Ovid এর দশটি কবিতা (43 BCE–17 CE)

ওভিদ (খ্রিস্টপূর্ব ৪৩ – ১৭ খ্রিস্টাব্দ), যাঁর পূর্ণ নাম পবলিয়াস ওভিদিয়াস নাসো, হলেন প্রাচীন রোমের একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহাকবি এবং পৌরাণিক রূপান্তরের অদ্বিতীয় রূপকার। তিনি তাঁর কালজয়ী সৃষ্টি মেটামরফোসিস (Metamorphoses)-এর জন্য বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত। এটি মূলত ১৫টি খণ্ডে সমাপ্ত একটি অবিচ্ছিন্ন দীর্ঘ মহাকাব্য, যেখানে ২৫০টিরও বেশি পৌরাণিক গল্পকে একটিমাত্র মূল সুতোয় গেঁথে দেওয়া হয়েছে—আর সেই বিষয়টি হলো রূপান্তর (আকৃতির পরিবর্তন)। মার্জিত হেক্সামিটার ছন্দে রচিত এই মহাকাব্যের পরিধি পৃথিবীর সৃষ্টিলগ্ন থেকে শুরু করে জুলিয়াস সিজারের দেবত্ব প্রাপ্তি পর্যন্ত বিস্তৃত।

যদিও মেটামরফোসিস একটিমাত্র দীর্ঘ আখ্যানমূলক কবিতা, তবুও এর ভেতরে অনেকগুলো চমৎকার ও স্বাধীন গল্প রয়েছে। নিচে সেই মহাকাব্যের ১০টি সবচেয়ে বিখ্যাত এবং আলোচিত পর্বের মূল কাব্যিক অংশের বাংলা অনুবাদ দেওয়া হলো:

১. অ্যাপোলো এবং ড্যাফনি (প্রথম খণ্ড)

মূল ভাব: এই মহাকাব্যের প্রথম প্রেমগাথা—যেখানে জলপরী (নিম্ফ) ড্যাফনি একটি লরেল (তেজপাতা জাতীয়) গাছে রূপান্তরিত হয়।

ফিবাস (অ্যাপোলো) প্রথম দেখাতেই পিনিয়াসের কন্যা ড্যাফনির প্রেমে পড়ে যান এবং তাকে বিয়ে করতে চান।

কিন্তু ড্যাফনি তাঁর কাছ থেকে এমনভাবে পালিয়ে বেড়াতে লাগল, যেমন নেকড়ের ভয়ে ভেড়ার ছানা পালায়…

“থামো, জলপরী!” অ্যাপোলো চিৎকার করে বললেন। “আমি কোনো শত্রু হিসেবে তোমার পিছু নিচ্ছি না।

নেকড়ের ভয়ে ভেড়ার ছানা পালায়, সিংহের ভয়ে হরিণ পালায়…

আমি তো কেবল ভালোবাসায় তোমার পিছু চলছি। হায়! আমি নিজেই আজ আমার প্রেমের অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত!”

২. ইকো এবং নার্সিসাস (তৃতীয় খণ্ড)

মূল ভাব: রূপবান তরুণ নার্সিসাস নিজের প্রতিবিম্বের প্রেমে পড়ে যায়; আর তার প্রেমে পাগল জলপরী ইকো শোকে ক্ষয়ে ক্ষয়ে স্রেফ একটি কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়।

তীব্র গরমে শিকার করে ক্লান্ত হয়ে পড়া নার্সিসাস

একটি স্বচ্ছ জলের ঝর্ণার পাশে এসে শুয়ে পড়ল…

সে জলের বুকে নিজেরই মুখের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেল

এবং সেই অপরূপ সৌন্দর্যের মায়ায় মগ্ন হয়ে গেল।

সে জানতই না যে, সে আসলে নিজেরই প্রেমে পড়েছে।

“থামো!” সে সেই প্রতিবিম্বের উদ্দেশ্যে কেঁদে উঠল। “আমায় ছেড়ে যেয়ো না!”

