১. মৃত্যুর জন্য যেহেতু আমি থামতে পারিনি
মৃত্যুর জন্য যেহেতু আমি থামতে পারিনি –
সে নিজেই দয়াপরবশ হয়ে থামল আমার তরে –
সেই গাড়িতে ছিলাম কেবল আমরা দুজনেই –
আর ছিল অমরত্ব।
আমরা চললাম ধীরলয়ে – তার কোনো তাড়া ছিল না
আর আমিও তুলে রাখলাম
আমার কাজ এবং আমার অবসরও,
তার এই সৌজন্যের খাতিরে –
আমরা পেরিয়ে গেলাম পাঠশালা, যেখানে শিশুরা লড়ছিল
টিফিনের ছুটিতে – গোল হয়ে –
আমরা পেরিয়ে গেলাম চেয়ে থাকা শস্যের মাঠ –
আমরা পেরিয়ে গেলাম অস্তগামী সূর্যকে –
অথবা বলা ভালো – সেই আমাদের পেরিয়ে গেল –
শিশিরেরা নামল কম্পমান এবং শীতল –
কারণ আমার গাউনটি ছিল স্রেফ পাতলা মাকড়সার জালের মতো –
আর আমার ওড়নাটি – শুধুই মিহি রেশমের –
আমরা থামলাম একটা বাড়ির সামনে যাকে মনে হলো
মাটির বুকে একটা স্ফীতি –
ছাদটি প্রায় দেখাই যাচ্ছিল না –
কার্নিশটি ছিল – মাটির সমতলে –
তারপর থেকে – কেটে গেছে বহু শতাব্দী – আর তবুও
মনে হয় সেই দিনের চেয়েও ছোট
যেদিন আমি প্রথম আঁচ করেছিলাম ঘোড়াগুলোর মাথা
ছিল অনন্তকালের পানে মুখ করা –
Because I could not stop for Death – (479)
Because I could not stop for Death –
He kindly stopped for me –
The Carriage held but just Ourselves –
And Immortality.
We slowly drove – He knew no haste
And I had put away
My labor and my leisure too,
For His Civility –
We passed the School, where Children strove
At Recess – in the Ring –
We passed the Fields of Gazing Grain –
We passed the Setting Sun –
Or rather – He passed Us –
The Dews drew quivering and Chill –
For only Gossamer, my Gown –
My Tippet – only Tulle –
We paused before a House that seemed
A Swelling of the Ground –
The Roof was scarcely visible –
The Cornice – in the Ground –
Since then – ’tis Centuries – and yet
Feels shorter than the Day
I first surmised the Horses’ Heads
Were toward Eternity –
২. “আশা” হলো পালকযুক্ত সেই জিনিস
“আশা” হলো পালকযুক্ত সেই জিনিস –
যা এসে বসে আত্মার ডালে –
আর গেয়ে চলে শব্দহীন এক সুর –
এবং থামে না – কখনো না –
আর ঝড়ের ঝাপটায় – তাকে শোনায় সবচেয়ে মধুর –
এবং তীব্র হতে হবে সেই কালবৈশাখীকে –
যা দমে দিতে পারে এই ছোট্ট পাখিটারে
যে এত এত মানুষকে রেখেছিল ওমে –
আমি শুনেছি তাকে অতি শীতল দেশেও –
আর অদ্ভুত সব অচেনা সাগরে –
তবুও – কখনো – চরম সংকটেও,
সে চায়নি একটা কণাও – আমার কাছে।
“Hope” is the thing with feathers – (314)
“Hope” is the thing with feathers –
That perches in the soul –
And sings the tune without the words –
And never stops – at all –
And sweetest – in the Gale – is heard –
And sore must be the storm –
That could abash the little Bird
That kept so many warm –
I’ve heard it in the chillest land –
And on the strangest Sea –
Yet – never – in Extremity,
It asked a crumb – of me.
৩. আমি তো কেউ নই! তুমি কে?
আমি তো কেউ নই! তুমি কে?
তুমিও কি – কেউ নও – তবে?
তাহলে তো আমরা একজোড়া!
কাউকে বোলো না যেন! ওরা যে ঢোল পিটিয়ে দেবে – জানোই তো!
কতটা একঘেয়ে – একটা “কেউ” হয়ে বেঁচে থাকা!
কতটা প্রকাশ্য – একটা ব্যাঙের মতো –
নিজের নাম ডেকে যাওয়া – সারাদিনের জুন মাস জুড়ে –
এক প্রশংসাকারী ডোবার কাছে!
