Asmita Saha

সঙ্গম সাহিত্য (সংগৃহীত)

সঙ্গম সাহিত্য মূলত প্ৰাচীন তামিল ভাষায় রচিত। সঙ্গম সাহিত্যকৰ্ম গুলো প্ৰাচীন তামিল সমাজ, সংস্কৃতি, প্ৰেম, বীরত্বগাঁথাকে তুলে ধরে। সঙ্গম সাহিত্য -এর সময়কাল খ্ৰিষ্টপূৰ্ব৩০০-৬০০খ্ৰিষ্টাব্দ পৰ্য্যন্ত।প্ৰধানত প্ৰেম (আকম্) ও বীরত্বের কবিতা (পুরম্) সঙ্কলিত হয়েছিল সঙ্গম সাহিত্যে।

মাদুরাই শহরে কবি ও পণ্ডিতদের তিনটি সঙ্গম অনুষ্ঠিত হয়েছিল যাকে মুচ্ছাঙ্গম্ নামে পরিচিত। সঙ্গম গুলো দক্ষিণভারতের পাণ্ড্য রাজাদের রাজকীয় পৃষ্ঠপোষতায় সমৃদ্ধ হয়েছিল। প্ৰাচীন ভারতের ইতিহাসে সঙ্গম যুগ একটি গুরুত্বপূর্ন পর্যায়। সঙ্গম সাহিত্যকারেরা ছিলেন তামিল কবি। সঙ্গম সাহিত্য -এ তিনটি সঙ্গম বা কবি পরিষদের কথা জানা যায়।

প্ৰাচীন মাদুরাই শহরে প্ৰথম সঙ্গম স্থাপিত হয়েছিল।এই কবি পরিষদের সভাপতি আসন অলংকৃত করেছিলেন সিদ্ধার অগস্তিয়ার। দ্বিতীয় সঙ্গম প্ৰতিষ্ঠা হয়েছিল কাপতাপুরম্ শহরে।আর তৃতীয় সঙ্গম টি স্থাপিত হয়েছিল উত্তর মাদুরাই শহরে।এই তিনটি কবি পরিষদের মাধ্যমে বহু কবিতা ও গ্ৰন্থ রচিত হয় সঙ্গম সাহিত্যে। ঐতিহাসিক শ্ৰীনিবাস আয়েঙ্গার মনে করেন সঙ্গম সাহিত্য তিন ভাগে ভাগ হয় -১.বৰ্ননামূলক দশটি কবিতা,২.অষ্টসঙ্কলন,৩.অষ্টাদশ নীতিমূলক কবিতা। তথ্যানুসারে জানা যায়, সীওলৈ সাওনার ‘মণিমেখলাই’ রচনা করেন শিলপ্পাদিকারম্ রচনা করেন ইলাঙ্গ আদিগল।

শিলপ্পাদিকারম্ -এ প্ৰেমবিরোধিতার কাহিনী ও আধ্যাত্মিকতা আর মানবসেবার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। আর ‘মণিমেখলাই ‘হল প্ৰাচীন তামিল সাহিত্যের একটি মহাকাব্য। তামিল বৌদ্ধ পৌরাণিক কাহিনী মণিমেখলাই সমুদ্ৰের অভিভাবক দেবী হিসেবে পরিচিত যিনি জাহাজডুবি থেকে পুণ্যবানদের রক্ষা করেছিলেন।

সঙ্গম সাহিত্য মূলত চোল,পান্ড,ও কেরল রাজাদের আনুকূল্যে রচিত হয়েছিল। দক্ষিণভারতের ইতিহাস রচনা রং উপাদান হিসেবে তামিল ভাষায় রচিত এই সঙ্গম সাহিত্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ন।date -10.02.26

Comment