UTPAL SARKAR

UTPAL SARKAR

বসন্তের পদধ্বনি
সকালের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। জানালার কাচে হালকা কুয়াশার আস্তরণ। আমি চোখ মেলতেই শুনতে পেলাম—একটা মৃদু, অথচ স্পষ্ট শব্দ। যেন কেউ নরম পায়ে হেঁটে আমার দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।
বাইরে তাকাতেই চোখ আটকে গেল আমার ছোট্ট টবে লাগানো আমলকি গাছটার দিকে। গতকালও যেখানে শুধু শুকনো ডাল আর দু’-একটা হলদেটে পাতা ঝুলছিল, সেখানে আজ নতুন করে কয়েকটা কচি পাতা ফুটে উঠেছে। সবুজের মধ্যে একটা আলাদা উজ্জ্বলতা, যেন রাতারাতি কেউ এসে সবুজ রং ছড়িয়ে দিয়ে গেছে। পাতাগুলো হালকা হাওয়ায় কাঁপছে, আর সেই কম্পন থেকেই যেন উঠে আসছে সেই পদধ্বনি—টুক টুক টুক…
দূরের কোনো গাছ থেকে একটা কোকিল ডেকে উঠল। প্রথম ডাকটা একটু ইতস্তত, যেন নিজেকে পরীক্ষা করে নিচ্ছে। তারপর দ্বিতীয়, তৃতীয়—আরও নিশ্চিত, আরও জোরালো। বাতাসে ভেসে আসতে লাগল শিমুল আর পলাশের মৃদু গন্ধ, মিশে গেল নতুন মাটির সোঁদা সুবাসের সঙ্গে।
আমি জানি, বসন্ত কখনো জোর করে ঘোষণা করে না তার আগমন। সে আসে চুপিচুপি, আলতো পায়ে। যেমন আজ এই সকালে এসেছে। যেমন আসে আমাদের জীবনের কোনো নতুন অধ্যায়—কোনো একটা ছোট্ট আশা, এক ফোঁটা সাহস, এক টুকরো হাসি—যা আমরা ভেবেছিলাম আর ফিরবে না।
আমি জানালার কাছে দাঁড়িয়ে রইলাম। হাতে চায়ের কাপটা ঠান্ডা হয়ে আসছে, কিন্তু মনের ভেতরটা উষ্ণ হয়ে উঠছে। বসন্তের পদধ্বনি শোনা যায় না কানে, শোনা যায় রক্তের প্রতিটি স্পন্দনে। আর সেই শব্দ শুনলেই বোঝা যায়—আবার শুরু করার সময় এসেছে।

Comment