I’m Nobody! Who are you? (260)
I’m Nobody! Who are you?
Are you – Nobody – too?
Then there’s a pair of us!
Don’t tell! they’d advertise – you know!
How dreary – to be – Somebody!
How public – like a Frog –
To tell one’s name – the livelong June –
To an admiring Bog!
৪. আমি শুনলাম একটা মাছির ভনভনানি – যখন আমি মরলাম
আমি শুনলাম একটা মাছির ভনভনানি – যখন আমি মরলাম –
ঘরের ভেতরের সেই নিস্তব্ধতা
ছিল বাতাসের সেই থমথমে ভাবের মতো –
ঝড়ের দুটি ঝাপটার ঠিক মাঝখানে –
চারপাশের চোখগুলো – নিজেদের নিংড়ে শুকিয়ে নিয়েছিল –
আর শেষ নিশ্বাসগুলো জমছিল শক্ত হয়ে
সেই শেষ আঘাতের জন্য – যখন সেই রাজাকে
প্রত্যক্ষ করা যাবে – ঘরের মাঝে –
আমি আমার স্মারকগুলো উইল করে দিলাম – সই করে সঁপে দিলাম
আমার যা কিছু অংশ
হস্তান্তরযোগ্য – আর ঠিক তখনই
মাঝখানে এসে জুড়ল একটা মাছি –
এক নীল – অনিশ্চিত – টলমল ভনভনানি নিয়ে –
সেই আলো – আর আমার মাঝখানে –
এবং তারপর জানালোগুলো আবছা হয়ে গেল – আর তারপর
দেখার জন্য দেখার মতো চোখ আর রইল না –
I heard a Fly buzz – when I died – (465/591)
I heard a Fly buzz – when I died –
The Stillness in the Room
Was like the Stillness in the Air –
Between the Heaves of Storm –
The Eyes around – had wrung them dry –
And Breaths were gathering firm
For that last Onset – when the King
Be witnessed – in the Room –
I willed my Keepsakes – Signed away
What portion of me be
Assignable – and then it was
There interposed a Fly –
With Blue – uncertain – stumbling Buzz –
Between the light – and me –
And then the Windows failed – and then
I could not see to see –
৫. আত্মা বেছে নেয় তার নিজের সমাজ
আত্মা বেছে নেয় তার নিজের society –
তারপর – বন্ধ করে দেয় দ্বার –
তার সেই দিব্য সংখ্যাগুরুত্বে –
উপস্থিত হয় না আর কেউ –
অবিচল – সে লক্ষ্য করে রথগুলো – থমকে দাঁড়াচ্ছে –
তার নিচু ফটকের কাছে –
অবিচল – একজন সম্রাটও যেন হাঁটু গেড়ে বসে আছেন
তার পাপোশের ওপর –
আমি তাকে চিনেছি – এক বিশাল জাতি থেকে –
বেছে নিতে মাত্র একজনকে –
তারপর – বন্ধ করে দিতে তার মনোযোগের কপাট –
পাথরের মতো –
The Soul selects her own Society – (303)
The Soul selects her own Society –
Then – shuts the Door –
To her divine Majority –
Present no more –
Unmoved – she notes the Chariots – pausing –
At her low Gate –
Unmoved – an Emperor be kneeling
Upon her Mat –
I’ve known her – from an ample nation –
Choose One –
Then – close the Valves of her attention –
Like Stone –
৬. উত্তাল রাত – উত্তাল রাত!
উত্তাল রাত – উত্তাল রাত!
আমি যদি হতাম তোমার সাথে
উত্তাল রাতগুলো তবে হতো
আমাদের পরম বিলাসিতা!
বৃথা – এই বাতাস –
বন্দরে আশ্রয় পাওয়া এক হৃদয়ের কাছে –
দিয়েছি ছুটি কম্পাসকে –
দিয়েছি ছুটি মানচিত্রকে!
পাল তোলা এদেনের বুকে –
আহ – এই সমুদ্র!
আজ রাতে যদি পারতাম নোঙর ফেলতে –
তোমার মাঝে!
Wild nights – Wild nights! (269)
Wild nights – Wild nights!
Were I with thee
Wild nights should be
Our luxury!
Futile – the winds –
To a Heart in port –
Done with the Compass –
Done with the Chart!
Rowing in Eden –
Ah – the Sea!
Might I but moor – tonight –
In thee!
