Mulla Tubarok

ঠিকানা পাগল
মোল্লা তোবারক

মানুষগুলো খুব ঠিকানাপাগল হয়
প্রতিটা কাজে ঠিকানা দরকার হয়
এককালে যেমন ভৌগোলিক অবস্থানই ঠিকানা নির্ধারণ করে দিতো — শহর গ্রাম দেশ বিদেশ
মানুষগুলো বড়বেশি ঠিকানাপ্রবণ হয়
আবার কিছু কিছু ঠিকানা আাছে এমন
শিশুর ঠিকানা মায়ের কোলে যেমন
পুরুষের ঠিকানা নারীর অঙ্গে যেমন

আবার এই ইমেইলের যুগে লেখার অক্ষরই কেবল ঠিকানা — ব্যক্তির প্রকৃত অবস্থানজ্ঞাপক নয় যদিও
তবু কিছু ঠিকানা আছে এমন
সাইবেরিয়ার অতিথি পাখিদের কাছে বাংলাদেশের আকাশ, হাওড়-বাওড়, বিল যেমন
উজান ঠেলে ওঠা কই মাছের কাছে ডাঙ্গা থেকে জলে প্রত্যাবর্তনের আনন্দ যেমন
বন্দী পাখির কাছে মুক্ত আকাশের স্বপ্ন যেমন
মানুষগুলো ঠিকানা ছাড়া বাঁচতে চায় না
মানুষগুলো ঠিকানা ছাড়া চলতে চায় না
জন্মের পরেই যেন তার একটা ঠিকানা চাই
ঠিক যেমন মৃত্যুর পরও – একটুকরো ভূমি
মানুষগুলো বড়ই ঠিকানাপাগল হয়
বাজার থেকে সদাই-পাতি নিয়ে নিশ্চিন্ত হাঁটুরের
ঠিকঠাক বাড়ি ফিরে যাওয়ার মতোন
অথবা জেলগেটে ছাড়া পাওয়া রাজবন্দীর
ঘরে ফিরে যাওয়ার আকুলতার মতোন
অথবা হঠাৎ ঘরে ফেরা প্রবাসী স্বামীর কাছে
স্ত্রীর অকুণ্ঠ আত্মসমর্পণের মতোন

কিন্তু কী হয় যদি ঠিকানা হয়ে যায় এলোমেলো
অথবা বাস্তবের ধূলোয় কালো কখনো
কী হয় যখন ঠিকানা — দিবসের আলোকে বিদায় দিয়ে রাতের আঁধারে হয় সমর্পিত – জন্মজঠরের মতো অনাদি অসীম, অনন্ত অনিশ্চিত পড়ে থাকো
তখন কোথায় ঠিকানা খুঁজে পাও?
মানুষ, কেন এতো ঠিকানা ঠিকানা করো?
কেন এতো ঠিকানা খুঁজে মরো?
ঠিকানার ঠিকানা কোথায় লেখা আছে
বলতে কি পারো?

Comment