Rayhana yeasmin

Rayhana yeasmin

“লিপস্টিক”
সেই কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছি, দোকানি কিছুতেই উত্তর দিচ্ছেন না। পড়ে আছেন অন্য দুজন মহিলাকে নিয়ে। পাঁচ-ছয় বার হয়ে গেছে। ভাবলাম, আরেকটু অপেক্ষা করি।
দেখলাম, কী করে গলে গলে বলছে—
“আরে ম্যাডাম, আপনি যেটাই পরবেন অপূর্ব লাগবে আপনাকে। নিন না, যেটা খুশি নিন। আপনার সঙ্গে দাম নিয়ে কোনো দ্বিমত হবে না, ম্যাডাম। কোনটা কোনটা দেবো?”
“না, দেখে আসি আরেকটু,” বলেই সঙ্গিনীকে নিয়ে চলে গেলেন।
আমি ও বাঁচলাম। বললাম—
“এখন পর্যন্ত আপনি ওড়নাটার দাম বলেননি, এখন বলেন।”
“ও, আন্টি, এটা? তিনশ পঞ্চাশ টাকা।”
আমাকে আন্টি বলল, আর ওনাদের ম্যাডাম! ওসব পাত্তা না দিয়ে বললাম—
“আচ্ছা, দুশো দিই?”
“না, আন্টি, তিনশ দেন।”
টাকা বের করতে করতে কৌতূহলবশত জিজ্ঞেস করলাম—
“আচ্ছা, তোমার ওই ম্যাডামকে খুব তো সময় দিলে। তা উনি এত সময় নিয়ে দেখেও তো নিলেন না।”
দোকানি আমাকে আন্টি বলল, আর বয়সে সে আমার চেয়ে দশ-বারো বছর ছোটই হবে। তাছাড়া প্রথম দেখায় সবাইকে আমি ‘আপনি’ই বলি।
তো ছেলেটি উত্তরে যা বলল—
“আন্টি, খেয়াল করছেন? উনি টকটকে লাল লিপস্টিক দিয়ে মার্কেটে আসছেন। কী মেকআপ করছেন! এরা অনেক টাকা নিয়া আসে। নিলে একসাথে আট-দশটা নেয়। এরা দরকারে কিনে না, শখে কিনে। ওনারা মুডে চলে। একটু তোয়াজ করলে আমার মাসের বেচা হইয়া যায় একসাথে। আর আপনি আসছেন দরকারে। আপনি দাঁড়িয়ে থাকবেন, কিন্তু উনি বা ওনার মতো সবাই দাঁড়ান না। পটাইয়া ধইরা রাখতে হয়।”
আমি হা হয়ে শুনছিলাম।
“তা তুমি এত বুঝ?”
“হ্যাঁ, আন্টি। অভিজ্ঞতা, অভিজ্ঞতা।”
“ও, তা কত বছর ধরে কাপড় বিক্রি কর?”
“এই চার-পাঁচ বছর ধইরা।”
ও শুদ্ধ আর আঞ্চলিক মিশিয়ে কথা বলতে শুরু করল।
“আর টকটকে লাল লিপস্টিক দেওয়া ম্যাডামরাই আমার লক্ষ্মী কাস্টমার। আপনার মতো মেকআপ ছাড়া যারা, ওনারা খুব হলে দুইটা—এর বেশি না। আর দরকার বলেই আসছেন, তাই অপেক্ষা করবেন।”
“ও…” বলে আমার কেনা ওড়নার প্যাকেট নিয়ে তাড়াতাড়ি বাড়ির পথ ধরি।

Comment