৭. সাফল্যকে সবচেয়ে মধুর মনে করা হয়
সাফল্যকে সবচেয়ে মধুর মনে করা হয়
তাদেরই দ্বারা যারা কখনো সফল হয়নি।
একটি অমৃতের নির্যাস বুঝতে হলে
প্রয়োজন তীব্রতম অভাবের।
আজ যে বেগুনি বাহিনী
পতাকাটি ছিনিয়ে নিল
তাদের একজনও বলতে পারবে না
বিজয় কাকে বলে এতটা স্পষ্টভাবে
যেমনে পারে সেই পরাজিত – মুমূর্ষু সৈনিক –
যার অবরুদ্ধ কানে
দূরের সেই জয়ের উল্লাসধ্বনি
আছড়ে পড়ে যন্ত্রণাকাতর এবং তীব্র পরিষ্কার হয়ে!
Success is counted sweetest (67/112)
Success is counted sweetest
By those who ne’er succeed.
To comprehend a nectar
Requires sorest need.
Not one of all the purple Host
Who took the Flag today
Can tell the definition
So clear of victory
As he defeated – dying –
On whose forbidden ear
The distant strains of triumph
Burst agonized and clear!
৮. আলোর একটা নির্দিষ্ট তীর্যক রেখা আছে
আলোর একটা নির্দিষ্ট তীর্যক রেখা আছে,
শীতের বিকেলগুলোয় –
যা আমাদের চেপে ধরে, ঠিক যেমন গুরুভার
গির্জার প্রার্থনা সঙ্গীতের সুর –
স্বর্গীয় এক আঘাত, এ আমাদের দেয় –
আমরা কোনো ক্ষত খুঁজে পাই না বাইরে,
কিন্তু এক অভ্যন্তরীণ রূপান্তর ঘটে –
যেখানে অর্থদের, বসবাস –
কেউ তা শেখাতে পারে না – কেউই না –
এ যেন এক চূড়ান্ত হতাশার মোহর –
একটি রাজকীয় affliction
যা বাতাস আমাদের কাছে পাঠিয়েছে –
যখন এটি আসে, চারপাশের প্রকৃতি কান পাতে –
ছায়ারা – ধরে রাখে তাদের শ্বাস –
যখন এটি চলে যায়, তখন একে মনে হয় সেই দূরত্বের মতো
যা লেগে থাকে মৃত্যুর মুখে –
There’s a certain Slant of light (258/320)
There’s a certain Slant of light,
Winter Afternoons –
That oppresses, like the Heft
Of Cathedral Tunes –
Heavenly Hurt, it gives us –
We can find no scar,
But internal difference –
Where the Meanings, are –
None may teach it – Any –
‘Tis the seal Despair –
An imperial affliction
Sent us of the Air –
When it comes, the Landscape listens –
Shadows – hold their breath –
When it goes, ’tis like the Distance
On the look of Death –
৯. সবটুকু সত্য বলো তবে বলো তা তীর্যকভাবে
সবটুকু সত্য বলো তবে বলো তা তীর্যকভাবে —
সাফল্য লুকিয়ে থাকে ঘুরিয়ে বলায়
আমাদের দুর্বল আনন্দের জন্য বড্ড বেশি উজ্জ্বল
সত্যের সেই চমৎকার বিস্ময়
যেমন বজ্রপাতকে শিশুদের কাছে সহজ করা হয়
স্নেহমাখা ব্যাখ্যার ছলে
সত্যকে দীপ্তি ছড়াতে হবে ধীরে ধীরে
নইলে প্রতিটি মানুষই অন্ধ হয়ে যাবে —
Tell all the truth but tell it slant – (1263)
Tell all the truth but tell it slant —
Success in Circuit lies
Too bright for our infirm Delight
The Truth’s superb surprise
As Lightning to the Children eased
With explanation kind
The Truth must dazzle gradually
Or every man be blind —
১০. আমি এমন এক মদের স্বাদ পেয়েছি যা কখনো গাঁজানো হয়নি
আমি এমন এক মদের স্বাদ পেয়েছি যা কখনো গাঁজানো হয়নি –
মুক্তো দিয়ে তৈরি পাত্র থেকে ছেঁকে নেওয়া –
রাইন নদীর সমস্ত মদের ভাণ্ডারও
তৈরি করতে পারবে না এমন এক সুরা!
বাতাসের ঘোরে মাতাল – আমি –
আর শিশিরের নেশায় বুঁদ –
মাতাল হয়ে ছুটছি – অন্তহীন গ্রীষ্মের দিনগুলোয় –
গলানো নীল রঙের পানশালা থেকে –
যখন “বাড়িওয়ালারা” মাতাল মৌমাছিটাকে
তাড়িয়ে দেয় ফক্সগ্লোভ ফুলের দুয়ার থেকে –
যখন প্রজাপতিরা – বর্জন করে তাদের সুধার পাত্র –
আমি তখনও পান করে যাব আরও বেশি!
