ইংরেজি সাহিত্যের জনক Geoffrey Chaucer (c. 1340–1400)

জেফ্রি চসার (আনু. ১৩৪০–১৪০০)

ইংরেজি সাহিত্যের জনক – দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস-এর রচয়িতা

জেফ্রি চসার মধ্যযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ইংরেজি কবি এবং ব্যাপকভাবে “ইংরেজি সাহিত্যের জনক” হিসেবে সমাদৃত। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি, দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস হলো লন্ডন থেকে ক্যান্টারবেরিতে ভ্রমণরত একদল তীর্থযাত্রীর বলা গল্পের একটি সংকলন। মধ্যযুগীয় ইংরেজিতে (Middle English) পদ্য আকারে রচিত এই সৃষ্টিতে রসাত্মক কৌতুক, প্রেম, ব্যঙ্গবিদ্রূপ, নৈতিকতা এবং সামাজিক ভাষ্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছে।

যদিও দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস একটি মূল কাঠামোগত আখ্যানের অধীনে একটি একক দীর্ঘ কর্ম, তবুও এর ভেতরে অনেকগুলো স্বয়ংসম্পূর্ণ গল্প রয়েছে। নিচে এর সবচেয়ে বিখ্যাত এবং সমাদৃত ১০টি গল্প আধুনিক ইংরেজির মূল ভাবানুসারে বাংলা অনুবাদে উপস্থাপন করা হলো।

১. দ্য জেনারেল প্রোলগ (সাধারণ ভূমিকা)

মূলভাব: তীর্থযাত্রীদের পরিচয় এবং গল্প বলার প্রতিযোগিতার সূচনা।

যখন এপ্রিল তার সুমিষ্ট ফলদায়ী বৃষ্টির ধারা নিয়ে আসে

আর মার্চের খরাকে তার শিকড় পর্যন্ত ভেদ করে দেয়…

তখন মানুষের মনে তীর্থযাত্রায় যাওয়ার আকুলতা জাগে,

আর পুণ্যার্থীরা দূর-দূরান্তের অচেনা সৈকতের খোঁজে বের হয়,

সেইসব দূরবর্তী মাজারগুলোর উদ্দেশ্যে, যা বহু দেশে সুপরিচিত।

২. দ্য নাইট’স টেল (যোদ্ধার গল্প)

মূলভাব: বীরত্ব, প্রেম এবং ভাগ্য (সবচেয়ে দীর্ঘ এবং সবচেয়ে আভিজাত্যপূর্ণ গল্প)।

বহুকাল আগে, যেমনটা পুরোনো গল্পগুলো আমাদের বলে,

থিসিউস নামে এক ডিউক বা সামন্তপ্রভু ছিলেন…

তিনি নিজের মর্যাদায় একজন যোগ্য মানুষ ছিলেন,

আর সংক্ষেপে বলতে গেলে, যখন তিনি

নিজের দেশে ফিরে এলেন, তখন তিনি সেখানে বিশ্রাম নিলেন

তাঁর সমস্ত সৈন্যসামন্ত নিয়ে, অত্যন্ত আনন্দ ও শান্তিতে।

৩. দ্য মিলার’স টেল (কলুর গল্প)

মূলভাব: প্রতারণা এবং প্রতিশোধের একটি চটুল ও কৌতুকপূর্ণ গল্প।

অক্সফোর্ড শহরে এক ধনী বৃদ্ধ সূত্রধর বাস করত…

তার একটি সুন্দরী ও তরুণী স্ত্রী ছিল।

সে তাকে খুব চোখে চোখে রাখত, কারণ সে ছিল ভীষণ ঈর্ষাপরায়ণ…

কিন্তু স্ত্রীটি ছিল চঞ্চল এবং নিজের ইচ্ছেমতো চলতেই ভালোবাসত।

৪. দ্য ওয়াইফ অফ বাথ’স টেল (বাথের নারীর গল্প)

মূলভাব: দাম্পত্য জীবনে নারীর সার্বভৌমত্ব এবং প্রকৃত ভদ্রতার স্বভাব।

রাজা আর্থারের সেই প্রাচীন দিনগুলোতে,

এই পুরো দেশটা পরী ও জাদুকরি নাগরিকে পূর্ণ ছিল…

একবার এক যোদ্ধা একাকী ঘোড়া ছুটিয়ে চলেছিল,

আর যাওয়ার পথে সে দেখল এক কুমারী হেঁটে যাচ্ছে…

সে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তাকে হরণ করল।

৫. দ্য পার্ডোনার’স টেল (পাপমোচকের গল্প)

