হলুদ রোদ
বিধান চন্দ্র সান্যাল
“অলস দুপুরে ক্লান্তিতে যখন ঘুমাও
তোমার ভারি পর্দার ফাঁক দিয়ে ঢুকে
চুপটি করে শুয়ে থাকি তোমার পাশে
একফালি হলুদ রোদ হয়ে
তুমি টের পাওনা ।”
—- বিচিত্র বিশ্বাস নীল
ভূমিকা:–
হলুদ রোদ, বাঙালির কাছে এক বিশেষ অনুভূতি। এটি কেবল সূর্যের আলো নয়, বরং শীতের আগমনী বার্তা, প্রকৃতির এক মনোমু caso রূপ, আর হৃদয়ে একরাশ সোনালি স্মৃতি নিয়ে আসে। এই হলুদ রোদ যেন এক জাদুকরী রং যা প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তোলে আর আমাদের মনকে করে তোলে উদাসীন, আনন্দিত।
প্রকৃতির ক্যানভাসে হলুদ রোদ:-
–
সরিষা ক্ষেতের সোনালি হাসি:- শীতের সকালে বা দুপুরে যখন দিগন্ত বিস্তৃত সরিষা ক্ষেত হলুদ ফুলে সেজে ওঠে, তখন সেই সোনালি ফুলের ওপর যখন হলুদ রোদ পড়ে, তখন এক অসাধারণ দৃশ্যপট তৈরি হয়। মনে হয় যেন প্রকৃতি তার গায়ে হলুদ শাড়ি পরেছে, আর সেই শাড়ির ওপর পড়েছে সোনারঙা আলো।
শীতের স্নিগ্ধতা:- গ্রীষ্মের প্রখর রোদ বা বর্ষার বিষণ্ণতা থেকে ভিন্ন, হলুদ রোদ এক ধরনের স্নিগ্ধতা নিয়ে আসে। এটি আমাদের ত্বকে এক উষ্ণতা দেয়, যা শীতের আমেজকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
ঋতু পরিবর্তনের রূপ: -হলুদ রোদ ঋতু পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শরৎ শেষে হেমন্তের হিমেল হাওয়ায় এই রোদ যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার করে, যা প্রকৃতিতে এক নতুন রূপ দেয়।
হলুদ রোদের স্মৃতি ও অনুষঙ্গ:-
–
শৈশবের দিন:- হলুদ রোদ মানেই ছেলেবেলার সোনালি দিনগুলোর স্মৃতি। স্কুল থেকে ফেরার পথে, বা শীতের সকালে পিঠে রোদে সেঁকে নেওয়া—এইসব মুহূর্তগুলো হলুদ রোদের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে।
আনন্দ ও মিলন:- এই রোদ অনেক সময় আনন্দ, উৎসব, আর মিলনকে বোঝায়। বিশেষ করে, হলুদ রঙের উৎসব বা বিয়ের সাজে এই রোদের ব্যবহার এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
সাহিত্য ও শিল্পে:- বাংলা সাহিত্য ও কবিতায় হলুদ রোদের ব্যবহার ব্যাপক। ‘হলুদ বরণ রোদ’ বা ‘হলুদ রোদের রঙ’ শিরোনামে অনেক লেখা পাওয়া যায়, যা এই রোদের মাধুর্যকে তুলে ধরে। এটি যেন এক ‘অবিনশ্বর প্র’ (অবিনশ্বর প্রকৃতি)।
উপসংহার:-
হলুদ রোদ শুধু একটি প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি, আবেগ, এবং স্মৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটি প্রকৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ যা আমাদের জীবনে আনন্দ, উষ্ণতা, আর একরাশ সোনালি স্মৃতি দিয়ে যায়। তাই, হলুদ রোদ সবসময়ই আমাদের কাছে এক প্রিয় এবং স্মরণীয় বিষয়।
