শেরউড অ্যান্ডারসন এক অনন্য মার্কিন সাহিত্যিক, যিনি সাধারণ মানুষের অন্তর্লোককে গল্পে রূপ দিতেন। ওহাইওর ছোট্ট শহরে বেড়ে ওঠা অ্যান্ডারসন ব্যবসা, যুদ্ধ ও ব্যক্তিগত সংকট পেরিয়ে শেষমেশ লেখালেখিতে পুরোপুরি মন দেন। তার জীবন ছিল পরিবর্তনের ঢেউয়ে গড়া এক গভীর মানবিক যাত্রা।

শেরউড অ্যান্ডারসন ছিলেন আমেরিকান ছোটগল্প শিল্পের এক নতুন পথপ্রদর্শক, বিশেষ করে Winesburg, Ohio তাকে অমর করেছে।

তিনি বহু পেশা বদলেছেন—চিত্রকর, বিজ্ঞাপন লেখক, বিক্রেতা এবং শেষে সাহিত্য জগতে নোঙর ফেলেছেন।

১৯১২ সালে তিনি হঠাৎ নিজের অফিস ছেড়ে চলে যান—এই ঘটনা তার জীবনের নাটকীয় বাঁক এবং লেখকজন্মের সূচনা।

তার লেখায় ছোট শহরের নিঃশব্দ যন্ত্রণা এবং মানুষের ভাঙা–গড়া মনোবিশ্ব বিশেষভাবে ধরা পড়ে।

অ্যান্ডারসন ছিলেন আর্নেস্ট হেমিংওয়ে ও উইলিয়াম ফকনারের ওপর শক্তিশালী প্রভাব ফেলাদের একজন।

তার গদ্যে সরলতা ছিল খাঁটি নদীর স্রোতের মতো—নীরব, গভীর এবং টানাটানা।

তিনি নিজেই বলেছিলেন, “আমি মানুষের হৃদয়ের নীরব ফিসফিস শুনতে চাই।”

তিনবার বিবাহবিচ্ছেদের ঝড় পেরিয়ে চতুর্থ বিয়েতে স্থিরতা খুঁজে পান।

তার লেখায় অটল মানবিকতা—প্রতিটি চরিত্র যেন ভেতরের আলোর টানাপোড়েন নিয়ে বেঁচে থাকে।

ছোটবেলা থেকেই বই ও কল্পনার সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল আপন আলোয় দীপ্ত।

তিনি সাময়িকভাবে সেনাবাহিনিতে চাকরি করেছেন; সেই অভিজ্ঞতা তার চরিত্রচিত্রণে সূক্ষ্ম রঙ ছড়িয়ে যায়।

তিনি নিজের ব্যবসা ছেড়ে লেখালেখিতে ঝাঁপ দেন—এ ছিল যেন নিজের আত্মাকে ফেরত পাওয়ার যাত্রা।

তার রচনায় মনোবিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট—ফ্রয়েডের ভাবনা তাকে আকৃষ্ট করত।

অ্যান্ডারসন ছিলেন ধীর লেখক; একটি অনুচ্ছেদ লিখতে দিনের পর দিন কাটিয়ে দিতেন।

তিনি ভ্রমণে ভালোবাসতেন—বিভিন্ন শহরের ছায়া তার গল্পে দেখা যায়।

Winesburg, Ohio–এর চরিত্ররা বাস্তব মানুষের অনুপ্রেরণায়—যারা তার জীবনে ক্ষণিক এসে ছাপ রেখে গেছে।

তার লেখায় নারীর অভ্যন্তরীণ জীবনকে গভীরভাবে ফুটিয়ে তোলার বিরল দক্ষতা ছিল।

তিনি ছিলেন স্বশিক্ষিত—কলেজে ভর্তি হলেও পুরো পড়াশোনা শেষ করেননি।

সাংবাদিকতা তাকে শব্দের শৃঙ্খলা শিখিয়েছে; সাহিত্য তাকে দিয়েছে স্বাধীনতা।

তিনি দক্ষিণ আমেরিকা ভ্রমণের সময় অদ্ভুত এক দুর্ঘটনায় মারা যান—মৃত্যুও যেন গল্পের মতো অপ্রত্যাশিত।

