মহাকাশের হাহাকার: এক মহাজাগতিক ক্যাচাল
প্রকৃতি মা আজ ভীষণ চটা, মুখটি করেছেন ভার,
বলছেন, “এই গ্রহ-নক্ষত্র সামলানো যে দায় আমার!”
সূর্যি মামা দিচ্ছে তাতিয়ে, রাগে লাল তার গাল,
সৌরজগৎ সামলাতে গিয়ে প্রকৃতি আজ নাজেহাল।
চাঁদ বেচারা দাগি মুখ নিয়ে রাতভর দেয় পাহারা,
গ্রহাণুরা সব ছুটছে যেন পাগল বাউন্ডুলে ছন্নছাড়া।
বৃহস্পতিটা ভুঁড়ি বাড়িয়ে খাচ্ছে বসে মহাকাশ,
শনি বলছে, “আমার বলয় দেখে কেন সবাই হয় উদাস?”
মঙ্গলটা বড্ড একগুঁয়ে, সারাক্ষণ সে তেতে থাকে,
গ্রহাণুপুঞ্জ ধাক্কা মারে একে অপরের বাঁকে।
ব্ল্যাকহোলটা হা করে আছে, গিলে খাবে সব তারা,
নক্ষত্ররা ভয়ে দিচ্ছে শুধু গুমোট আঁধারে সাঁতরা।
পৃথিবী বলছে, “বায়ুমণ্ডলটা ছিঁড়েছে যে ভাই ওজোন,
মানুষেরা সব ধোঁয়া ছড়িয়ে বাড়াচ্ছে আমার ওজন।”
নাইট্রোজেন আর অক্সিজেন আজ করছে শুধু ঝগড়া,
কার্বন-ডাই-অক্সাইড বলছে, “আমিই এখন তগড়া!”
ধূমকেতু সব লেজ উঁচিয়ে দিচ্ছে কেবল লম্বা দৌড়,
নক্ষত্ররা মিটিমিটি হেসে ভাবছে, “আমরাই সব গৌড়!”
উল্কাপাতরা আছড়ে পড়ছে যেখানে সেখানে হুটহাট,
প্রকৃতি ভাবছে, “বন্ধ করা চাই এই মহাজাগতিক হাট।”
মহাকাশ জুড়ে চলছে যেন এক বিশাল হ জ ব র ল,
কারো নেই বুদ্ধি, নেই কারোর মাথায় একটুখানি ঘিলু!
গ্রহরা সব লাট্টু হয়ে ঘুরছে নিরন্তর পাকে পাকে,
শান্তি কি আর মিলবে কোনোদিন এই ব্রহ্মাণ্ডের বাঁকে?
Ziaur Rahaman Shilon

Comment
