কোচবিহারের আঞ্চলিক ভাষায় কবিতা: গেরস্ত বাড়ির কতা
হাল-বলদ আর জোয়াল নিয়া, পহাতে মাঠোত যাওয়া,
রোইদ-বৃষ্টি মাথায় করি, ঘাম ঝরানো হাওয়া।
একটু জমি, একটু আশা, এই নিয়া সংসার,
হামার বাড়িত অভাব আছে, নাই কো অহঙ্কার।
সকাল বেলা পান্তা ভাত, সাথে লুন আর মরিচ,
পেটটা ভরি খাইয়া কিষাণ, কামত দেয় যে পাড়িছ।
ঘরোর মাওটা ঢেঁকি পাড়ায়, চাউল ঝাড়ে কুলাত,
ছেঁড়া শাড়ি পিঁধিলেও হাসি, আছে তাহার মুখত।
বেড়া ভাঙা টিনোর চাল, বর্ষাত পানি পড়ে,
তাও তো ভাই ভালোবাসা, এই কুঁড়ে ঘরোর তরে।
পড়শীরা সব এক সাথে রয়, আপদ-বিপদ কালে,
একজনে কান্দিলে সবাই, চোখের পানি ঢালে।
হাটে গিয়া সওদা করি, দু-চার আনা বাঁচায়,
সেই টাকাতে ছাওয়াগুলাক, নতুন জামা পিন্ধায়।
সাঁঝ বেলাতে দাওয়াত বসি, বুড়া-বুড়ির গপ্পো,
সুখটা হামার মনের ভিতর, চাই না সোনা রূপো।
নদী নালা, আবাদি জমি, কাম করি খাই ঘামি,
সোনার চেয়েও হামার গ্রামর, কাদা মাটি দামি।
Ziaur Rahaman Shilon

Comment