শেরউড অ্যান্ডারসন-এর ২০টি বইয়ের নাম

Winesburg, Ohio (1919) – The Triumph of the Egg (1921) – Poor White (1920) – Many Marriages (1923) – Horses and Men (1923)

A Story Teller’s Story (1924) – আত্মজীবনীমূলক – Dark Laughter (1925) – Sherwood Anderson’s Notebook (1926) – Tar: A Midwest Childhood (1926)

Hello Towns! (1929) – Nearer the Grass Roots (1929) – Hello Darkness (1933) – Puzzled America (1935)

Death in the Woods and Other Stories (1933) – Kit Brandon (1936) – Home Town (1940) – The Letters of Sherwood Anderson

The Sherwood Anderson ReaderThe Book of the GrotesqueMarching Men (1917)

শেরউড অ্যান্ডারসনের ভাবনা ও মানবিক সুর থেকে অনুপ্রাণিত ২০টি বাংলা উদ্ধৃতি

“প্রত্যেক মানুষের ভেতরেই একটি গল্প লুকানো থাকে—শুধু শোনার মতো কান চাই।”

“মন খুলে দিলে পৃথিবী কতটা কোমল, তা বুঝতে সময় লাগে না।”

“শিখে নেওয়া জ্ঞান ভুলে গিয়ে নতুনভাবে স্বপ্ন দেখতে শিখো।”

“নিজেকে না-জানা মানুষই সবচেয়ে বেশি কষ্টে থাকে।”

“যৌবনে আমরা সাহসী স্বপ্ন দেখি, বয়স বাড়লে তারই হিসেব কষি।”

সত্যিকার কথাগুলো খুঁজে পাওয়াই জীবনের সবচেয়ে জটিল যাত্রা।”

“প্রতিটি মুখের আড়ালেই এক ব্রহ্মাণ্ড—কেউ পড়ে না বলে তা মুছে যায় না।”

“মানুষ দুঃসাহসী হয়ে বাঁচতে ভয় পায়; তাই তারা নীরবতায় লুকিয়ে থাকে।”

“সৎ হওয়ার মুহূর্তেই জীবন অদ্ভুতভাবে সুন্দর হয়ে ওঠে।”

“আমার ভেতরের শব্দগুলো চুপ থাকতে চায় না—তাই লিখি।”

অন্যকে বোঝার চেষ্টা করা—এটাই মানুষের সবচেয়ে বড় সাহস।”

“একাকীত্ব আমাদের নিজের ধ্বনি শুনতে শেখায়।”

“প্রতিটি ছোট শহরের ভেতরেই হাজার গোপন আকাঙ্ক্ষা কাঁপতে থাকে।”

“মনকে ঘুরে বেড়াতে দাও—তবেই অনাবিষ্কৃত পথ মিলবে।”

“আমাদের ভেতর কোমলতা আছে, কিন্তু সেটা দেখাতে আমরা ভয় পাই।”

“শিল্পীর কাজ হলো নিস্তরঙ্গকে নাড়িয়ে দেওয়া, আর ভাঙা মনকে সান্ত্বনা দেওয়া।”

সত্য নিরব পদক্ষেপে হাঁটে; মিথ্যাই সবচেয়ে বেশি আওয়াজ করে।”

যে চোখ গভীরভাবে দেখে, সে-ই প্রকৃত ধনবান।”

“জটিল পৃথিবীতে সরলভাবে বাঁচতে পারাই আসল সুখ।”

“যা তোমাকে ছুঁয়ে যায়, তা কখনো হারায় না—তোমার গল্প হয়ে থাকে।”