কোচবিহারের আঞ্চলিক ভাষা:
অভাবের গেরস্তালি (সংসার জীবন)
সকাল বেলা সূর্য উঠার আগেই বুড়া বাপটা কাঁচি হাতে মাঠোত যায়,
পিছনত বৌটা ছাওয়াগুলাক লইয়া ছাই-পাঁশ দিয়া বাসন মাজে।
হাঁড়ি গাবলার শব্দত ঘুম ভাঙ্গে পাড়ার কুকুরটারও,
কিন্তু ঘরের অভাবটা যেন কোনোদিনও ঘুমায় না, জাগি থাকে।
চালার টিন দিয়া আকাশ দেখা যায়, বর্ষাত থালা পাতি পানি ধরে,
তাও তো এই ঘরখান ছাড়ি কুটি যাওয়া যায় না—মায়া বড়ো দায়।
হাটোত গিয়া যখন দুইটা পয়সা বাঁচে, তখন ছাওয়ার হাতে লজেন্স পড়ে,
সেই হাসিখান দেখি বাপের সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনি জল হয়া যায়।
হামার কোচবিহারের মানসিগুলা বড় অভাবী, কিন্তুক বড় দয়ালু,
নিজে উপাস থাকিও মেহমান আসিলে ডাকি নিয়া সিতল পাটি বিছে দেয়।
সংসার মানে তো খালি খাওয়া-পরা লহায়, একে অপরের মন বুঝা,
একনা থালাত মরিচ দিয়া ভাত ভাগ করি খাওয়াতেই যত সুখ।
রাইত হইলে কুপি জ্বালায় যখন ছাওয়াগুলা পড়ির বসে,
বাপটা ভাবে—হামি তো মূর্খ হইনু, ছাওয়াটা যেন মানুষ হয়।
এই আশা নিয়া জীবনটা কাটি যায়, চৈত্র মাসের খরা পার হয়া আষাঢ় আইসে,
নদীর পারের ভাঙা ঘরখানাত এ্যালাও ভালোবাসার প্রদীপ জ্বলে।
কেউ হাসে, কেউ কান্দে, কেউবা ভাগ্যের দোষ দেয়—
তাও তো পরদিন সকালে আবার সেই একনা ঘানি টানা শুরু হয়।
ইটাই হামার রাজবংশী পাড়ার প্রতিদিনের চেনা ছবি,
দুঃখের মাঝেও সুখ খুঁজি নেওয়ার এক আজব জাদু জানে হামার মানসি।