৩. পিরামাস এবং থিসবি (চতুর্থ খণ্ড)

মূল ভাব: এক ট্র্যাজিক প্রেমকাহিনি, যা পরবর্তীকালে শেক্সপিয়রের বিখ্যাত ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ নাটকটিকে অনুপ্রাণিত করেছিল।

ব্যাবিলন নগরীতে পিরামাস এবং থিসবি পাশাপাশি দুটি বাড়িতে বাস করত।

তাদের পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি,

কিন্তু দুই বাড়ির দেয়ালের একটি ফাটল তাদের ফিসফিস করে কথা বলার সুযোগ করে দিত।

তারা নিনাসের সমাধিস্থলে গোপনে দেখা করার সিদ্ধান্ত নিল।

থিসবি সেখানে আগে পৌঁছাল এবং একটি হিংস্র সিংহী দেখতে পেল…

ভয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তার ওড়নাটি মাটিতে পড়ে যায়। পরে পিরামাস সেখানে এসে ওড়নাটি রক্তে ভেজা দেখে ভাবল সিংহীটি থিসবিকে খেয়ে ফেলেছে; আর সেই শোকে সে নিজের বুকেই তলোয়ার চালিয়ে দিল।

৪. পিগম্যালিয়ন (দশম খণ্ড)

মূল ভাব: একজন ভাস্কর, যিনি নিজের হাতে তৈরি হাতির দাঁতের মূর্তির প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন।

পিগম্যালিয়ন হাতির দাঁত খোদাই করে এক নারীর মূর্তি তৈরি করেছিলেন,

যা পৃথিবীর যেকোনো জীবন্ত নারীর চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর ছিল।

তিনি নিজের সেই সৃষ্টির প্রেমেই মগ্ন হলেন।

তিনি মূর্তির জন্য উপহার আনতেন, তাকে পোশাক পরাতেন, তার ঠোঁটে চুম্বন আঁকতেন…

অবশেষে প্রেমের দেবী ভেনাস তাঁর প্রার্থনা শুনলেন। হাতির দাঁতের সেই মূর্তিটি ধীরে ধীরে উষ্ণ ও নরম হয়ে উঠল এবং তাঁর বাহুলগ্নে জীবন্ত হয়ে হাসল।

৫. অরফিউস এবং ইউরিডাইস (দশম খণ্ড)

মূল ভাব: পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সুরকার, যিনি তাঁর মৃত স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে পাতালপুরীতে প্রবেশ করেছিলেন।

অরফিউস এতই মধুর গান গাইতেন যে বনের গাছপালা আর পাথরও তাঁর সুরের টানে পেছনে পেছনে ছুটে আসত।

যখন তাঁর স্ত্রী ইউরিডাইস সাপের কামড়ে মারা গেল,

তখন তিনি সোজা পাতালপুরী বা হেডিসের রাজ্যে নেমে গেলেন এবং নিজের লাইয়ারের (বীণা) সুরে প্লুটো ও প্রোসারপিনাকে মুগ্ধ করলেন।

তাঁরা একটি শর্তে ইউরিডাইসকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলেন: মর্ত্যের আলোয় পৌঁছানোর আগে অরফিউস কোনোভাবেই পেছনের দিকে তাকাতে পারবেন না।

কিন্তু একদম শেষ সীমানার কাছে এসে, ব্যাকুল হয়ে তিনি যেই পেছনে তাকালেন… অমনি চিরতরে হারিয়ে গেলেন ইউরিডাইস।

৬. বাউসিস এবং ফিলেমন (অষ্টম খণ্ড)

মূল ভাব: এক ধার্মিক বৃদ্ধ দম্পতি, যাঁরা ছদ্মবেশী দেবতাদের অতিথি হিসেবে আপ্যায়ন করেছিলেন এবং পুরস্কার হিসেবে চিরকাল একসাথে থাকার অমরত্ব লাভ করেছিলেন।

