“একই দিনে দুই বিদায়—কবর থেকে দেখা বাসর”
একই রাতে জ্বলল আলো—দুই ঘরের দুই রঙ,
তোমার ঘরে হাসির ঢেউ, আমার ঘরে নীরব ঢঙ।
তুমি বসলে সাজের মাঝে, স্বপ্নভরা চোখে,
আমি শুয়ে কফনের ভেতর, মাটির নীরব বুকে।
তোমার হাতে মেহেদির রঙ, লাল হলো জীবন,
আমার হাতে শুধু মাটি—শেষ হলো স্পন্দন।
তুমি শুনলে ভালোবাসার হাজার প্রতিশ্রুতি,
আমি শুনি মাটির নিচে নীরবতার নীতি।
তোমার চারপাশে আলো, সুর, আনন্দের ধারা,
আমার চারপাশে নীরবতা—অন্ধকারের কারা।
তুমি পেলে নতুন স্বপ্ন, নতুন জীবনের ডাক,
আমি শুধু স্মৃতির ভেতর নিঃশব্দে করি হাঁটাচলা একাক।
তোমার কপালে সিঁদুর রাঙা, সুখের রঙিন ছোঁয়া,
আমার কপাল ঢেকে রাখে মাটির শীতল চাদর বোনা।
তোমার ঘরে উৎসব বাজে, ভালোবাসার গান,
আমার ঘরে শুয়ে থাকে এক নিঃশব্দ প্রাণ।
তবু জানো—
এই অন্ধকার কবর থেকেও, তোমার জন্য চাই আলো,
তোমার হাসি অটুট থাকুক—এই দোয়াই আমার ভালো।
তুমি থেকো সুখের ঘরে, প্রিয়জনের সাথে,
আমি থাকি নিঃশব্দ হয়ে—আল্লাহরই পথে…
তুমি যখন রাতের শেষে স্বপ্ন নিয়ে ঘুমাও,
আমি তখন নিঃশব্দ কবরেও তোমার জন্য দোয়া চাই।
তোমার প্রতিটি হাসিতে যেন না লাগে কোনো দাগ,
আমার সব কষ্ট নিয়েই থাকুক মাটির গভীর ফাঁক।
তুমি পেয়েছো ভালোবাসা, পূর্ণ জীবনের স্বাদ,
আমি পেয়েছি নীরবতা—শেষের অমলিন সাধ।
তোমার জীবন এগিয়ে যাক আলোয় ভরা পথে,
আমার গল্প থেমে থাকুক কবরেরই গহীনে।
তুমি ভুলে যেও যদি—তাতে আমার ক্ষতি কী?
ভালো থেকো, এটাই শুধু শেষ চাওয়া ছিল যে-কি।
শেষ হয়ে গিয়েও যেন শেষ হইনি আমি,
তোমার সুখের খবরেই জুড়ে যায় আমার নামই।
মাটির নিচে থেকেও আজ আকাশ ছুঁয়ে চাই—
তোমার প্রতিটি হাসিতে আমার দোয়া পাই…
একই দিনে লেখা ছিল দু’জনার দুই গাথা,
তুমি হলে জীবনের গান, আমি নীরব ব্যথা।
তবু এই দূরত্ব পেরিয়ে, এক অদৃশ্য বন্ধন রয়,
ভালোবাসা মরে না কখনো—রূপ বদলে সয়ে যায়…

