Ziaur Rahaman Shilon

Ziaur Rahaman Shilon

অনুগল্প:
হিসেবের খাতার বাইরে।

ভোরের আলো ঠিকমতো ঢোকার আগেই অনিরুদ্ধ উঠে পড়ে। আজও বেরোতে হবে। কোথায়—সে নিজেও ঠিক জানে না। মাধবী জানালার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে, হাতে চায়ের কাপ। কথাবার্তা কমে গেছে অনেকদিন। তবু দু’জনেই বোঝে, এই নীরবতাই এখন তাদের সংসারের ভাষা।
টেবিলজুড়ে ছড়ানো কাগজপত্র—রেশন কার্ড, আধার, পুরোনো কাজের অভিজ্ঞতার কাগজ, স্কুলের ফি রসিদ, হাসপাতালের বিল। সরকারী দপ্তরে ঘোরাঘুরির চিহ্ন যেন প্রতিটি ভাঁজে। অনিরুদ্ধ কাগজগুলো গুছিয়ে নেয়, আবারও। কাগজ থাকলেই কি কাজ জোটে?
মাধবী হিসেবের খাতা খুলে বসে। চাল, ডাল, ওষুধ—সবকিছুর দাম বেড়েছে। ছেলের স্কুল থেকে নোটিস এসেছে, পরের মাসে ফি না দিলে নাম কাটা যাবে। মেয়েটার কাশিটা আবার বেড়েছে, ডাক্তার বদলাতে হবে কি না ভাবছে। ওষুধের নাম মুখস্থ, কিন্তু দামগুলো কেমন যেন প্রতিদিন বদলে যায়।
দুপুরে ফোন আসে। “আজও কিছু হলো না”—অনিরুদ্ধের গলায় ক্লান্তি। মাধবী শুধু বলে, “ঠিক আছে।” আসলে ঠিক কিছুই নেই, তবু এই কথাটুকুই ভরসা।
বিকেলে বিদ্যুতের বিল আসে। খাতায় নতুন অঙ্ক যোগ হয়। কোথা থেকে আসবে, কে জানে।
রাতে ছেলেমেয়েরা পড়তে বসে। ছেলে জিজ্ঞেস করে, “বাবা, তুমি কী কাজ করো?” অনিরুদ্ধ হাসে, উত্তর দেয় না। মাধবী বুঝতে পারে, এই হাসির ভেতরে জমে আছে অপমান আর অপেক্ষা।
ঘুমোবার আগে মাধবী হিসেবের খাতা বন্ধ করে। অনেক হিসেব আজও মেলেনি। আলো নিভে যায়। অন্ধকারে অনিরুদ্ধ বলে, “কাল আবার যাব।”
মাধবী শোনে। জানে—এই ‘কাল’ই তাদের শেষ ভরসা। কিন্তু কালটা ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, সেটাই অজানা থেকে যায়।

~জিয়াউর রহমান শিলন

Comment