Koyel Talukder

মায়াবতী ও আনন্দ শহর

ঊনিশ বছর আগে আনন্দ শহর কোলকাতায়
সন্ধ্যা নেমেছিল শঙ্খের দীর্ঘ সুরে,
আকাশ জুড়ে জ্বলছিল প্রদীপের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নক্ষত্র,
আমার সাথে ছিল মায়াবতী।

সেই সময় পৃথিবীটাকে বড় সহজ মনে হতো,
ট্রামের ঘণ্টাধ্বনি যেন দূর কোনো স্বপ্নের ডাক,
ভিড়ের মধ্যেও হাতের কাছে পাওয়া যেত
একটি নির্ভরতার উষ্ণতা –

যে শহরে জানলা বন্ধ থাকলেও
পাখিদের গান ঠিক ভোর এনে দেয়,
সেই শহরের অলিগলিতে
আমরা হেঁটেছিলাম নিঃশব্দে –
কথার চেয়ে বেশি কথা ছিল চোখে।

গঙ্গার বাতাস এসে তার চুল এলোমেলো করে দিত,
আমি ভাবতাম –
মানুষের জীবনে এর চেয়ে সুন্দর দৃশ্য
বোধহয় আর নেই।

তারপর কত ঋতু চলে গেল,
কত নদী বদলে ফেলল নিজের পথ,
কত মুখ এলো, কত মুখ হারাল –
কিন্তু লক্ষ্মীপূজার সেই সন্ধ্যা
আজও বুকের ভেতর প্রদীপ হয়ে জ্বলে।

এখনও কোথাও শঙ্খ বাজলে
মনে হয়, কোলকাতার কোনো পুরোনো গলি থেকে
মায়াবতী হেঁটে আসছে ধীরে ধীরে।

গঙ্গার জলে এখনও হয়ত সন্ধ্যার আলো পড়ে
দূরের কোনো নৌকার ক্ষীণ প্রদীপ মায়ার মতো
কাঁপতে থাকে জলের বুকে –
আমরা কেবল তীরে দাঁড়িয়ে নেই…

তবুও গঙ্গা নীরবে বয়ে নিয়ে যায় আমাদের
না-বলা সব কথামালা,
সেই না-থাকার মধ্যেই সবচেয়ে গভীরভাবে রয়ে যায় মায়াবতী, রয়ে যায় আনন্দ শহর –
রয়ে যায় এক অনন্ত জ্যোৎস্নাভেজা রাত্রি।

~ কোয়েল তালুকদার

Comment