দেবরাজ জুপিটার এবং মার্কারি মানুষের ছদ্মবেশে মর্ত্যে এসেছিলেন,

তাঁরা অনেকের দ্বারে অতিথির আশ্রয় চেয়েও ব্যর্থ হন,

কেবলমাত্র দরিদ্র ও বৃদ্ধ দম্পতি বাউসিস এবং ফিলেমন তাঁদের সাদরে বরণ করে নেয়।

তাঁরা দেবতাদের নিজেদের সাধ্যের মধ্যে সেরা খাবার ও পানীয় দিয়ে সেবা করেন।

পুরস্কার হিসেবে দেবতাদের আশীর্বাদে তাঁদের জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরটি একটি চমৎকার মন্দিরে পরিণত হয়,

এবং তাঁদের শেষ ইচ্ছাটুকু পূর্ণ হয়: তাঁরা যেন একই মুহূর্তে মৃত্যুবরণ করেন এবং দুটি জড়িয়ে থাকা গাছে রূপান্তরিত হন।

৭. ইকারুস এবং ডিডালাস (অষ্টম খণ্ড)

মূল ভাব: ইকারুসের সেই বিখ্যাত ও বেদনাদায়ক আকাশযান এবং পতনের গল্প।

বিজ্ঞ ডিডালাস পাখির পালক আর মোম দিয়ে ডানা তৈরি করেছিলেন

যাতে তিনি তাঁর পুত্র ইকারুসকে নিয়ে ক্রিট দ্বীপের বন্দিদশা থেকে পালাতে পারেন।

“সবসময় মাঝখানের পথ দিয়ে উড়বে,” তিনি পুত্রকে সতর্ক করে বলেছিলেন। “খুব নিচেও নয়, আবার খুব উঁচুতেও নয়।”

কিন্তু ওড়ার আনন্দে মেতে উঠে ইকারুস বাবার বারণ ভুলে সূর্যের খুব কাছাকাছি চলে গেল।

সূর্যের উত্তাপে ডানার মোম গলে গেল, পালকগুলো খসে পড়ল এবং সে সোজা সমুদ্রের বুকে আছড়ে পড়ল।

৮. ফেথন (দ্বিতীয় খণ্ড)

মূল ভাব: এক বেপরোয়া ছেলে, যে সূর্যের রথ চালাতে গিয়ে প্রায় গোটা পৃথিবীকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল।

সূর্যদেবের পুত্র ফেথন তাঁর বাবার কাছে বায়না ধরল যে সে একদিনের জন্য সূর্যের রথটি চালাবে।

নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়েও সূর্যদেব অবশেষে রাজি হলেন।

রথের ঘোড়াগুলো বুনো হয়ে ছুটে চলল, ফেথন সেগুলোকে কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারল না।

পৃথিবীর চারদিকে আগুন ধরে গেল, নদীগুলোর জল শুকিয়ে যেতে লাগল,

অবশেষে পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য দেবরাজ জুপিটার বাধ্য হয়ে বজ্রপাতে ফেথনকে রথ থেকে নিচে ফেলে দিলেন।

৯. সিক্স এবং অ্যালসিওনি (একাদশ খণ্ড)

মূল ভাব: এক নিষ্ঠাবান দম্পতি, যাঁরা একটি ভয়াবহ জাহাজডুবির পর দেবতাদের আশীর্বাদে কিংফিশার (মাছরাঙা) পাখিতে রূপান্তরিত হয়েছিলেন।

সিক্স এক দৈববাণীর সন্ধানে সমুদ্রযাত্রায় গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ হন।

অ্যালসিওনি তাঁর স্বামীর নিরাপদে ফিরে আসার জন্য দিনরাত প্রার্থনা করতে লাগলেন।

যখন তিনি স্বামীর মৃত্যুর খবর পেলেন, শোকে মূহ্যমান হয়ে তিনি সমুদ্রের তরঙ্গে ঝাঁপ দিলেন।

দেবতারা তাঁদের এই গভীর ভালোবাসা দেখে বিচলিত হলেন এবং তাঁদের দুজনকে একজোড়া মাছরাঙা পাখিতে রূপান্তর করলেন।

