প্রিয় গ্রাম,
আজ হঠাৎ তোমাকে লিখতে বসলাম।
কেন জানি না—
হয়তো বুকের ভেতর মাটির গন্ধ জমে উঠেছিল,
হয়তো শহরের শব্দের ভিড়ে
নিজের কথাই শুনতে পাচ্ছিলাম না।
মনে পড়ে,
ভোরের আলো তখনো পুরো জাগেনি,
মন্দিরের ঘন্টা মোরগডাক একসাথে
দিনের দরজায় কড়া নাড়ত।
মায়ের হাঁড়ির ঢাকনায়
সময় নিজেই ধরা দিত—
ঘড়ির দরকার হতো না।
কুয়াশা-ভেজা সকালে
ডোঙার দোলায় বসে
বিলের সঙ্গে কথা বলতাম,
জলে হাত ডুবিয়ে
যেন তোমার শরীর ছুঁয়ে দেখতাম।
সে শীতলতা আজো
হাতের তালুতে লেগে আছে।
ধানক্ষেতে বাতাস নামলে
সবুজ ঢেউ উঠত,
হাঁটু-ডোবা কাদায় দৌড়ে
আমরা আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতাম।
দূরের জঙ্গলে ঘুঘুদের বাসায়
ভয় আর কৌতূহল নিয়ে হানা দিতাম—
ডানার শব্দে
হঠাৎ বুঝে যেতাম
বড় হয়ে যাচ্ছি।
বিকেলে বাঁশবনে আলো নামত,
পাতার ফাঁক দিয়ে সে আলো
আমাদের নাম ধরে ডাকত।
পুকুরঘাটে কলসির জলে
হাসি ভেঙে পড়ত ঢেউ হয়ে।
রাতে কুপির আলোয়
দাদুর গল্প শুনে
ভয় পেতাম, আবার নিশ্চিন্তও হতাম।
মশারির ভেতর
ঘুম আসত বিশ্বাস নিয়ে।
আজ আমি দূরে,
পাথর আর কোলাহলের শহরে।
তবু জানো—
তুমি এখনো আমাকে চেনো।
চোখ বন্ধ করলেই
তোমার পথ, তোমার মাটি
আমাকে ডেকে বলে—
ফিরে এসো।
এই চিঠির কোনো ঠিকানা নেই,
তবু জানি—
তুমি পড়বে।
ইতি
তোমারই
হারিয়ে যাওয়া সন্তান
—