যতক্ষণ না দেবদূতেরা দোলাবে তাদের বরফ-সাদা টুপি –
আর সাধু সন্তরা – জানালার পানে ছুটবে –
এই ছোট্ট মাতালটাকে দেখতে
যে হেলান দিয়ে আছে – সূর্যের গায়ে –
I taste a liquor never brewed (214)
I taste a liquor never brewed –
From Tankards scooped in Pearl –
Not all the vats upon the Rhine
Yield such an Alcohol!
Inebriate of Air – am I –
And Debauchee of Dew –
Reeling – thro endless summer days –
From inns of Molten Blue –
When “Landlords” turn the drunken Bee
Out of the Foxglove’s door –
When Butterflies – renounce their “drams” –
I shall but drink the more!
Till Seraphs swing their snowy Hats –
And Saints – to windows run –
To see the little Tippler
Leaning against the – Sun –
এমিলি ডিকিনসন (Emily Dickinson, ১৮৩০–১৮৮৬)
যুগ ও আন্দোলন: ১৯শ শতাব্দীর আমেরিকান রিয়ালিজম খ্যাতির কারণ: অত্যন্ত নির্জন জীবনযাপন, প্রায় ১,৮০০টি অসাধারণ সংক্ষিপ্ত কবিতা রচনা, অনন্য তির্যক ছন্দ (slant rhyme) ও অপ্রচলিত বিরামচিহ্নের ব্যবহার। জীবদ্দশায় খুব কম কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল; অধিকাংশ রচনা মৃত্যুর পর আবিষ্কৃত ও প্রকাশিত হয়।
এমিলি এলিজাবেথ ডিকিনসন (১০ ডিসেম্বর ১৮৩০ – ১৫ মে ১৮৮৬) আমেরিকান সাহিত্যের ইতিহাসে সবচেয়ে রহস্যময় ও প্রভাবশালী কবিদের একজন। তিনি জীবনে প্রায় ১,৮০০টি কবিতা লিখেছিলেন, অথচ জীবদ্দশায় মাত্র দশটির মতো কবিতা (সাধারণত সম্পাদিত ও বেনামে) প্রকাশিত হয়েছিল। মৃত্যুর পর তাঁর বোন লাভিনিয়া ডিকিনসন যখন তাঁর ঘরের ড্রয়ার ও বাক্স থেকে হাতে লেখা কবিতার পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেন, তখনই বিশ্ব জানতে পারে এই নির্জন মহিলার অসাধারণ কাব্যপ্রতিভার কথা।
শৈশব ও পরিবার
এমিলি ডিকিনসন জন্মগ্রহণ করেন ম্যাসাচুসেটসের অ্যামহার্স্ট শহরে এক সম্ভ্রান্ত ও প্রভাবশালী পরিবারে। তাঁর পিতা এডওয়ার্ড ডিকিনসন ছিলেন আইনজীবী, রাজনীতিবিদ এবং অ্যামহার্স্ট কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। মা এমিলি নরক্রস ডিকিনসন ছিলেন গৃহিণী। পরিবারে তিনি ছিলেন মেজো সন্তান — বড় ভাই অস্টিন এবং ছোট বোন লাভিনিয়া (ভিনি)। শৈশবে তিনি ছিলেন প্রাণবন্ত, বুদ্ধিমতী ও সংবেদনশীল। পরিবারের সদস্যরা একে অপরের প্রতি গভীরভাবে আবদ্ধ ছিলেন, যদিও এমিলির সঙ্গে মায়ের সম্পর্ক কিছুটা দূরত্বপূর্ণ ছিল।
শিক্ষা ও প্রারম্ভিক জীবন
এমিলি অ্যামহার্স্ট একাডেমিতে পড়াশোনা করেন, যেখানে তিনি বিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য ও সংগীতে দক্ষতা অর্জন করেন। ১৮৪৭ সালে তিনি মাউন্ট হলিওক ফিমেল সেমিনারিতে ভর্তি হন। কিন্তু মাত্র এক বছর পর তিনি ফিরে আসেন। কেউ কেউ মনে করেন ধর্মীয় চাপ ও স্বাস্থ্যজনিত কারণে তিনি সেমিনারি ছেড়ে দেন। এরপর তিনি আর কখনো নিয়মিতভাবে বাড়ির বাইরে যাননি।
নির্জন জীবন ও ব্যক্তিত্ব