এখনো, প্রতি শীতকালে টানা সাতদিন সমুদ্র একদম শান্ত থাকে, যখন তাঁরা জলের ওপর বাসা বাঁধেন—যা আজও “হ্যালসিওন ডেস” (শান্তিময় দিন) নামে পরিচিত।

১০. সৃষ্টিতত্ত্ব এবং চার যুগ (প্রথম খণ্ড)

মূল ভাব: পৃথিবীর আদি লগ্ন এবং মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশ ও নৈতিক পতন।

সমুদ্র, স্থলভাগ আর আকাশ সৃষ্টির আগে,

চারিদিকে কেবল ‘ক্যাওস’ বা এক বিশৃঙ্খল আকৃতিহীন শূন্যতা বিরাজ করছিল।

তারপর একজন দেবতা (অথবা প্রকৃতি) সমস্ত উপাদানকে আলাদা করলেন।

প্রথমে এল ‘স্বর্ণযুগ’—শান্তি আর প্রাচুর্যের এক সময়,

যেখানে কোনো আইন ছিল না, ছিল না কোনো যুদ্ধ বা ভীতি।

এর পর একে একে এল রৌপ্য, ব্রোঞ্জ এবং লৌহ যুগ—

যার প্রতিটিই আগের চেয়ে আরও বেশি কলুষিত ছিল, যতক্ষণ না সমস্ত পাপ ও অন্যায় এই পৃথিবীকে গ্রাস করে নিল।

এই ১০টি গল্প ওভিদের মেধার শ্রেষ্ঠ পরিচয় বহন করে: তিনি একাধারে রসিক, আবেগপ্রবণ, দৃশ্যমানভাবে উজ্জ্বল এবং গভীরভাবে মানবিক। মেটামরফোসিস কেবল পৌরাণিক গল্পের সংকলন নয়—এটি মূলত পরিবর্তন, প্রেম, ক্ষমতা এবং মানুষের জীবনের এক গভীর অনুধাবন।

ওভিড (৪৩ খ্রিস্টপূর্ব – ১৭ খ্রিস্টাব্দ)
রোমান মহাকাব্যিক কবি – রূপান্তরের মহাকাব্য মেটামরফোসেসের রচয়িতা

পুবলিয়ুস ওভিডিয়াস নাসো (Publius Ovidius Naso), যিনি সাধারণভাবে ওভিড নামে পরিচিত, ছিলেন প্রাচীন রোমের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় কবি। তিনি প্রেম, পুরাণ, রূপান্তর এবং মানবিক আবেগ নিয়ে অসাধারণ কাব্য রচনা করেছেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা মেটামরফোসেস (Metamorphoses) — পুরাণের রূপান্তরের মহাকাব্য, যা পশ্চিমা সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতিতে অপরিসীম প্রভাব ফেলেছে।

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন

ওভিড জন্মগ্রহণ করেন খ্রিস্টপূর্ব ৪৩ সালের ২০ মার্চ ইতালির সুলমো (Sulmo) শহরে, যা বর্তমানে সুলমোনা নামে পরিচিত। তিনি এক সম্ভ্রান্ত অশ্বারোহী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা চেয়েছিলেন তিনি রাজনীতি ও আইনজীবী হোন, কিন্তু ওভিড শৈশব থেকেই কবিতার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন।

তিনি রোমে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এবং পরে এথেন্স ও সিসিলিতে ভ্রমণ করেন। তরুণ বয়সেই তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন।

প্রথম রচনা ও খ্যাতি

ওভিডের প্রথম বড় রচনা অ্যামোরেস (Amores) — প্রেমের কবিতার সংকলন। এরপর তিনি হেরোইডেস (Heroides) রচনা করেন, যেখানে পুরাণের বিখ্যাত নারীরা তাদের প্রেমিকদের কাছে চিঠি লেখেন।

