জানাই আমরা, অথচ তাঁর বানী
পথ নির্দেশ, তাঁর নীতি শিক্ষা
পালন করি না!
একজন বিদেশীনি তাকে যেভাবে বুঝেছেন
আমরা আজও তাঁর মতাদর্শ সেভাবে
গ্ৰহন করি না!
বিবেকানন্দের দেশের মানুষ হয়েও
বিবেকবোধ আমাদের আজও সেভাবে
জাগ্রত হলো না!
মানুষ ঈশ্বরের সেবা করতে ভালোবাসে
কিন্তু প্রকৃত ঈশ্বর কোথায়
সেই ভাবনা মানুষ ভেবেও ভাবেন না
দীর্ঘ বছরের অভ্যাস
মন্দিরেই মনের শান্তি মেলে।
স্বামী জী বলতেন জীবে প্রেম করে
যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর!
স্বামী জী, দীর্ঘ সময় মা কালীর মন্দিরে
যেতেন, খুঁজেছেন মানুষের
ঈশ্বর কে!
তিনি মানুষের ভেতরের জাগরণ
চেয়েছিলেন, তিনি জানতেন মানুষ
যথাযথ ভাবে, বিবেকবান হয়ে উঠলে দেশ
সঠিক নিয়মে এগোবে!
দেশ সুগঠিত হবে, মেরুদণ্ড শক্ত হলে
দেশের কাঠামো মজবুত হবে
শাসন ব্যবস্থা সুদৃঢ় হবে——
ঘূণ পোকার আক্রমণ রোধ করা যাবে!
আজ, দেশ, শিক্ষা, চিকিৎসা ব্যবস্থা যথেষ্ট
উন্নত হলেও, মানুষের মানবিক জাগরণ
আজও তেমন, হলো না
দেশ পিছিয়েই রইলো!
একজন ডক্টর সঠিক জানে না কিভাবে
পরিসেবা দিয়ে হবে——
সবটুকু আজ মানবিক আচরণ শুণ্য
অর্থের বিনিময়ে হচ্ছে!
তাই চিকিৎসা সর্বস্তরে সঠিক ভাবে
পৌঁছচ্ছে না!
আজকের চিকিৎসা, সকলের জন্য নয়
স্তর ভাগ হয়ে রয়েছে!
মানুষ আজ নিজেদের মারছে, কাটছে
পোড়াচ্ছে, অকারণে যুদ্ধ করছে
দাঙ্গা হাঙ্গামা বাঁধাচ্ছে—–
মানুষ মানুষকে চেনে না!
তাহলে, মানুষ প্রকৃত মানুষ হলো
কোথায়, এখনও জাতি ধর্ম নিয়ে
লড়াই করছে
উন্নত বিজ্ঞান মানুষকে সজাগ করতে
পারলো কোথায়, অথচ বিজ্ঞানের উন্নয়ন
ক্রমবর্ধমান!
যেদিন মানুষ নিজেদের বিবেক মানবিকতা
জাগ্ৰত করে মানুষের ভূমিকা নেভাবে
মানুষ মানুষকে ভালোবাসবে
সেদিন আমরা এক উজ্জ্বল ভবিষ্যত
দেখবো, নতুন আচরণ শিখবো
দেশ উজ্জ্বল হবে।।
পুণে,,,মহারাষ্ট্র
১২/০১/২০২৬
