“ভোটের জোয়ার আর পাঠের বাহার”
[ জান্নাতুল ফেরদৌসী ]
===========================
পড়া আর ভোট মিলে একাকার,
অদ্ভুত এক কাণ্ড,
সিলেবাসেতে নির্বাচন,
আর ভোটকেন্দ্রেতে ভাণ্ড!
প্রাথমিকের বার্ষিক পাঠে টিফিন পিরিয়ড কম,
ওদিকে আবার ব্যালট বাক্সে চলছে নির্বাচনের দম।
নির্বাচন আর গণভোট হবে ১২ই ফেব্রুয়ারিতে,
ছাত্রেরা ভাবছে— স্যাররা কি ব্যস্ত মার্কশিট তৈরিতে?
না রে ভাই, স্যাররা সব এখন প্রিজাইডিং অফিসার,
পাঠ-পরিকল্পনা শিকেয় তুলে,
ডিকশনারিতে “ভোটের সার”।
অ আ ক খ ভুলে গিয়ে খোকা শিখছে ‘জুলাই চার্টার’,
গণভোটের ‘হ্যাঁ’ না ‘না’-তে হবে সে মস্ত বড় পার্টনার!
গণিতের ওই যোগ-বিয়োগে চলছে ভোটের আসন গণনা,
বাংলার স্যারও শিখিয়ে দিচ্ছেন— “শান্তিপূর্ণ হবে নির্বাচনী প্রচারণা”।
রুটিন বলছে সকালে পড়া, দুপুরে হবে কুইজ,
পলিটিক্যাল লিডাররা বলছেন— “আমাদের মার্কস কিন্তু জবরদস্ত চাই প্লিজ!”
স্কুলের মাঠে ব্যারিকেড,
আর ব্ল্যাকবোর্ডে মার্কার,
টিচার ভাবছেন— “ভোট গেলে হয়, এইবার ছুটিটা দরকার।”
বইয়ের ভাঁজে পোস্টার লেগেছে,
ব্যাগের ভেতর মার্কার,
২০২৬-এর কিম্ভুত দশা,
অদ্ভুত এক সরকার!
সকাল সাড়ে সাতটায় ভোট,
আর ক্লাস শুরুর সময়টা কই?
ভোটের চাপে চ্যাপ্টা হলো ‘আমার বাংলা বই’।