তাঁর সবচেয়ে বিতর্কিত ও জনপ্রিয় রচনা ছিল আর্স আমাতোরিয়া (Ars Amatoria) — প্রেমের শিল্পকলা। এই বইটি প্রেম, প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্ক এবং প্রেমের কৌশল নিয়ে লেখা। এটি রোমান সমাজে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়, কিন্তু পরবর্তীকালে তাঁর নির্বাসনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মেটামরফোসেস — রূপান্তরের মহাকাব্য

ওভিডের সবচেয়ে বড় ও অমর রচনা মেটামরফোসেস (Metamorphoses)। এটি ১৫টি বইয়ের একটি মহাকাব্য, যেখানে তিনি পুরাণের বিভিন্ন কাহিনী সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন — সৃষ্টির শুরু থেকে জুলিয়াস সিজারের দেবত্ব লাভ পর্যন্ত।

এই মহাকাব্যের মূল থিম হলো রূপান্তর (Metamorphosis) — মানুষ, দেবতা ও প্রকৃতির বিভিন্ন রূপ পরিবর্তনের কাহিনী। এতে রয়েছে বিখ্যাত কাহিনী যেমন:

  • ডাফনে ও অ্যাপোলো
  • নার্সিসাস
  • পিগম্যালিয়ন
  • ইকারাস
  • ফাইলেমন ও বাউসিস

মেটামরফোসেস শুধু পুরাণের সংকলন নয়, বরং এটি মানব প্রকৃতি, ভালোবাসা, ক্ষমতা, হিংসা ও রূপান্তরের গভীর দার্শনিক অনুসন্ধান।

নির্বাসন ও শেষ জীবন

খ্রিস্টপূর্ব ৮ সালে সম্রাট অগাস্টাস হঠাৎ করে ওভিডকে টমিস (Tomis) — কৃষ্ণ সাগরের তীরে এক প্রত্যন্ত শহরে (বর্তমান রোমানিয়ায়) নির্বাসিত করেন। অগাস্টাসের কারণ ছিল “কারমেন এট এরর” — একটি কবিতা এবং একটি ভুল।

বেশিরভাগ পণ্ডিত মনে করেন, আর্স আমাতোরিয়া বইটি এবং অগাস্টাসের পরিবারের কোনো কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়া (সম্ভবত তার নাতনি জুলিয়ার সঙ্গে) এই নির্বাসনের কারণ।

নির্বাসিত অবস্থায় ওভিড ট্রিস্টিয়া (Tristia) এবং এপিস্টুলি এক্স পন্টো (Epistulae ex Ponto) নামে দুটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন, যেখানে তিনি নির্বাসনের যন্ত্রণা, একাকীত্ব ও রোমের প্রতি আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

ওভিড খ্রিস্টাব্দ ১৭ সালে নির্বাসিত অবস্থায় টমিসে মারা যান। তিনি কখনো রোমে ফিরতে পারেননি।

তাঁর মেটামরফোসেস পরবর্তীকালে ইউরোপীয় সাহিত্য, শিল্প, সংগীত ও নাটকে অপরিসীম প্রভাব ফেলেছে। দান্তে, শেক্সপিয়ার, মিল্টন, টি. এস. এলিয়টসহ অসংখ্য লেখক ও শিল্পী তাঁর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন।

ওভিড ছিলেন রোমান সাহিত্যের সবচেয়ে আধুনিক ও সৃজনশীল কবিদের একজন। তিনি পুরাণকে শুধু বর্ণনা করেননি, বরং তাকে মানবিক আবেগ, রূপান্তর ও সৌন্দর্যের মাধ্যমে নতুন করে জীবন্ত করে তুলেছেন। তাঁর কবিতা আজও পাঠককে মনে করিয়ে দেয় — জীবন ও প্রকৃতি সবসময় পরিবর্তনশীল, আর সেই পরিবর্তনের মধ্যেই সৌন্দর্য ও অর্থ নিহিত।

“ওভিড ছিলেন সেই কবি, যিনি পুরাণের রূপান্তরকে মানব হৃদয়ের চিরন্তন সত্যে পরিণত করেছিলেন।”

Comment