মোঃ ফখরুল ইসলাম সাগর।

মোঃ ফখরুল ইসলাম সাগর।

কাঠগড়ায় ভালোবাসা

চল আজ আমাদের মাঝের
অদৃশ্য দেয়ালগুলোর পরিমাপ করি,
একটুখানি হিসেব কষে দেখি—
কেমন করে আমরা জীবন গড়ি।

তুমি তোমার মস্ত আকাশে
স্বাধীন মনে মেলো দুটি ডানা,
আর আমার এই একচিলতে উঠোনে
সব কিছুতেই কেন এত মানা?
চল আজ এই চেনা অভিনয়ের
মুখোশটা টেনেই ছিঁড়ি,
মুখোমুখি বসে দুজনে আজ
সত্যের আলোয় ওপরে সিঁড়ি।

আসল খটকাটা তো
ঠিক এইখানটাতেই এসে বাঁধে,
তোমার ডায়েরির সব শেষ কথা—
কেন আমার কপালে শুধু কাঁদে?
তোমার ইচ্ছেগুলোর ওপর তো
কখনো কোনো পাহারা বসেনি,
তবে আমার প্রতিটা নিশ্বাসের আগে
কেন অনুমতির মস্ত হাতছানি?

তোমার কি একটুও মনে হয় না
এটা বড্ড কঠিন আর অন্যায়?
যেখানে সম্পর্কের দাঁড়িপাল্লায়
তোমার দিকটাই সারাক্ষণ জেতায়!
আর আমার ভাগে শুধুই থাকে
সব মেনে নেওয়ার মস্ত বাধ্যবাধকতা,
চল আজ ঝেড়েই ফেলি আমরা
এই দুমুখো ভালোবাসার সব নীরবতা।

আচ্ছা, আমার নিজের মতো করে
একটুখানি প্রাণখুলে হাসার জন্য,
কেন রোজ তোমার মুখের দিকে
চেয়ে থাকতে হবে অনুমতির জন্য?
তোমার ওই ঠান্ডা মেজাজ আর
‘হ্যাঁ’ কিম্বা ‘না’-এর লড়াইয়ের মাঝে,
কেন প্রতিদিন আমার স্বপ্নগুলোকে
খুন হতে হবে সন্ধ্যার সাজে?

সমাজের তৈরি সব কঠিন নিয়ম,
সব লোকদেখানো ত্যাগের বোঝা,
কেন কেবলি এই নরম কাঁধটার
ওপর এসে পড়ে করতে সোজা?
আমার বেঁচে থাকাটা কেন
তোমার ওই সংকীর্ণ মর্জির মুখাপেক্ষী হবে?
সংসারের এই একতরফা নিয়ম
আর কতকাল এভাবে চলবে?

যদি এই ঘর-সংসারের সুতোয়
আমাদের অধিকার সমানই হয়ে থাকে,
তবে একতরফা পুড়বার আগুনটা
কেন শুধু আমার বুকেই ডেকে রাখে?
তুমিও কেন আমার মতো
একটু মাথা উঁচিয়ে বাঁচার টানে,
ভেটারে ভেতরে ছটফট করো না
এই চেনা সম্পর্কের মানে?

বলার তো অনেক কথাই ছিল,
জমে আছে আজন্মের কষ্ট আর ক্ষত,
কিন্তু শেষ একটা খাঁটি প্রশ্ন
আজ তোমাকেই করতে চাই মনের মতো—

আমার গল্পে যদি শুধু
মাথা নিচু করার ‘উত্তর’ লেখা থাকে,
তোমার ডায়েরিতে তবে কখনো
কোনো ‘প্রশ্ন’ দানা বাঁধে না কেন তবে?

Comment