সমর্পণের মানচিত্র
ড. বিশ্বাস আমিন
১.
ভালোবাসি বললেই কি আর আকাশ ছোঁয়া যায়?
শব্দরা তো কেবল বাতাসের চপল ঢেউ মাত্র।
অথচ ভালোবাসা এক গভীর খনন কাজ,
যেখানে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকে আস্ত এক নগরী—
যার প্রতিটি ইটের নাম ‘দায়িত্ব’, প্রতিটি অলিগলি ‘যত্ন’।
সেখানে মায়ার কারিগর নিরন্তর বুনে চলে মখমল ছায়া।
২.
তুমি যখন বলো পাশে আছো, আমি দেখি এক বিশাল বটবৃক্ষ;
যার শিকড় মাটির গভীরে, অথচ ডালপালা মেলে দেয় অভয়।
রোদে পোড়া দুপুরে সেই ছায়া হয়ে ওঠাই তো আসল ব্যাকরণ।
মানুষ কি জানে, মৌনতাই কখনো কখনো সবথেকে বড় চিৎকার?
পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু শরীরী উপস্থিতি নয়,
বরঞ্চ ঝড়ের রাতে অন্যের কম্পন নিজের বুক দিয়ে আগলে রাখা।
৩.
নদী যেমন দুকূল বিলিয়ে দিয়ে তবেই সাগর পায়,
ভালোবাসাও ঠিক তেমনি এক ‘সর্বস্ব ত্যাগের’ মহড়া।
এখানে শূন্য হাত মানেই হলো পূর্ণতার ইঙ্গিত—
নিজের আমির দেয়াল ভেঙে অন্যের জন্য আকাশ হওয়া।
ধন্দটা এখানেই—লোকে ভাবে হারালো সব,
অথচ এই রিক্ততার মাঝেই ফুটে ওঠে অবিনাশী এক রাজত্ব।
৪.
আবৃত্তি করলে মনে হবে জলপ্রপাত নামছে পাথরের ভাঁজে—
শুষ্ক শব্দের আড়ালে লুকানো এক আর্দ্র জীবনবোধ।
ভালোবাসি মানে হাতুড়ির ঘায়ে পাথর ভেঙে মূর্তি গড়া নয়,
বরঞ্চ আগলে রাখা এক কাঁচের আয়না—
যেখানে নিজের চেয়ে অন্যের বিম্বটিই বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ত্যাগ মানে মৃত্যু নয়, ত্যাগ মানেই হলো শ্রেষ্ঠ বেঁচে থাকা!…
