@২৯৬
**জাগো নারী জাগো**
জাগো নারী জাগো, জাগো বহ্নিশিখা,
জ্বলে উঠুক তোমার সুপ্ত আলোকে,
জাতির ললাটে সৌর্ভাগ্যের জয় টিকা।
যতো জয়গান, গেয়েছে মহতী প্রাণ,
নর-নারী দিয়েছে তা সমানে সমান।
নারী রে পাশরিয়া বাজে নাই বাঁশি
আসে নাই মুক্তি কভু কোন সাধু-ঋষি
নারী কি পারেনি?
কি দেয়নি এ জলসায় ?
নারী তুমি কি পাওনি রাজসভায় ?
তবে– অধিকার কে করিল হরণ ?
চরণে তোমার বেড়ি, কিসের বন্ধন?
দেবালয় থেকে রন্ধন শালা,
মহাসাগর হতে পর্বতমালা,
কোথায় নেই তোমার বিচরণ,
তবুও পাওনি ফিরে প্রাপ্য সম্মান ?
কেন পারনি তা কি জাননি?
যা পাওনি তা কি চেয়ে দেখনি !
কি দেয়নি তোমায় বিধাতা ?
তুমি জায়া, তুমি জননী,
তুমি কুলবালা, তুমি রমণী।
তুমি যে মাতা, জগৎ নন্দিনী,
রাখি’তে বাঁধা কারো বা ভগিনী।
সংসার মাঝে তুমি অবিস্মরণীয়।
স্বর্গ নরক তোমারি পায়ের তলে,
ভিজালে অশ্রু জলে,
লভিতে মুক্তি নরক,
সেবিলে মায়ের পা।
তুমি যে মাতা মমতাময়ী মা!
অবজ্ঞা করি সন্তান জান্নাত পাবে না।
তুমি’ই জায়া, পারো নরক কুণ্ড হতে
দিয়ে পরিত্রাণ, নর’কে ফিরাতে।
আবার পারো আঘাত হানিতে,
খড়গ হস্তে রাবণ বদ্ করিতে।
সীতাকে যে নর করিল হরণ,
সে তো লোভাতুর পাপীষ্ট শয়তান।
আর নহে দুঃশাসন ওহে দুর্জধন,
এবার হবে নারী মুক্তি পণ,
নহে দ্রোপদীর বস্ত্রহরণ,
দূর হোক দুঃশাসন।
হবে না সম্ভ্রম হানি,
সতীদাহে বধূর আনিবে না টানি
জ্বলিবে না চিতার আগুন।
পুরুষের চিতায় পুরুষ পুড়ুক
নারী নহে আর বিসর্জন ।
নারী তুমি বোন, দিয়ে স্নেহের বাঁধন,
মমতায় ভরে দেখাও সপন,
হৃদ মাঝে জাগে স্পন্দন,
আবার বাঁধিতে ঘর পান্থ শালায়।
তুমি পাপী ন’ও,
কুৎসিত তোমার কর্ম নহে,
কুকর্ম যে করে নর কিম্বা নারী,
ধর্মের বর্ম দুই’য়ে তারে দ’হে।
নারী তুমি রুখে দাও,
হিংস্র দানবের থাবা মুচড়ে দাও,
ভেঙে দাও বিভৎস এ আগ্রাসন।
এবার দেখিব তোমার নারী মুক্তি পণ।
এক’ই স্রষ্টার সৃষ্টি মানবজাতি,
তোমাতে লুকিয়ে রয়েছে মহতি।
যা পাও নি তা ওরা হতে দেয়নি,
অথবা তুমি চেষ্টা ই করনি।
যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে তোমাকে দাবিয়ে,
রেখেছে বন্দী করে আতুর ঘরে।
ওটা তাদের কার্পণ্যতা, মূঢ়তা, মূর্খতা।
বিচ্যুতি হোক তোমার দর্পে,
খর্ব হোক তাদের দৃঢ়তা ।
গর্ব করে বলো, ‘আমি ও মানুষ’,
নারী নহে পুরুষের দাস,
তুমি ন’ও পাপী, আশরাফুল মাখলুকাত
নারী বলে ধিক্কার, নয় অজুহাত।
যে হায়নার চোখে তুমি জাহান্নামী,
পাপী, তাপী, অভিশাপি,
তাহার চক্ষু দুটি মুদিয়া দেখিতে বলো,
‘কোথা থেকে এলো?কোথায় জন্ম নিলো?’
উপড়ে ফেলো ঐ দুটি চোখ,
লোলুপ দৃষ্টিতে যারা নারীরে করে সম্ভোগ।
বিশ্বের যা কিছু মহান
তাতেই নারীর সম অবদান
তুমি ও হতে পারো মহতী, মহিয়সি,
মহিয়ান, গুণবতী, বিদ্বান, বিদ্যুষী।
পহেলা কবুল করিলেন ইসলাম,
ইতিহাসে লেখা বিবি খাদিজার নাম।
বেহেশতের চাবি হাতে মা ফাতিমা,
উম্মুল মুমিন মাতা আয়েশা।
যারা ধর্মের নামে নারীরে দাবাতে চায়,
যুগে যুগে তাদের কাছেই পেল আশ্রয়।
ঠাই পেল ফেরাউন এর ঘরে নবী মুসা,
পালিলেন পুত্র করে বিবি আছিয়া।
ঈসা মাতা মরিয়ম তহুরা,
দীনে ইসলাম মাতা মনি বিবি হাজেরা।
দীনদার পরহেজগার রাবেয়া বসরী,
খোদার রাহে দিলেন তার জিন্দেগী।
যুগ যুগান্তর ভাঙি অন্দর বাহিরে নারী,
গড়েছে আপন ভুবন উঠেছে শিখরে।
মাতঙ্গীনি হাজরা,প্রীতিলতা সেন
ইতিহাসে যারা আজ হয়েছে আসীন।
জাগো নারী জাগো গণ্ডি ছাড়িয়া
তুমি ও হতে পারো সুলতানা রাজিয়া
ছাড়ি রন্ধন শালা, অধিকার আদায়ের পালা।
ভাঙিয়া বেড়াজাল শামাল শামাল,
তরী বেয়ে দরিয়ায়, ওপারে উড়াও নিশান, ভেঙে ফেল করে খান খান,
মহতি এ জলসায় তুমি রাখো অবদান।
নারী তুমি সম্ভোগের বস্তু ন’ও,
ন’ও কোন পর্ণ
খোদার দরগায় তুমি তো ন’ও নগন্য
সম্ভ্রম হেরি ওহে মহতী নারী
উপভোগ করো জীবন’টারে,
ধন্য করো স্রষ্টার সৃষ্টি,
দৈন্যতা হোক অবসান,
পুরাতন বেদনা ভুলি গড় আপন ভুবন।
মোশাররফ হোসেন
তাং – ১৩/১১/২০২৫ ইং

