কুড়ির সমীকরণ: ডিজিটাল উপাসনা
পঞ্জিকার পাতা উল্টে এখন আর কেউ শুভক্ষণ খোঁজে না, সবাই খোঁজে স্মার্টফোনের নোটিফিকেশন। ভক্তি এখন আর মনের মন্দিরে থাকে না, সেটা এখন হাই-স্পিড ইন্টারনেটে আপলোড হয়। তীর্থস্থানে গিয়ে মানুষ এখন চোখ বুজে প্রার্থনা করে না, বরং ভালো ‘ফ্রেম’ খোঁজে সেলফি তোলার জন্য। কুড়ির এই নতুন আইনে, দান করার চেয়ে দানের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করাটা বেশি পুণ্যের কাজ। জপমালার দানার চেয়ে কিবোর্ডের বাটনগুলো এখন বেশি পবিত্র, ওখানেই তো চলে ধর্মের লড়াই।
মোক্ষ লাভের চেয়েও এখন জরুরি হলো স্ট্যাটাসে কতগুলো ‘লাইক’ আর ‘রিঅ্যাক্ট’ পড়ল। উপবাসের কষ্ট এখন আর পেটে থাকে না, সেটা ছবির ক্যাপশনে করুণ হয়ে ফুটে ওঠে। গুরুমশাই এখন আর টোলে বসে শাস্ত্র পড়ান না, তিনি এখন ইউটিউবে ‘ভাইরাল’ হওয়ার কৌশল শেখান। মন্দিরের ধূপের গন্ধের চেয়ে এখন ফিল্টারের জৌলুস ভক্তদের বেশি টানে। ধর্মের দোহাই দিয়ে অধর্ম করাটাই এখনকার যুগের সবথেকে বড় ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আগে লোকে পাপ করলে গঙ্গা স্নান করত, এখন লোকে পাপ লুকাতে প্রোফাইল পিকচার বদলায়। তসবিহ বা তিলক এখন আর বৈরাগ্যের চিহ্ন নয়, ওটা এখন স্রেফ সাজগোজের অনুষঙ্গ। শাস্ত্রের গূঢ় কথা কেউ পড়ে দেখে না, সবাই শুধু ফরওয়ার্ড করা মেসেজে বিশ্বাস খোঁজে। বিনয় এখন ব্যাকডেটেড শব্দ, অহংকারই এখন আধ্যাত্মিকতার নতুন লেবাস। স্রষ্টার সাথে সংযোগের চেয়ে রাউটারের সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়াটা এখন বড় দুর্যোগ।
দয়া আর মায়া এখন স্রেফ কমেন্ট বক্সের ইমোজিতে বন্দি হয়ে ছটফট করছে। লোকে স্বর্গ-নরক ভুলে গিয়ে এখন ‘ট্রেন্ডিং’ লিস্টে জায়গা পাওয়ার সাধনা করে। বিবেক এখন ঘুমিয়ে থাকে এসির বাতাসে, আর বাইরে চলে ধর্মের নামে উচ্চকিত চিৎকার। দিনক্ষণ মেনে চললেও আমরা ভুলেই গেছি যে মনটা পরিষ্কার রাখা সবথেকে বড় আচার। কুড়ির এই ডিজিটাল আইনে ধর্ম এখন স্রেফ একটা বিনোদন, যেখানে মানুষ নিজেই নিজের ঈশ্বর।
Ziaur Rahaman Shilon

Comment
