সময়ের সদ্ব্যবহার
ওমর ফারুক (সভাকবি)
সময় মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। অর্থ বা সম্পদ হারালে তা আবার অর্জন করা সম্ভব, কিন্তু একবার চলে যাওয়া সময় কখনোই ফিরে আসে না। এই বাস্তব সত্যকে সামনে রেখেই আল্লাহ তায়ালা মানুষকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। কারও আয়ু দীর্ঘ, কারও সংক্ষিপ্ত—কিন্তু প্রত্যেকের সময়ই সীমাবদ্ধ।
ইসলাম সময়ের গুরুত্বকে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারিমে ‘সময়ের শপথ করে সূরা নাযিল করেছেন’—সূরা আল-আসর। সেখানে বলা হয়েছে, নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যেই রয়েছে; তবে যারা ঈমান আনে, সৎকর্ম করে, সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়—তারাই সফল। এই আয়াত প্রমাণ করে যে সময়ের সদ্ব্যবহার না করলে মানুষ অনিবার্যভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
বাস্তব জীবনে আমরা প্রতিদিনই এর উদাহরণ দেখতে পাই। যারা সময়মতো নামাজ আদায় করে, দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করে এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে—তাদের জীবন সাধারণত শৃঙ্খলিত ও শান্ত হয়। আর যারা সময়কে অবহেলা করে, কাজ ফেলে রাখে ও সুযোগ নষ্ট করে—তাদের জীবনে আফসোস ও ব্যর্থতা জমতে থাকে।
আল্লাহ তায়ালা প্রতিটি ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন—নামাজ, রোজা, হজ সবই সময়ের সঙ্গে আবদ্ধ। এর মাধ্যমে তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যে ‘সময়মতো কাজ করাই সফলতার মূল চাবিকাঠি’। সময়ের সদ্ব্যবহার আসলে আল্লাহর আদেশ মানারই একটি রূপ।
অতএব প্রকৃত মানুষ সেই, যে নিজের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে দায়িত্ব ও সচেতনতার সঙ্গে কাজে লাগায়। কারণ আজকের সময়ই আগামী দিনের ফল নির্ধারণ করে। সময়ের যথাযথ ব্যবহার মানুষকে দুনিয়ায় সফল করে এবং আখিরাতে মুক্তির পথ সুগম করে।
Umar Faruq