মূলভাব: লোভ এবং অর্থলিপ্সার পরিণতি (অন্যতম বিখ্যাত একটি নৈতিক গল্প)।

একদা ফ্ল্যান্ডার্স দেশে একদল তরুণ-তরুণী

একসাথে বাস করত, যারা মূর্খতা আর অশালীনতায় মত্ত থাকত…

তারা শপথ করত, মদ্যপান করত আর সারা রাত ধরে নাচত,

এবং এভাবেই তারা পেটুকতা আর পাপের মধ্যে জীবন কাটাত।

৬. দ্য নান’স প্রিস্ট’স টেল (সন্ন্যাসিনীর পুরোহিতের গল্প)

মূলভাব: চ্যান্টিক্লিয়ার নামের একটি মোরগকে নিয়ে পশুপাখির চমৎকার রূপক গল্প।

এক দরিদ্র বিধবা, যাঁর বয়স কিছুটাadvanced বা শেষের দিকে ছিল,

তিনি একটি ছোট ঘেরাও করা মাঠের পাশে এক কুটিরে বাস করতেন…

তাঁর একটি মোরগ ছিল যার নাম চ্যান্টিক্লিয়ার,

যে ছিল সেই পুরো অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে চমৎকার মোরগ।

৭. দ্য ফ্র্যাঙ্কলিন’স টেল (জমিদারের গল্প)

মূলভাব: সম্মান, সত্য এবং উদারতা।

আর্মোরিকাতে, যাকে ব্রিটানি বলা হয়,

সেখানে এক যোদ্ধা বাস করতেন যিনি তাঁর স্ত্রীকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন…

তিনি স্ত্রীকে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে তিনি কখনোই

স্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজের কর্তৃত্ব খাটানোর চেষ্টা করবেন না।

৮. দ্য ক্লার্ক’স টেল (পণ্ডিতের গল্প)

মূলভাব: ধৈর্য এবং আনুগত্য (ধৈর্যশীল গ্রিসেল্ডার গল্প)।

ইতালির পশ্চিম প্রান্তে,

ভেসুলাস পর্বতের ঠিক পাদদেশে,

উর্বরতায় সমৃদ্ধ এক মনোরম সমভূমি রয়েছে…

এক মারকুইস বা রাজপুত্র সমৃদ্ধির সাথে সেই দেশ শাসন করতেন।

৯. দ্য মার্চেন্ট’স টেল (বণিকের গল্প)

মূলভাব: এক বৃদ্ধ এবং তার তরুণী স্ত্রীকে নিয়ে একটি কৌতুকপূর্ণ ও উপহাসমূলক গল্প।

লম্বার্ডিতে এক যোগ্য যোদ্ধা বাস করতেন…

যিনি ষাট বছরেরও বেশি সময় ধরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ না থেকে কাটিয়েছিলেন…

কিন্তু অবশেষে, যখন তাঁর যৌবন পেরিয়ে গেল,

তিনি নিজের বার্ধক্যে আনন্দ পাওয়ার জন্য একটি স্ত্রী গ্রহণ করলেন।

১০. দ্য শিপম্যান’স টেল (নাবিকের গল্প)

মূলভাব: এক বণিক, তার স্ত্রী এবং এক সন্ন্যাসীকে নিয়ে চাতুর্যের একটি বুদ্ধিদীপ্ত গল্প।

সেন্ট-দেনিসে একদা এক বণিক বাস করত…

সে ছিল ধনী এবং একটি চমৎকার সংসার পরিচালনা করত…

তার একটি সুন্দরী ও তরুণী স্ত্রী ছিল, যে অর্থ খরচ করতে ভালোবাসত।

এই দশটি গল্প চসারের অসাধারণ পরিধিকে প্রদর্শন করে—মহৎ প্রেমকাহিনী ও নৈতিক রূপক থেকে শুরু করে চটুল কৌতুক এবং প্রখর সামাজিক ব্যঙ্গবিদ্রূপ। তীর্থযাত্রীদের কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে তিনি চতুর্দশ শতাব্দীর ইংরেজি সমাজের এক প্রাণবন্ত এবং প্রায়শই হাস্যরসাত্মক চিত্র এঁকেছেন।

দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস আজও ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে টিকে রয়েছে এবং এটি রচনার ছ’শ বছরেরও বেশি সময় পরেও সমানভাবে পঠিত, রূপান্তরিত ও সমাদৃত হয়ে চলেছে।

জিওফ্রে চসার (প্রায় ১৩৪০–১৪০০)
ইংরেজি সাহিত্যের জনক – দ্য ক্যান্টারবেরি টেলসের রচয়িতা

জিওফ্রে চসার (Geoffrey Chaucer) ছিলেন মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কবি এবং গল্পকার। তিনি ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনা করে ইংরেজি সাহিত্যকে একটি স্বতন্ত্র ও সমৃদ্ধ ধারায় প্রতিষ্ঠা করেন। তাই তাঁকে “ইংরেজি সাহিত্যের জনক” (Father of English Literature) বলা হয়। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস (The Canterbury Tales) — একটি অসমাপ্ত গল্পসংকলন, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণির তীর্থযাত্রীরা একে অপরকে গল্প শোনায়। চসারের রচনায় মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডের সমাজ, ধর্ম, রাজনীতি ও মানুষের চরিত্রের গভীর চিত্র ফুটে উঠেছে।

