রম্য অণুগল্প: অঘটন যখন শুভক্ষণ
অফিস থেকে ফেরার পথে গিন্নি ফোন করে ফরমায়েশ দিলেন, “ফেরার পথে অবশ্যই এক কেজি রসগোল্লা আর পাঁচ কেজি আলু নিয়ে আসবে। ভুলো না যেন!”
আমিও বাধ্য স্বামীর মতো বাজারের থলি হাতে দোকানে গিয়ে হাজির হলাম। কিন্তু মুশকিল হলো, দোকানের ভিড়ে আর ফোনের নোটিফিকেশনের ঠেলায় মাথাটা একটু গুলিয়ে গেল। রসগোল্লা কিনলাম ঠিকই, কিন্তু আলুর বদলে বাড়ি নিয়ে এলাম পাঁচ কেজি বড় সাইজের পেঁয়াজ!
ঘরে ঢুকতেই গিন্নি প্যাকেট খুলে হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন, “এ কী! আলুর বদলে পেঁয়াজ কেন? আজ কি পেঁয়াজের পায়েস হবে না কি?”
আমি অপ্রস্তুত হয়ে আমতা আমতা করছি, এমন সময় পাশের ঘরের জানলা দিয়ে পাড়ার সবচেয়ে হাড়কিপ্টে হিসেবে পরিচিত নিবারণ কাকা মুখ বাড়িয়ে বললেন, “ওহে ভায়া, শুনলাম তুমি নাকি ভুল করে প্রচুর পেঁয়াজ কিনে ফেলেছ? তা বাজারে তো আজ পেঁয়াজের দাম আকাশছোঁয়া! তুমি বরং পেঁয়াজগুলো আমায় দাও, আমি তোমায় তার বদলে দশ কেজি আলু আর এক বক্স ভালো সন্দেশ দিচ্ছি।”
গিন্নি তো অবাক! নিবারণ কাকা নিজে থেকে কিছু দিচ্ছে—এ তো মেঘ না চাইতেই জল। অদলবদল হয়ে যাওয়ার পর গিন্নি হাসিমুখে বললেন, “যাক, তোমার এই ভুলো মনের জন্যই আজ লাভের মুখ দেখলাম। ভাগ্যিস তুমি আলু আনতে ভুলেছিলে!”
আমি মনে মনে হাসলাম। আসলে ডিজিটাল যুগে মাঝেমধ্যে ‘সিস্টেম এরর’ হওয়াটাও যে পকেটের জন্য বেশ লাভজনক হতে পারে, সেটা আজ হাড়ে হাড়ে টের পেলাম। ভুল করেই যখন ফাউ মিষ্টি জুটে গেল, তখন আর আপসোস কিসের!