১৮৫০-এর দশক থেকে এমিলি ক্রমশ ঘরকুনো হয়ে পড়েন। তিনি সাদা পোশাক পরতে শুরু করেন এবং বাড়ির উপরের তলায় নিজের ঘরে বেশিরভাগ সময় কাটাতেন। বাগানে ফুল চাষ, চিঠি লেখা ও কবিতা রচনাই ছিল তাঁর প্রধান কাজ। তিনি খুব কম লোকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। তবে চিঠির মাধ্যমে তিনি বন্ধু, আত্মীয় ও বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে গভীর যোগাযোগ রাখতেন। তাঁর চিঠিগুলো নিজেই এক ধরনের সাহিত্যকীর্তি।
তাঁর নির্জনতা অনেকের কাছে রহস্যময় মনে হলেও, এটি ছিল তাঁর সৃজনশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় নির্জনতা। তিনি সমাজের প্রচলিত নিয়ম-কানুন, বিবাহ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছিলেন।
কাব্য সাধনা ও শৈলী
এমিলি ডিকিনসন কবিতা লিখতেন গোপনে। তিনি কবিতাগুলো সেলাই করে ছোট ছোট খাতা (fascicle) বানিয়ে রাখতেন। তাঁর কবিতার বৈশিষ্ট্যগুলো ছিল সম্পূর্ণ অভিনব:
- সংক্ষিপ্ততা — অধিকাংশ কবিতা মাত্র ৮–১২ লাইনের।
- তির্যক ছন্দ (slant rhyme) — পূর্ণ ছন্দের পরিবর্তে আংশিক মিল।
- অপ্রচলিত বিরামচিহ্ন — ড্যাশ (—) এর ব্যাপক ব্যবহার, যা কবিতাকে বিশেষ ছন্দ ও থামার অনুভূতি দেয়।
- বড় হাতের অক্ষর — অনেক শব্দের প্রথম অক্ষর বড় করে লেখা।
- অপ্রত্যাশিত শব্দচয়ন — দৈনন্দিন ও বিমূর্ত শব্দের অসাধারণ সমন্বয়।
তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু ছিল মৃত্যু ও অমরত্ব, প্রকৃতি, ভালোবাসা, ঈশ্বর ও বিশ্বাসের সংকট, আত্মার অন্তর্জগত এবং মানব অস্তিত্বের রহস্য। তিনি মৃত্যুকে প্রায়শই একজন সৌজন্যময় অতিথি হিসেবে চিত্রিত করেছেন।
মৃত্যু ও মৃত্যুর পরের স্বীকৃতি
১৮৮৬ সালের ১৫ মে এমিলি ডিকিনসন ব্রাইটস ডিজিজ (কিডনির রোগ)-এ আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মৃত্যুর পর তাঁর বোন লাভিনিয়া যখন তাঁর ঘর থেকে প্রায় ১,৮০০টি কবিতার পাণ্ডুলিপি উদ্ধার করেন, তখন পরিবার ও বন্ধুরা অবাক হয়ে যান।
১৮৯০ সালে প্রথম সংকলন Poems by Emily Dickinson প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে টমাস এইচ. জনসন ১৯৫৫ সালে তাঁর সম্পূর্ণ কবিতার বিজ্ঞানসম্মত সংস্করণ প্রকাশ করেন। আজ তাঁর কবিতা বিশ্বের প্রায় সব প্রধান ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
উত্তরাধিকার
এমিলি ডিকিনসনকে আজ আধুনিক কবিতার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর অভিনব শৈলী পরবর্তীকালের অনেক কবিকে প্রভাবিত করেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, কবিতা শুধু বাহ্যিক জগতের বর্ণনা নয় — তা হতে পারে আত্মার গভীরতম অনুভূতি ও চিন্তার প্রকাশ।
যদিও তিনি ১৯শ শতাব্দীর আমেরিকান রিয়ালিজমের যুগে বাস করেছেন, তাঁর কাব্যশৈলী ছিল সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র, প্রতীকী ও আধুনিকতার পূর্বাভাস বহনকারী। আজ তিনি শুধু আমেরিকার নয়, বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে সমাদৃত।
“I’m Nobody! Who are you?” — এই বিখ্যাত কবিতার মতোই এমিলি ডিকিনসন ছিলেন “কেউ নন”, অথচ তাঁর কবিতা আজ বিশ্বের লক্ষ লক্ষ পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করে।