Ziaur Rahaman Shilon

Ziaur Rahaman Shilon

রম্যগল্প: মেমোরি ফুল
মকবুল সাহেবের জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রু এখন তার স্মার্টফোন। ফোনের স্ক্রিনে যখনই ভেসে ওঠে ‘Memory Full’, মকবুল সাহেবের রক্তচাপ তখন মাউন্ট এভারেস্টে চড়ে বসে। তার ধারণা, এই ফোনটি আসলে জ্যান্ত এবং এটি তাকে হিংসে করে।
ঘটনার শুরু গত শুক্রবার। মকবুল সাহেব ঠিক করলেন তিনি ডায়েট করবেন। শখ করে এক বাটি সেদ্ধ করলা আর নিমপাতার রস নিয়ে সেলফি তুলতে গেলেন। যেই না হাসিমুখে ক্লিক করবেন, অমনি স্ক্রিনে ভেসে উঠল— “Storage full, delete some items.” মকবুল সাহেব খেপে গিয়ে বললেন, “আরে ভাই, করলার ছবি তুললে তো মেমোরি তিতো হওয়ার কথা না, ফুল হবে কেন?”
তিনি ডিলিট করতে গিয়ে দেখলেন, গ্যালারি ভর্তি হয়ে আছে তার বিড়াল ‘পান্তা’র হাই তোলার ভিডিও আর ঝাপসা সব খাবারের ছবিতে। এক ঘণ্টা ধরে বেছে বেছে ৫০০ ছবি ডিলিট করলেন। মনে শান্তি নিয়ে আবার ক্যামেরা খুললেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস! এবার ভিডিও রেকর্ড করতে যেতেই ফোন নোটিফিকেশন দিল— “Memory full again.”
মকবুল সাহেব এবার রেগে গিয়ে পাড়ার মোবাইল মেকানিক পল্টুর কাছে গেলেন। পল্টু ফোন চেক করে গম্ভীর মুখে বলল, “চাচা, আপনার মেমোরি তো ফুল হবেই। আপনি তো একই গ্রুপে ৫০০ বার ‘গুড মর্নিং’ এর গোলাপ ফুলের ছবি পাঠিয়েছেন, আর সেগুলো আপনার গ্যালারিতেই সেভ হয়ে আছে!”
মকবুল সাহেব বাড়ি ফিরে জেদ ধরলেন, সব ডিলিট করবেন। ডিলিট করতে করতে ভুল করে নিজের বিয়ের ভিডিও আর গিন্নির প্রিয় রান্নার রেসিপিও মুছে ফেললেন। গিন্নি যখন রাতে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “রেসিপিটা কোথায়?” মকবুল সাহেব আমতা আমতা করে বললেন, “আসলে ফোনের পেট ভরে গেছে তো, তাই ওগুলো হজম করে ফেলেছে!”
এখন অবস্থা এমন হয়েছে যে, কেউ ‘ফুল’ (Flower) উপহার দিলেও মকবুল সাহেব আঁতকে উঠে বলেন, “না না! ফুল লাগবে না, মেমোরি অলরেডি ফুল!”

Comment