নাদিয়া রিপাত রিতু

শিশির কণা
নাদিয়া রিপাত রিতু
পর্ব – ৬

শিশির খাবার নিয়ে এলো,,,, খাবার দেখে রুবি আর  বললো ভাইয়ে পছন্দের সব খাবার,,,,রেহেনা ছোট করে বললো রায়ানের মন জয় করার চেষ্টা করছে বুঝচ্ছিস না,,,,,

রুবি ঐ জন্য তো ভাইকে দেখানোর জন্য ভাইয়ের পছন্দ মত শাড়ি পড়লো,,,,,,সেজে গুজে পটের বিবি হয়েছে,,,,

রেহেনা: যতই চেষ্টা করুক এই মেয়েকে আর আমার বাড়ির চৌকাঠ পেড়োতে দিবো না,,,,,

শিশির বললো: সবাই খাবার শুরু করুন,,,,,,
আয়ান ওদের খেতে বসলো,,,,,

রায়ান খাবার মুখে নিয়ে বুঝে গেলো সব  রান্না শিশির করেছে ,,, শিশিরের হাতের পায়েস রায়ান অনেক পছন্দ করতো,,,,,
রেহেনা ছোট করে রায়ানকে বললো এসব দেখে আবার গলে যাসনা,,,,এসব তোকে গলানোর জন্য করছে,,,,,

সবাই খাবার শেষে করে,,, টেবিলে বসলো।
আয়ানকে শিশিরের চাচিদের ঘরে দিয়ে আসলো খেলার জন্য,,,,
এরপরে,,,, রায়ান বললো শিশিরের বাবা মাকে ,,,, আপনাদের মেয়ে নিশ্চয়ই আপনাদের সবটা বলেছে,,,,,

শিশিরের বাবা জাহেদ: হ্যাঁ বলেছে,,,তোমাদের দুজনকেই একটা কথাই বলবো,,,,তোমরা দুজনে একটা বার ভেবে দেখো তোমাদের এই সম্পর্কটা শুধু তোমাদের দুজনের না,,,,
তোমাদের বাচ্চার জীবন ও জড়িয়ে আছে,,,,,

রায়ান: জানি আমার বাচ্চাকে নিয়ে চিন্তা তো ওকে আমি নিয়ে যাবো,,,,,আমি দরকার হয় সারাদিন দেখার জন্য মহিলা রাখবো।আপনাদের ওর দায়িত্ব  নিতে হবেনা,,,,ওর জন্য আপনাদের কোনো খরচ হবেনা,,,,
রেহেনা: দাদুভাইকে আমরা দেখবো,,,খরচের জন্য চিন্তা করছেন,,তো,, শিশির আলাদা হয়ে গেলে বসিয়ে খাওয়াতে হবে,,,,, আপনাদের ঘরে বোঝা বাড়বে,,,,,সে তো এতদিন আমাদের ঘাড়ে বসে বসে খাচ্ছিলো,,,,

শায়লা: এখানে  বোঝার কথা আসলো কিভাবে  আপনি কি তাহলে আপনার,,,,মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন বোঝা কমানোর জন্য,,,,, আর শিশিরকে আপনারা বসিয়ে বসিয়ে খাওয়ান নাই এটা আমরা খুব ভালো করে জানি,,,,,দাসীর মত খাটিয়ে আজ আমার মেয়ে আপনার জন্য খারাপ হয়ে গেলো,একটা সংসার নষ্ট হচ্ছে একটা বাচ্চার জীবন নষ্ট হচ্ছে এটা দেখতে পাচ্ছেন না আপনারা,,,,,,,

রেহেনা: আমার মেয়েকে নিয়ে একটা কথা বলবেন না ,,,”ও আমার রাজকন্যা”

শায়লা: আপনার মেয়ে আপনার জন্য রাজকন্যা আর আমার মেয়ে দাসী তাইনা,,,,,,,

জাহেদ: তোমরা চুপ করবে এখন এসব নিয়ে ঝগড়া করার সময় না। ঠান্ডা মাথায় যুক্তি দিয়ে কথা বলো।

দেখো একটা কথা ভেবে দেখো সবাই,,,,রায়ান শিশিরকে ছেড়ে দিলে শিশিরের খুব বেশি ক্ষতি হবে না,,,,রায়ানের ক্ষতি হবে না,,,,ও আরেকটা বউ পাবে,,,,,
কিন্তু আয়ান মা- বাবা স্নেহ থেকে বঞ্চিত হবে।
জীবন নষ্ট হবে আয়ানের।

রায়ান এখন এসব বলে কোনো লাভ নেই ডিভোর্স পেপারে অলরেডি সাইন করা হয়ে গেছে। কোর্টের মাধ্যমে কার্যকর হলে সব ঝামেলা শেষ,,,,,,আমি পারবোনা শিশিরের সাথে সংসার করতে,,,,

কথাটা রায়ান খুব সহজে বলে দিলে ও কথাটা বন্দুকের বুলেটের মত গিয়ে লাগে শিশিরের বুকে,,, শিশির চোখে বিন্দু বিন্দু জল ,,,,,

শিশির বললো ,,,,বাবা আমি আয়ানের জন্য একটু ইমেশনাল হয়েছিলাম আমার একার চাওয়াতে কিছু হবে না ,,,যা হচ্ছে হতে দাও।

রায়ান: আচ্ছা আমরা  যাচ্ছি,,,,,,, দেখা হচ্ছে খুব শিঘ্রই দেখা হবে।

শিশির: রুমে চলে গেলো কারো সাথে কোনো কথা না বলে।
এরপর কান্না করতে লাগলো,,,,,আর ভাবতে লাগলো একটা মানুষ কিভাবে বদলাতে পারে,,,,”যে রায়ান শিশিরকে এক দেখায় বিয়ে করার জন্য পাগল হয়ে গিয়েছিলো,,,,,সবাইকে বলেছিলো ওকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবোনা,,,,আজ সেই রায়ান বলছে শিশিরের সাথে  সংসার করতে পারবো না”

(আজকের পর্ব কেমন হয়েছে বলবেন )

Comment