রূপান্তর নেই (অণুগল্প)
প্রদীপ সেন
মেয়ে অন্তরাই বুদ্ধিটা দেয়। সনাতন ভেবে দেখল সুযোগটা মন্দ নয়। মানুষের মনস্তত্ত্ব বুঝে পা বাড়িয়েই ব্যবসায় উন্নতি, কুর্সিলাভে সাফল্য।
শাসমলবাবুর কাছ থেকে মাসিক পাঁচ টাকা হারে পঞ্চাশ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিল সনাতন। বড়ো মেয়েটাকে পার করা গেল। কিন্তু দিনমজুর সনাতন ফেঁসে গেছে ঋণের ফাঁদে। মাসের পাঁচ তারিখটা যেন সনাতন ও বউ খুশির জন্য এক বিভীষিকা। সুদের টাকা চার -পাঁচ তারিখের মধ্যে মিটিয়ে না দিলে বসন্ত শাসমল সকালেই বাড়ি এসে পাড়া মাথায় তুলে টাকা আদায় করে তবেই ক্ষান্ত হন।
খুশি পরের বাড়িতে বাসনমাজা, কাজ করে মাসে দু’হাজার করে পায়। তার সাথে আরো পাঁচশো যোগাড় করে শাইলকের জন্য। লোকে ওই নামেই ডাকে তাকে।
সাত তারিখ। বহু কষ্টে টাকা জমিয়ে, দুধেল গাই আর বাছুরটাকে বিক্রি করে টাকাটা নিয়ে সনাতন বসন্ত বাবুর বাড়ি গেল। সদ্য কুম্ভস্নান সেরে ফিরেছেন তিনি। না, আসলের সাথে সুদ দিতেই হলো। অনেক টাকা গেছে তার পুণ্যস্নানে।
ফিরে আসতে আসতে সনাতন ভাবে কুম্ভে ডুব দিলেও কয়লা কয়লাই থাকে। কয়লার রূপান্তর নেই।

