Ziaur Rahaman Shilon

Ziaur Rahaman Shilon

‘ফুরিয়ে আসা চালের কৌটা’
মাঝরাত। কুপি বাতির টিমটিমে আলোয় রহিমা বেগম ভাতের হাঁড়ির তলানিটুকু খুঁটে দেখছিলেন। সেখানে বড়জোর এক মুঠো ভাত অবশিষ্ট আছে। কাল সকালে সাত বছরের ছেলেটার মুখে কী তুলে দেবেন, সেই চিন্তায় তার দুচোখে ঘুম নেই। স্বামী লোকমান দিনমজুর, কিন্তু তিনদিন ধরে জ্বরে শয্যাশায়ী। ঘরে এক আনা পয়সাও নেই।
গত মাসে ছিঁড়ে যাওয়া শাড়িটা রহিমা তালি দিয়ে পরছেন, কিন্তু পেটের ক্ষুধা তো আর তালি দিয়ে ঢাকা যায় না। লোকমান পাশ ফিরে কাশতে কাশতে জড়িয়ে যাওয়া গলায় বললেন, “রহিমা, একটু পানি দাও তো। পেটে যেন আগুন জ্বলছে।” রহিমা এগিয়ে গিয়ে গ্লাসে পানি দিলেন, কিন্তু জানতেন ওই আগুনে পানি ঢেলে লাভ নেই; ওটা ক্ষুধার আগুন।
সকালে ছেলেটা ঘুম থেকে উঠে বাসি ভাতের জন্য বায়না ধরল। রহিমা নিজের ভাগের টুকু অনেক আগেই সরিয়ে রেখেছিলেন। আলগোছে লোকমান আর ছেলের পাতে সেই সামান্য ভাতটুকু ভাগ করে দিলেন। ছেলেটা গপগপ করে খেয়ে জিজ্ঞেস করল, “মা, তুমি খাবা না?”
রহিমা মলিন হেসে বললেন, “আমার শরীরটা ভালো লাগছে না বাবা, তুই খা।”
চুলার পাশে বসে রহিমা খালি হাঁড়িটা ধুতে গেলেন। পাথরের মতো ভারী বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠল। পরনের কাপড়ে হাজারটা তালি, পেটে ক্ষুধা, আর কালকের অজানার ভয়—এই নিয়েই রহিমার সংসার। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর এই বৃত্তে ভালোবাসা আছে, কিন্তু পেট ভরার মতো অন্ন নেই।

Comment