প্রার্থনা
জাসমিনা খাতুন
ব্যথার চূড়ায় দাঁড়িয়ে এক এক করে তিনবার চিৎকার দিলাম
আমার ব্যথা বাতাসে ছড়িয়ে দিলাম
কেউ শুনল না
শুধু প্রতিধ্বনি ফিরে এলো,
আমার কষ্ট আমার মধ্যেই বন্দি হয়ে রইল।
অনুভূতির ঢেউয়ে হাত ডুবিয়ে দিলাম
ভেবেছিলাম আমার কষ্ট আমার না পাওয়া
আমার কান্না আমার নীরবতা
ভেসে ভেসে তোমার হৃদয়ে এসে ঠেকবে।
কিন্তু সময় বড় নিষ্ঠুর
সে আমার চোখের জল নিজের বুকে চুষে নিল
প্রচণ্ড তৃষ্ণার্ত সে
আমার ব্যথার নোনতা স্বাদে মত্ত হলো।
আমি আকাশের দিকে তাকালাম
লক্ষ কোটি জ্বলজ্বল করা তারা
তারা কি জানে আমার ব্যথার কথা ?
আমি প্রশ্ন করলাম
আমি কি তোমার বুকে মেঘ হয়ে জড়িয়ে থাকতে পারি ?
তোমার বৃষ্টিতে মিশে গিয়ে
এই পৃথিবীর বুক চুমে দিতে পারি ?
কিন্তু আকাশ বোবা শূন্য
কোনো উত্তর ফিরে এলো না
শুধু তার নীল অন্ধকারে
আমার হাহাকারের হেমলক ছায়া মিশে গেল।
তবে তো তোমরা সাতশত চিরন্তনী ভগবান
বিশ্বাস করো !
আমি তবে কেন তার কোনো প্রমাণ পেলাম না ?
শুধু নীরব শূন্যতার মাঝে
আমার দীর্ঘশ্বাস মিশে গেল খুব যত্নে।
এখন সেই শ্বাস প্রতিটি প্রাণীর ফুসফুসে ঢুকে গেছে
অক্সিজেনের মতো
আর তারা প্রত্যেকেই যন্ত্রণায় কুঁকড়ে উঠছে,
যেন আমার কষ্ট ছুঁয়ে গেছে তাদের রক্তকণিকাও।
আমি যদি কান্না না থামাই,
তবে কি এই পৃথিবী আমার কষ্টে ভেসে যাবে ?
আমি যদি নিঃশ্বাস না ফেলি
তবে কি আকাশ তার গম্ভীরতা হারাবে ?
হে চিরশান্তি আমি কি মেঘ হয়ে তোমার গায়ে জড়িয়ে ভাসতে পারব না ?
নাকি আমাকেই এই ব্যথার খাঁচায় বন্দি থাকতে হবে চিরকাল ?
আমি তোমার বুকে এক বিন্দু শিশির হয়ে ঝরতে চাই
তোমার ঠোঁটে নিঃশেষ হতে চাই
তোমার হৃদয়ের গভীরতম কোণেই আমি আমাকে নির্বাসিত দিতে চাই
যেখানে শুধু প্রেম
আর শুধু তুমি আর আমি
প্রথম প্রেমের অনুভূতি নিয়ে
সেখানে প্রয়োজন নেই কোনো ভগবানের বা কোনো অন্তর্যামীর।