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন

জিওফ্রে চসার জন্মগ্রহণ করেন প্রায় ১৩৪০ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনে। তাঁর পিতা জন চসার ছিলেন একজন ধনী ওয়াইন ব্যবসায়ী। পরিবারটি ছিল সম্ভ্রান্ত এবং রাজদরবারের সঙ্গে যুক্ত। শৈশবেই চসার রাজপ্রাসাদের পরিবেশে বড় হয়েছিলেন। তাঁর পরিবারের সদস্যরা রাজকীয় দায়িত্ব পালন করতেন, তাই তিনিও অল্প বয়স থেকেই রাজদরবারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন।

শিক্ষা ও প্রথম কর্মজীবন

চসারের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য খুব কম পাওয়া যায়। তবে তিনি সম্ভবত লন্ডনের স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন এবং পরে ফ্রান্স ও ইতালিতে ভ্রমণের মাধ্যমে ইউরোপীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন। তিনি ফরাসি, ইতালীয় ও লাতিন ভাষায় দক্ষ ছিলেন।

তরুণ বয়সে তিনি রাজদরবারে বিভিন্ন পদে কাজ করেন। তিনি রাজা তৃতীয় এডওয়ার্ডের সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন এবং ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। পরে তিনি কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেন এবং ইতালি ও ফ্রান্সে রাজকীয় প্রতিনিধি হিসেবে যান। এই ভ্রমণ তাঁর সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

সাহিত্যকর্ম: দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস

চসারের সবচেয়ে বড় ও বিখ্যাত রচনা দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস। এটি একটি গল্পসংকলন, যেখানে ত্রয়োদশ শতাব্দীর ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শ্রেণির তীর্থযাত্রীরা লন্ডন থেকে ক্যান্টারবেরির সেন্ট থমাস বেকেটের সমাধিতে যাত্রা করে। পথে তারা একে অপরকে গল্প শোনায়।

চসার এই গল্পগুলোর মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি — যাজক, অভিজাত, বণিক, কৃষক, নারী — এর চরিত্র, দোষ-গুণ ও জীবনযাপন তুলে ধরেছেন। গল্পগুলোতে হাস্যরস, ব্যঙ্গ, প্রেম, ধর্ম ও নৈতিকতার মিশ্রণ রয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত এটি অসমাপ্ত রয়ে গেছে।

অন্যান্য রচনা

চসার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা করেছেন:

  • দ্য বুক অব দ্য ডাচেস (The Book of the Duchess) — তাঁর প্রথম বড় কাব্য।
  • ট্রয়লাস অ্যান্ড ক্রিসেইড (Troilus and Criseyde) — একটি মহাকাব্যিক প্রেমের কাহিনী।
  • দ্য হাউস অব ফেম (The House of Fame)
  • দ্য পার্লামেন্ট অব ফাউলস (The Parliament of Fowls)

তিনি ফরাসি ও ইতালীয় সাহিত্য (বোকাচ্চিও, দান্তে, পেত্রার্ক) থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর রচনায় ইংরেজি জীবন ও ভাষার স্বকীয়তা ফুটে উঠেছে।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

জিওফ্রে চসার মারা যান ১৪০০ সালের ২৫ অক্টোবর লন্ডনে। তাঁকে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে সমাহিত করা হয়, যেখানে পরবর্তীকালে “Poets’ Corner” গড়ে ওঠে।

চসারের সবচেয়ে বড় অবদান হলো তিনি মধ্য ইংরেজি (Middle English) ভাষায় উচ্চমানের সাহিত্য রচনা করে ইংরেজি ভাষাকে সাহিত্যের যোগ্য ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর আগে বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য লাতিন বা ফরাসি ভাষায় লেখা হতো। চসারের পর ইংরেজি সাহিত্য নতুন করে বিকশিত হয় এবং তিনি হয়ে ওঠেন এই ধারার পথপ্রদর্শক।

জিওফ্রে চসার ছিলেন সেই কবি ও গল্পকার, যিনি ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছিলেন। তাঁর দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস শুধু একটি গল্পসংকলন নয়, বরং মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডের সমাজের জীবন্ত দর্পণ। তিনি হাস্যরস, ব্যঙ্গ, প্রেম ও নৈতিকতার মিশ্রণে এমন একটি সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন, যা আজও পাঠককে মুগ্ধ করে। চসারের অবদানের জন্যই আজ ইংরেজি সাহিত্য বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম প্রধান ধারা হিসেবে স্বীকৃত।

“চসার ছিলেন সেই কবি, যিনি ইংরেজি ভাষাকে সাহিত্যের মর্যাদা দিয়ে ইংরেজি সাহিত্যের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।”

Leave a Comment