কবিতাটির শিরোনাম: জগধম্প।
বিশাল বপু, বিশাল ভুঁড়ি, নামে জগধম্প,
হাঁটলে পরে মেদিনী দেয় বিষম এক লম্ফ।
বিদ্যে বুদ্ধি ঘটের কোণে, গিন্নি বলেন ‘বোকা’,
সারাটি দিন গিলছে বসে লুচি আর ধোঁকা।
চশমা জোড়া নাকের ডগায়, ভাবটা ভারী বিজ্ঞ,
আসলে লোকটা কাজের বেলা লবডঙ্কা, নগণ্য।
গলায় চাদর, হাতে লাঠি, গালভরা সব বুলি,
কথার তোড়ে উড়িয়ে দেয় মিথ্যে ধুলোর ঝুলি।
পাড়ার মোড়ে নীতি শেখায়, ধর্মকথা ঝাড়ে,
সুযোগ পেলেই পরের পকেট কাটতে তিনি পারে।
চাকরি করার মুরোদ নেই, ফন্দি আঁটে নিত্য,
ভাবখানা তার এমন যেন— বিশাল বড় বিত্ত।
হুকুম জারি করেন তিনি পাড়ায় এবং ঘরে,
তেলা মাথায় তেল মাখানোই স্বভাব জগত জুড়ে।
নিজের বেলায় আস্ত কলা, পরের বেলায় ছাই,
জগধম্পের মতো এমন স্বার্থপর আর নাই।
তর্ক যখন তুঙ্গে ওঠে, চেঁচান তিনি খ্যাপা,
যুক্তি দিলে উল্টে বলেন— “চুপ কর তুই ধ্যাপা!”
জগধম্পের দাপট দেখে হাসে পাড়ার লোকে,
মুখের ওপর না বললেও, বিদ্রূপ সব চোখে।

